সেকেন্ড লিডে অনীহা তাঁদের

চাঁদে প্রথম কে পা রাখেন? উত্তরটা সবারই জানা – নিল আমস্ট্রং। কিন্তু চাঁদে পা রাখা দ্বিতীয় ব্যক্তি কে? – এটা চট করে সবার হয়তো মনে পড়বে না, গুগলের আশ্রয় নিতে হবে। পেশাদার জীবনটাও তেমনই। এখানে দ্বিতীয় হওয়াদের নামগুলো চট করে মানুষ মনে করতে পারে না। কথাগুলো বলিউডের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এখানে সবাই ‘প্রথম’ হতে যায়। তারকাদের জীবন কোনো দৌঁড় প্রতিযোগীতার চেয়ে কম কিছু নয়।

প্রত্যেকেই চায় সেরা সিনেমার সবচেয়ে সেরা চরিত্রটি পেতে। এ কারণেই অনেক ভাল স্ক্রিপ্ট হওয়ার পর চরিত্রটি কেন্দ্রীয় চরিত্রের থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় অনেক তারকাই সিনেমা ছেড়ে গেছেন। তেমনই কিছু নজীর নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন।

  • রণবীর কাপুর (গালি বয়)

নির্মাতা জয়া আখতারের প্রাথমিক পরিকল্পনায় রনবীর সিংয়ের সাথে রণবীর কাপুরও ছিলেন। তবে, চরিত্র পছন্দ না হওয়ায় তিনি প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। চরিত্রটি করেছেন সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী।

  • ফারহান আখতার (গোল্ড)

গোল্ড সিনেমায় ভারতীয় দলের হতকি অধিনায়কের চরিত্রে থাকার কথা ছিল ফারহান আখতারের। তবে, রিমা কাগতির ছবি অক্ষয়ের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ ছবিতে কাজ করতে নারাজ ছিলেন ফারহান আখতার। পরে চরিত্রটি করেন কুনাল কাপুর।

  • জুহি চাওলা ও কাজল (দিল তো পাগল হ্যায়)

ছবিতে শাহরুখের বিপরীতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন মাধুরী দিক্ষিত। দ্বিতীয় নায়িকা ছিলেন কারিশমা কাপুর। তবে, তিনি পরিচালকের প্রথম পছন্দ ছিল না। পরিচালক প্রথমে জুহি চাওলা ও পরে কাজলকে চেয়েছিলেন। দু’জনের কেউই মাধুরীর সাথে প্রতিযোগীতায় নামতে চাননি। পরে কারিশমা সেই প্রস্তাব লুফে নেন। ছবিটির জন্য কারিশমা ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কারও পান।

  • ক্যাটরিনা কাইফ (বারফি)

সিনেমাটি প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার ক্যারিয়ারের সেরা ছবিগুলোর একটি। এই ছবির দ্বিতীয় নারী চরিত্রের জন্য প্রথমে বিবেচনা করা হয়েছিল ক্যাটরিনা কাইফকে। তবে তিনি প্রস্তাব নাকোচ করে দিলে বলিউডে অভিষেক হয়ে যায় ইলিয়েনা ডি’ক্রজের।

  • সালমান খান (কাল হো না হো)

কালজয়ী এই ছবিতে সালমান-শাহরুখের জুটি বাঁধার কথা ছিল। কিন্তু, সালমান কম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র করতে রাজি হননি। চরিত্রটি পান সাইফ আলী খান।

  • সাইফ আলী খান (কুছ কুছ হোতা হ্যায়)

ছবিতে সালমান খানের চরিত্রটির জন্য প্রথমে প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাইফ। তবে, তিনি প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।

  • শাহরুখ খান (পদ্মাবত ও রাঙ দে বাসন্তী)

‘পদ্মাবত’ ছবিতে শহীদ কাপুরের চরিত্রটির জন্য প্রথমে শাহরুখ খানকে প্রস্তাব করেছিলেন সঞ্জয় লিলা বানসালি। তবে, শাহরুখ এতটাই অনীহা প্রকাশ করেছিলেন যে, নিজের পারিশ্রমিক পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাই, শাহরুখকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সেরা এই পিরিয়ডিক্যাল সিনেমায় দেখা যায়নি।

আমির খানের সাথে ‘রঙ দে বাসন্তী’ ছবিতে জুটি বাঁধারও সুযোগ ছিল কিং খানের। তবে, চরিত্রটি খুব ছোট হওয়ায় নির্মাতা রাকেশ ওম প্রকাশ মেহরাকে ‘না’ বলে দেন তিনি। পরে বিমান কর্মকর্তার চরিত্রটি করেন মাধবন।

  • বিদ্যা বালান (শ্যুট আউট অ্যাট ওয়াদালা)

মানিয়া সুরভে’র প্রেমিকার চরিত্রটি করার জন্য প্রস্তাব পেয়েছিলেন বিদ্যা। তবে, তিনি স্ক্রিপ্ট পড়েই বুঝেছিলেন এটা পুরুষচরিত্রকেন্দ্রীক একটা ছবি হতে যাচ্ছে। তাই ‘না’ বলে দেন। চরিত্রটি করেন কঙ্গনা রনৌত।

দেশিমার্টিনি অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।