অভিষেক-ঐশ্বরিয়া: ভালোবাসার রঙে রাঙানো ভূবন

তাঁরা কেউই কারো প্রথম প্রেম নয়।

ঐশ্বরিয়া রায়ের জীবনে এর আগে সালমান খান কিংবা বিবেক ওবেরয়রা এসেছেন। সালমান খান প্রকাশ্যেই ঐশ্বরিয়ার সাথে সময় কাটাতেন, হুট করে সেটে হাজির হতেন। দু’জনের ছাড়াছাড়িও হয়েছিল খুব বাজে ভাবে।

বিবেক যখন ঐশ্বরিয়ার জীবনে, সেখানেও পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সালমান। এমনকি অবস্থা এতটাই চরম রূপ নিয়েছিল যে, বিবেক রীতিমত সংবাদ সম্মেলন ডেকে সালমানকে দোষারোপ করেছিলেন।

আর অভিষেকের সাথে কারিশমা কাপুরের সম্পর্ক তো বলিউডের ইতিহাসেরই অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায় ছিল। কাপুর ও বচ্চন পরিবার পারিবারিক সম্পর্ক গড়তে যাচ্ছেন, সংবাদ মাধ্যম সরব ছিল। বাগদানও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু, এরপর হুট করেই বিয়ে বাতিল করা হয়।

এরপর থেকে অভিষেক ‘সিঙ্গেল’ই ছিলেন।

প্রীতি জিনতা বা রানী মুখার্জী – অনেকের সাথেই তাঁর প্রেমের গুঞ্জন শোনা গেলেও কোনোটারই কোনোরকম সত্যতা কখনো কেউ পায়নি। বরং, একটা সময় তাঁর মনের দুনিয়ায় আসেন ঐশ্বরিয়া।

২০০৩ সালের ছবি ‘কুছ না কাহো’র সেটে সাবেক বিশ্ব সুন্দরীর প্রতি আকর্ষণ বোধ করেন অভিষেক। যদিও, সেটাই তাঁর প্রথম ছবি নয়। ২০০০ সালে এক সাথে তাঁরা ‘ধাই আকসার প্রেম কি’ ছবি করেছিলেন। যদিও, সেই ১৯৯৭ সাল থেকেই দু’জনের পরিচয় আছে। ১৯৯৭ সালে বলিউডে অ্যাশের প্রথম ছবি ‘অওর প্যায়ার হো গায়া’ ছবির সেটেও এসেছিলেন অভিষেক।

বন্ধুত্ব থেকেই সম্পর্কটা প্রেমে রূপ নেয়।

‘উমরাও জান’ ছবির শ্যুটিং চলাকালে মেক-আপ রুমে তাদের অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখে ফেলেছিলেন স্বয়ং শাবানা আজমী। ব্যস, তখনই কিছু আর বুঝতে বাকি রইলো না। ডুবে ডুবে অনেকটা জলই খেয়ে ফেলেছিলেন দু’জন।

‘গুরু’ সিনেমা করতে গিয়ে তারা বুঝে ফেলেন, একে-অপরকে ছাড়া তাঁদের চলবে না। অভিষেক একবার বলেছিলেন, নিউ ইয়র্কে শ্যুটিং করতে গিয়ে ব্যালকনিতে দাড়িয়ে নিজের মনে মনে আওড়াতেন, ‘এই সময় ও সাথে থাকলে ভাল হত, বিবাহিত অবস্থায়!’

পরে নিউ ইয়র্কে গুরুর প্রিমিয়ার হয় ২০০৬ সালে। সেখানে গিয়ে সেই ব্যালকনিতেই তিনি নিয়ে যান ঐশ্বরিয়াকে। বলেন, ‘ইউল উই ম্যারি মি?’ ব্যাস, অ্যাশ হ্যা বলে দেন।

সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এরপরের বছর মানে ২০০৭ সালের ২০ বিয়ের পিঁড়িতে বসেন এই দুই মহারথী। ঐশ্বরিয়া রায় হয়ে যান ঐশ্বরিয়া রায় বচ্চন। নিজেদের বাড়িতে অনেক গোপনীয়তার মধ্যেই বিয়ের সকল কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করে বচ্চন পরিবার। যদিও, সেই বিয়ে নিয়ে বলিউডের আগ্রহের কোনো কমতি ছিল না।

এই দম্পতির একমাত্র কন্যার নাম আরাধ্য বচ্চন। বিয়ের পর দু’জনের ক্যারিয়ারেই অনেক উত্থান-পতন হয়েছে। যদিও, দু’জনের পারিবারিক কলহের খবর বাইরে খুব সামান্যই আসে!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।