আহমেদ ‘অনন্ত আক্ষেপ’ রুবেল

বলিষ্ট কণ্ঠের অধিকারী হয়ে বাংলাদেশে যে কয়েকজন অভিনেতা বিশেষ দ্যূতি ছড়িয়েছেন তিনি তাঁদের মধ্যে একজন। শুধু কণ্ঠের জন্যই নয়, অভিনেতা হিসেবেও তিনি অসাধারণ সেটা নির্দ্ধিয়ায় সবাই মেনে নেন। বরং দর্শকেরা তাঁকে নিয়ে আফসোস করেন একজন আন্ডারেটেড অভিনেতা হিসেবে। কারণ উনি প্রতিভার তুলনায় সুযোগ কম পেয়েছেন।

শুরুটা মঞ্চ, এরপর চলচ্চিত্রে খল নায়ক অত:পর আবার টিভি নাটকে এসে নিজেকে প্রমান করা সবটাই নিপুণ ভাবে করছিলেন। জনপ্রিয়তার নিরিখে যেমন সব অভিনেতাকে মাপা হয় না, শুধুমাত্র অভিনয়ের মাপকাঠিতে দর্শকদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেন তিনি তাদের একজন। বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে সেরা ফেলুদা তাকে ভাবা হত, সাম্প্রতিক কালে ফেলুদা হয়েছিলেনও।

তবে, সেটা নানা সীমাবদ্ধতার কারণে আলো ছড়াতে পারেনি, ইতিহাসের পাতায় বাংলাদেশের একমাত্র ফেলুদা তিনি। মুক্তির সংগ্রাম, কে অপরাধী চলচ্চিত্রে খল নায়ক হিসেবে দারুণ আশার আলো দেখেছিলেন। কিন্তু বিধিবাম, অশ্লীলতা জেঁকে বসলে বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে অভিনয়কে বিদায় জানান। নাটক আর ভিন্নধারার সিনেমায় যখন নিজেকে আরো প্রমান করছিলেন তখনই বিভিন্ন কারণে দূরে সরে যেতে থাকেন। তবে এখন আবার তাঁকে মাঝেমধ্যে দেখা যায় অভিনয়ে তবে সেটা একেবারেই স্বল্প।

তাঁর ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য কাজের কথা না বললেই নয়।

  • নাটক

পুষ্পকথা

হুমায়ূন আহমেদ নিজের লেখা ‘পোকা’ অবলম্বনে নাট্যরুপ দেন ‘পুষ্পকথা’ নামে। এই নাটকে ঘোড়া মজিদ চরিত্রে অভিনয় করে টিভি দর্শকদের কাছে বিশেষ ভাবে পরিচিতি পান। মূলত এই নাটক দিয়েই হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে উনার কাজ করার সূচনা হয়।

প্রত্যাবর্তন

মুস্তফা সরয়ার ফারুকীর নির্দেশনায় আলোচিত নাটক ‘প্রত্যাবর্তন’, একুশে টিভিতে প্রচারের পর বেশ প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয় একাধিক শাখায়। প্রাক্তন স্ত্রী তারানা হালিমের বিপরীতে তিনি অভিনয় করে সমাদৃত হয়েছিলেন।

প্রেত

আহমেদ রুবেলের অভিনয় জীবনের সেরা কাজ হিসেবে বিবেচিত ধারাবাহিক নাটক ‘প্রেত’। মুহম্মদ জাফর ইকবালের রচনায় এই নাটকের উপজীব্য বিষয় ব্ল্যাক ম্যাজিক। গল্পের মূল চরিত্র তিনিই, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক সাধারণ ছাত্রের জীবনে বিভীষিকা নেমে আসে এই ব্ল্যাক ম্যাজিকের কারণে। হুমায়ুন ফরিদীর মত শক্তিশালী অভিনেতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেন। পরিচালক ছিলেন অকালপ্রয়াত নির্মাতা আহির আলম।

