ডানপিটে ডিভা কিংবা ডানাকাটা পরী

তিনি হলেন এমন একজন ডিভা যার উপস্থিতি আপনি টের না পেয়ে থাকতে পারবেন না। কলকাতার রাস্তায় হাঁটবেন, আর তিনি আপনার চোখ এড়িয়ে যাবেন – সেটা হতেই পারে না। বিলবোর্ডে তাঁর নীল চোখগুলো যেন আপনাকেই খুঁজে বেড়াবে। আর আপনিও সেই চোখের রঙে, আবেদনের সাগরে ভাসতে বাধ্য।

এটুকু পড়েই বুঝে ফেলার কথা কার ব্যাপারে বলা হচ্ছে। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। তিনি হলেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। কলকাতার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এক মুঠো স্বস্তির বাতাস। বাংলা ছবির সবচেয়ে ডানপিটে নায়িকা তিনি।

স্বস্তিকা পুরোদস্তর ফিল্মি পরিবারের মেয়ে। ১৯৮০ সালের ১৩ ডিসেম্বর জন্ম হয় কলকাতাতেই। ডাক নাম ‘ভেবলি’। নামটা দিয়েছিলেন বাবা শান্তু মুখোপাধ্যায়, কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা।

শৈশব-কৈশোরটা পড়াশোনায় কাটিয়েছেন স্বস্তিকা। কলকাতার ক্যারমেল স্কুল, সেন্ট তেরেসা সেকেন্ডারি স্কুল, গোখালে মেমোরিয়াল স্কুলে শৃঙ্খলার বেড়াজালের মাঝেও নিজেকে স্বাধীনচেতা হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছিলেন স্বস্তিকা।

জাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ইতিহাস নিয়ে পড়ছিলেন, তখনই ‘দেবদাসী’ টিভি সিরিয়াল দিয়ে পর্দায় প্রথম আসেন তিনি। এরপর করেন ‘আকাশের নিচে’ ও ‘প্রতিবিম্ব’। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

উর্মি চক্রবর্তীর পরিচালনায় ২০০৩ সালে ‘হেমন্তের পাখি’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। সেটা ছিল আর্ট ফিল্ম ঘরানার ছবি। এরপর জিতের সাথে করেন ‘মাস্তান’। সেটাই তাকে সোনালী দিন এনে দেয়।

তখন থেকেই তিনি নিয়মিত মুখ, মূল ধারা কিংবা বিকল্প ধারা – সব জায়গাতেই তিনি দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সমান তালে। ২০১২ সালে ‘ভুতের ভবিষ্যৎ’ ছবিতে কদলীবালার চরিত্রটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম এক মাইলফলক।

স্বস্তিকার খুব অল্প বয়সে বিয়ে হয়। ১৯৯৮ সালে যখন গায় প্রমিত সেনকে বিয়ে করেন, তখন বয়স ছিল মাত্র ১৮। প্রমিত হলেন বিখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সাগর সেনের ছেলে। যদিও, সেই বিয়ে মাত্র দুই বছর টিকে। সেই ঘরে এক মেয়ে আছে। মেয়েকেও নিজের মত স্বাধীনচেতা করে গড়ে তুলেছেন স্বস্তিকা।

যদিও, জীবনটা তার কাটাতারে ভরা। ঠিক যেন বলিউডের কিংবদন্তি মধুবালার মত। জীবনে প্রেম এসেছে বহুবার। কিন্তু, শান্তি আসেনি। টালিগঞ্জের প্রধান তিন নায়ক দেব, জিত ও পরমব্রত – সবার সাথেই সম্পর্কে জড়িয়েছেন নানা সময়, টেকেনি। নির্মাতা ও থিয়েটার ব্যক্তিত্ব সুমন মুখোপাধ্যায়ও এসেছিলেন তাঁর পথে – স্থানীয় হতে পারেননি।

চলতি পথে প্রায়ই বাঁধাগ্রস্থ হন। সোশ্যাল মিডিয়াতে উগ্র ভক্তরা জ্বালাতন করেন, স্বস্তিকা কড়া ভাষায় সেসবের জবাব দেন। কোনো সমালোচনাই তাঁকে আটকাতে পারে না।

যদিও, শোনা যায় ২০১৪ সালের মে মাসে তিনি নাকি একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। প্রেমঘটিত ব্যাপার বলে লোকে সন্দেহ করে। একই বছর নভেম্বরে, সিঙ্গাপুরে গিয়ে নামী শপিং মলের গয়নার দোকান থেকে সোনার কানের দূল চুরি করেন। সিসি টিভির ফুটেজে সেটা ধরা পরে। তার যশের তুলনায় সেটার দাম ছিল সামান্যই – ১২ কি ১৩ হাজার ভারতীয় রুপি। বোঝাই যাচ্ছে, মানসিক ভাবেও খুবই বিপর্যস্ত দিন কাটাচ্ছিলেন।

সেই সময়টা কাটিয়ে ২০১৫ সালেই বলিউডের ছবি ‘ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী’-তে ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি। এভাবেই তিনি পারফরম্যান্স দিয়েই অতীতের সব গ্লানি মুছে দিতে জানেন।

– টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।