জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অ্যাকশন!

অভিনয় করাটা ঠিক বাচ্চাদের খেলা নয়। সর্বসাধারণের ধারণা হল দেখতে ভাল হলে, আর একটু আকটু নাচতে জানলেই নায়ক হওয়া যায়। কিন্তু, নায়ক হওয়াটা এর চেয়েও অনেক বিরাট ব্যাপার। এখানে কখনো আপনাকে ওজন কমাতে হবে, কখনো বা বাড়াতে হবে। নির্ভর করবে চরিত্রের ওপর।

কঠিন সব দৃশ্য করতে হয় সিনেমায়। অ্যাকশনে ছাড় দেওয়া যাবে না বিন্দুমাত্র। খুঁতখুতে অভিনেতারা কখনো জটিল সব অ্যাকশনের দৃশ্যেও স্টান্ট ব্যবহার করেন না। আর সেটা করতে গিয়ে অনেকবারই তাদের ফিরতে হয়েছে মৃত্যুর দুয়ার থেকে। এমনই কিছু নজীর নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন।

  • অমিতাভ বচ্চন

‘কুলি’ ছবির অ্যাকশন দৃশ্যে অমিতাভ বচ্চন এতটাই আহত হয়েছিলেন যে, তাঁকে রীতিমত কোমায় চলে যেতে হয়েছিল। পুরো ভারতবর্ষ দিন-রাত তাঁর জন্য প্রার্থনা করে গেছে। শ্যুটিং চলছিল ব্যঙ্গালোরে। দৃশ্যটি ধরতে ভুল করেছিলেন ‘বিগ বি’। ভুল সময়ে ভুল জায়গায় ঝাঁপ দেন। ফলে, সেই অবস্থা থেকে কয়েকদফা সার্জারি করা হয় তার। লম্বা সময় কাটাতে হয় বিছানায় শুয়ে।

  • আমির খান

‘গুলাম’ ছবিতে আমিরের চরিত্রটির তীব্র বেগে ছুটি আসা একটা ট্রেনের দিকে দৌড়াতে হয়েছিল। দৃশ্যটি আমির নিজেই করেন। ‘পারফেকশনিস্ট’ খ্যাত এই অভিনেতা কোনো স্টান্টম্যান নেননি। পরে যখন এডিটিং রুমে দৃশ্যটা দেখেন নিজেই শিউরে ওঠেন। মাত্র কয়েক সেকেন্ট এদিক সেদিক হলেই ঘটতে পারতো বড় দুর্ঘটনা।

  • হৃতিক রোশন

‘দ্য গ্রিক গড’ খ্যাত হৃতিক তাঁর অ্যাকশনের জন্য বিখ্যাত। তিনিও নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছেন। ‘কৃষ’ ছবিতে হৃতিকের ওড়ার দৃশ্য শ্যুট করা হচ্ছিল। একটা সিকোয়েন্স এমন ছিল যে, হৃতিকের শরীরে লাগাম পরানো আছে। এই অবস্থায় তাকে ঝাঁপ দিতে হবে। কি করে যেন শেষ মুহূর্তে লাগাম খুলে যায়, হৃতিক কোনোক্রমে নিজের পড়ে যাওয়া আটকান। তবে, তিনি মারাত্মক আহত হন। কয়েকটা অস্ত্রোপচারও লাগে। যদিও, সেখান থেকে ফিরে ফিনল্যান্ডে ওয়ার ছবির শ্যুটিং চলাকালে টাইগার শ্রফের সাথে আবারো ঝুঁকিপূর্ণ সব অ্যাকশন দৃশ্যে কাজ করেছেন।

  • অজয় দেবগন

১৯৯১ সালের ‘ফুল অওর কাঁটে’-তে দুই পা দুই মোটরবাইকে রেখে যেভাবে বলিউডের পর্দায় প্রথমবারের মত হাজির হন অজয় দেবগন, সেটা করতেই অনেক সাহস দরকার হয়। সেটা হওয়ারই কথা ছিল অবশ্য, কারন অজয় যে বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অ্যাকশন পরিচালক বীরু দেবগনের ছেলে। এই সময়ে রোহিত শেঠির সাথে মিলে অ্যাকশন-কমেডিকে তিনি অন্য এক মাত্রায় নিয়ে গেছেন। আর সেটা করতে গিয়ে নিজেকে ঝুঁকিতে ফেলেন তিনি। বলকান পাহাড়ে দুই বাইকের ওপর পা রেখে শ্যুটিং করতে গিয়ে অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন তিনি।

  • অক্ষয় কুমার

বলিউডের খিলাড়ি কুমার বরাবরই নিজের স্টান্ট নিজেই করেন। যত ঝুকিপূর্ণ দৃশ্যই হোক না কেন, তরুণ জীবন থেকে শুরু করে আজ বয়স ৫০ পেরিয়ে যাওয়ার পরও নিজের অবস্থান পাল্টাননি অক্ষয়। ‘সুরিয়াভানশি’ ছবির শ্যুটিং চলাকালে দেখা যায়, অক্ষং হেলিকপ্টারে ঝুলছেন, আর পরিচালক রোহিত শেঠি মোটরবাইকে করে এগোতে এগোতে নির্দেশনা দিচ্ছেন অক্ষয়কে। এমন নির্বিকার চিত্তে অ্যকশন দৃশ্যে কাজ সম্ভবত কেবল অক্ষয়ই করতে পারেন। হেলিকপ্টার ধরে ঝোলার কাজটা অক্ষয় আগেও কয়েকবার করেছেন।

 – মেনএক্সপি অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।