অথচ কমনওয়েলথ গেমসে বাকীর থাকারই কথা ছিল না!

কমনওয়েলথ গেমসের শ্যুটিংয়ে বাংলাদেশের সাফল্য নতুন কোনো ব্যাপার নয়। ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত অকল্যান্ড কমনওয়েলথ গেমসে এয়ার পিস্তল থেকে বাংলাদেশকে প্রথমবারের মত স্বর্ণ পদক এনে দিয়েছিলেন আতিকুর রহমান ও আবদুস সাত্তার নিনি। এয়ার পিস্তল থেকে স্বর্ণ পদক জিতেছিলেন তারা। এটিই এই গেমসে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম পদক।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে অনুষ্ঠিত গেমসে এয়ার রাইফেল ইভেন্ট থেকে লাল সবুজদের শিবিরে স্বর্ণপদক এনে দেন আসিফ হোসেন। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত গেমসে বাংলাদেশ দলগত ভাবে রৌপ্য এবং ২০১০ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত গেমসে দলগত ব্রোঞ্জ পদক জয় করে।

সর্বশেষ ২০১৪ সালে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো নগরীতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসে এই শ্যূটিং থেকেই বাংলাদেশকে রৌপ্য পদক এনে দেন আবদুল্লাহ হেল বাকী। মাত্র ০.৪ পয়েন্ট বেশি করতে পারলে স্বর্ণ পদকই হাতে সোভা পেত বাকীর। তবে তাকে হতাশ করে ২৪৫.০ স্কোর করে স্বর্ণ জয় করেন স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার ড্যান স্যাম্পসন। আর বাকীর স্কোর ২৪৪.৭।

বাকী আফসোস করতেই পারেন। কারণ তিনি ভারতীয় শ্যুটার অভিনব বিন্দ্রার আগের স্কোরকে ছাড়িয়ে গেছেন। তবে, অতিমানবীয় ছিলেন ড্যান স্যাম্পসন, কারণ তিনি এই কমনওয়েলথের ইতিহাসের রেকর্ড স্কোর গড়েছেন।

তবে যতটুকু করতে পেরেছেন সেটাই বা কম কি। এই আসরে তো আর অংশ নেওয়ারই কথা না। জ্বি, ভুল শুনছেন না। তাঁকে আদৌ অস্ট্রেলিয়ার গোলগোস্টে পাঠানো হবে কি না, সেটা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দে ছিল কর্তৃপক্ষ। বাকীকে কেন্দ্র করে বাতাসে নানারকম গুজব ছিল। বাকী সব সহ্য করেছেন, মনে মনে আরো বেশি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়েছেন।

কোনো ক্রমে, বলা ভাল স্রেফ ভাগ্যগুনে তিনি শ্যুটিং দলে জায়গা পান। মনোকষ্ট নিয়ে যান। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে আদৌ তাঁকে রাখা হবে কি না, সেটারও কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। শেষমেশ জায়গা পেলেন, এরপর যা হল সেটা স্রেফ ইতিহাস। টানা দুই কমনওয়েলথ গেমসে রূপা জয় তো আর মুখের কথা নয়। স্রেফ ভাগ্যের জোর বা প্রতিভা দিয়ে এটা হয় না। এর জন্য চাই পরিশ্রম, অনেক প্রতিভা না থাকার পরও যেটা নিয়মিতই করে যাচ্ছেন বাকী। তাই তো, তাঁর হাতে এখন নগদ রূপা।

সোনা জিততে পারতেন, সামান্য পার্থক্যের কারণে হয়নি। তারপরও প্রশংসা কুড়াচ্ছেন। খোদ অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিকরা মুগ্ধ হয়ে বলছেন, কি করে একজনের পক্ষে এত মনোযোগ ধরে রাখা সম্ভব! বাকীর ক্যারিয়ার কোথায় গিয়ে থামবে সেটা কেউ বলতে পারে না, তবে নি:সন্দেহে বলা যায় তাঁর এই সাফল্য বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শ্যুটারদের জন্য প্রেরণা হয়ে থাকবে!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।