আমির খান মানেই অবারিত সাফল্য নয়!

বলিউডে যদি জরিপ করা হয়, তবে সম্ভবত তিনিই সবচেয়ে বড় তারকা বলে বিবেচিত হবেন। হ্যা, সেটা শাহরুখ খান কিংবা সালমান খানের উপস্থিতিরি পরও। বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট, এতটুকু বললে যে কেউই বুঝে নেবেন, আমির খানের কথাই হচ্ছে এখানে।

বক্স অফিসে যিনি রেকর্ড গড়েন, আবার তা ভাঙিয়ে নতুন রেকর্ড দাঁড় করাতে হবে বলেই। বলিউডি সিনেমার ১০০, ২০০, ৩০০ কোটির ক্লাবে পৌঁছানোটা শুরু হয়েছে তাঁর হাত ধরেই, বিদেশবিভূঁইয়ে বলিউডের সিনেমার আধিপত্যের সূচনাও তাঁর অভিনীত সিনেমার কারণেই। ২১ শতাব্দীতে হলে তার সিনেমা মুক্তি পাওয়া মানেই দর্শকপ্রিয়তা, সিনেমার আগে যোগ হওয়া, ‘সুপার-ডুপার হিট’ বিশেষণ।

দাঁড়ান, দাঁড়ান, একটু কিন্তু আছে! তার অভিনীত কিছু সিনেমাও তো ফ্লপ হয়েছিলো, যেগুলো আবার এ শতকেরই সিনেমা। পরের প্রশ্ন অবধারিতভাবেই, কোনগুলো? নিচের অংশে চোখ বুলিয়ে নিন তবে।

  • মেলা (২০০০)

সকালকে সবসময়ই দিনের বাদবাকি প্রহরের ব্যাপারে ধারণা দিয়ে যেতে হবে, এমন তো কোনো কথা নেই। আমির খানের এ শতক তাই কেমন যাবে, সেটাও ২০০০ সনে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মেলা’ সিনেমা দিয়ে যাচাই করলে অন্যায়ই হবে। আমির এবং তাঁর ভাই ফয়সাল খান অভিনীত এ সিনেমায় আরও ছিলেন টুইংকেল খান্না। কিন্তু, সিনেমায় দর্শক টানতে যা লাগে, তেমন কোনো উপাদানই ছিলো না। গল্প, চিত্রনাট্য, অভিনয়, সবই ছিলো চূড়ান্তরকমের বাজে। অন্ততপক্ষে আমির খানের কাছ থেকে আপনি এরকমটা আশা করবেন না। বক্স অফিস থেকে মাত্র ১৫ কোটি রুপি নিয়ে ফিরতে পারে সিনেমাটি।

  • মঙ্গল পান্ডে: দ্য রাইজিং (২০০৫)

আমির খানের ক্যারিয়ারে আরেকটি হতাশার নাম। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের ওপরে দারুণ এক গল্প ছিলো, আমির খান-রানী মুখার্জি জুটি ছিলো, এ. আর. রহমানের সংগীত ছিলো, আমির নিজেও সিনেমাটির জন্য পরিশ্রমে কমতি করেননি। কিন্তু কেবল বক্স অফিসেই সাফল্য ছিলো না। আয় ছিল মাত্র ৩০ কোটি রুপি।

  • ধোবি ঘাট (২০১১)

এ ব্যর্থতা কেবল আমির খানের একার বললে ভুল হবে, এটা আসলে তাঁর পুরো পরিবারেরই ব্যর্থতা। আমিরের স্ত্রী পরিচালক-প্রযোজক কিরন রাও। তাঁর পরিচালিত প্রথম সিনেমায়, মুম্বাই শহরের অগোছালো সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলে নজর কাড়তে চেয়েছিলেন। চলচ্চিত্র সমালোচকদের কাছ থেকে প্রশংসাপত্রও পেয়েছিলেন, দুর্ভাগ্যবশত বক্স অফিস থেকে লগ্নিটাই তুলে আনতে পারেননি। আয় ছিল মাত্র ১৪ কোটি রুপি।

  • তালাশ: দ্য ট্রুথ লাইস উইদিন (২০১২)

আমির খান, রানী মুখার্জি এবং কারিনা কাপুরকে নিয়ে আবারও একটা তারকাবহুল সিনেমা, আবারও ব্যর্থতা। সিনেমার এক বড় অংশজুড়ে অংশ থ্রিল থাকা সত্ত্বেও, চলচ্চিত্রের সমাপ্তি অংশটা সমস্ত আকর্ষণে জল ঢেলে দেয়। এই বাজে সমাপ্তির কারণেই সিনেমাটি বক্স অফিসে সাফল্যের মুখ দেখতে পায়নি, চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের প্রশংসাও কুড়াতে পারেনি।

  • থাগস অব হিন্দুস্তান (২০১৮)

‘বিপর্যয়’ শব্দটি বোধহয় এ সিনেমাটিকে বোঝাতে হবে বলেই আবিষ্কৃত হয়েছিলো। বলিউড ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমা, অমিতাভ বচ্চন-আমির খানের একসঙ্গে কাজ করা প্রথম সিনেমা, ধুম থ্রির পরে আবারও আমির-ক্যাটরিনা-বিজয় কৃষ্ণ আচার্য ত্রয়ীর সিনেমা, দর্শকপ্রিয়তা পাবার সকল উপাদানই তো ছিলো। তবে, ভালো সিনেমা বানাতে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের চেয়ে ভালো চিত্রনাট্য আর ভালো পরিচালনা যে জরুরি, সেটা প্রমাণ করতেই যেন বলিউড ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হয়ে হাজির হলো ‘থাগস অব হিন্দুস্তান’।

আরো কিছু সিনেমার কথা এখানে যোগ না করলেই নয়। বক্স অফিস থেকে সিনেমাগুলোর আয়ের ফিরিস্তি দেখলে যেকোনো আমির ভক্তই চমকে উঠবেন।

  • আকেলে হাম আকেলে তুম – ৭ কোটি রুপি
  • বাজি – ৫ কোটি রুপি
  • আন্দাজ আপনা আপনা – ৫ কোটি রুপি
  • ১৯৪৭: আর্থ – ৪ কোটি রুপি
  • আতাঙ্ক হি আতাঙ্ক – ২.৫ কোটি রুপি
  • পারাম্পারা – ১.৫ কোটি রুপি

– দেশিমার্টিনি অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।