বৃক্ষমানব

হুমায়ূন আহমেদের বিশেষ নাটক ‘বৃক্ষমানব’, ফারুক আহমেদের একটি সংলাপের কারণে এই নাটক এখন আলোচিত হলেও মূল ভূমিকায় ছিলেন আহমেদ রুবেল। এই নাটকে তিনি গাছেদের কথা শুনতে পারেন তাই সবার গোপন রহস্য তিনি জেনে নিতে পারেন। দারুণ করেছিলেন। হুমায়ূন আহমেদের খোয়াবনগর, সবাই গেছে বনে, যমুনার জল দেখতে কালোতেও ছিল স্বপ্রতিভ উপস্থিতি।

উল্টোধারা

বাংলা নাটকে এধরণের গল্প ছিল একেবারেই ব্যতিক্রম। আহমেদ রুবেল একজন বয়স্ক মানুষ, কিন্তু এক রহস্যময়তার জন্য বয়স ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে,নাতিদের বয়সী হয়ে যান। ভিন্নধর্মী এই গল্পে তিনি দারুণ করেছিলেন,নাজমা আনোয়ার ছিলেন তার স্ত্রী। তবে এই নাটকের রচয়িতা ও নির্মাতার নাম মনে পড়ছে না, বিটিভিতে দিয়েছিল।

রঙের মানুষ

মাসুম রেজার রচনায় সালাউদ্দিন লাভলুর অত্যন্ত জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘রঙের মানুষ’। এই ধারাবাহিকে তিনি শহরালী চরিত্রে অভিনয় ব্যাপক সমাদৃত হন।

৬৯

মুস্তফা সরয়ার ফারুকীর ধারাবাহিক নাটক ‘৬৯’-এ পরিবারের ছোট ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। যিনি অতি শুচিবাইগ্রস্ত ছিলেন, তার তিন বোনের চরিত্রে ছিল জয়া আহসান, তিন্নী ও তিশা। বিপরীতে ছিল শ্রাবন্তী।

বিশ্বাস

বিবিসির প্রযোজনায় রহস্য রোমাঞ্চধর্মী বিশেষ ধারাবাহিক নাটক ‘বিশ্বাস’। এই গল্পে তিনি ছিলেন খল চরিত্রে। পরিবারের অভিশপ্ত ছেলে মনে করে তাকে বের করে দেয়া হয়, এক সময় সেইই হয়ে উঠে প্রতিশোধকামী, আশ্রয় নেন ব্ল্যাক ম্যাজিকের। বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

  • চলচ্চিত্র

চন্দ্রকথা

বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করলেও হুমায়ূন আহমেদের এই সিনেমাই এখন পর্যন্ত সেরা সিনেমা। ক্ষয়িঞ্চু জমিদারের ভৃত্যের চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করে সবাইকে ছাপিয়ে গিয়েছিলেন। জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্য ছিলেন কিন্তু পাওয়া হয়নি। অবশ্য মেরিল প্রথম আলোয় সমালোচক শাখায় পুরস্কার পেয়েছিলেন।

ব্যাচেলর

কয়েকজন অবিবাহিত পুরুষদের গল্প নিয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী’র জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘ব্যাচেলর’। এই ছবিতেও তিনি আছেন চিরকুমার সংঘের তালিকায় তবে ভালোবাসে সাথীকে। এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য আলোচিত হয়েছিলেন।

গেরিলা

নাসিরউদ্দিন ইউসুফের মুক্তিযুদ্ধের ছবি ‘গেরিলা’-তে উপস্থিতি স্বল্প সময়ের জন্যই, তবে এইটুকুতেই সমুজ্জ্বল। কারণ তিনি ছিলেন শহীদ বুদ্ধিজীবী আলতাফ মাহমুদের চরিত্রে,ব লিষ্ট অভিনয়ে তিনি এই চরিত্রে বেশ মানিয়ে নিয়েছিলেন।

কলকাতায় ব্রাত্য বসুর পরিচালনায় ‘পারাপার’ ছবিতে অভিনয় করেছেন বিপরীতে ছিলেন ঋতুপর্ণা ও পাওলি দাম। এর বাদে শ্যামল ছায়া, দ্য লাস্ট ঠাকুর, পৌষ মাসের পিরিতি ইত্যাদির কথাও বলা যেতে পারে।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।