ব্যাথায়, রাগে, জিদে, কষ্টে কাঁপছিলো মেয়েটা!

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সত্যা একটা ঘটনা। শুধু ভিকটিমের নামটা ব্যাবহার করা হয়নি কারণ সে এখনো সুস্থ না।

গোলাপি রঙের একটা শাড়ি আছে মেয়েটার। খুব প্রিয় শাড়ি। কয়েকদিন থেকেই ভাবছে পরবে কিন্তু পরা হচ্ছে না। ৯ তারিখে অফিস যাওয়ার সময় তাই পরেই ফেললো সে।

অনেক জ্যাম ছিলো সেদিন। ৪০ মিনিট ধরে গুলশান লিঙ্ক রোডে গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। পরে জানা গেলো, রিক্সাওলাদের ধর্মঘট তাই এই অবস্থা।

তার অফিস সুবাস্তু নজর ভ্যালীতে। চাইলেই হেটে যাওয়া যায়! অনেকক্ষণ বসে থেকে কোনো কুল কিনারা না পেয়ে হাটা শুরু করে দিলো।

সে যেহেতু শাড়ি পরে ছিল, তাই খুব বেশি জোরে হাঁটতে পারছিল না। তাই সে ঘাড়ের ব্যাগটা সাবধানে ও শক্ত করে ধরে হেঁটে যাচ্ছিলো। রাস্তায় বাস, গাড়ি সবকিছুই দাঁড়িয়ে আছে।

মানুষজন ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ভিডিও করছে। আর রিকশাওয়ালারা রাস্তার মধ্যে বসে আন্দোলন করছে। মেয়েটা সবকিছু পাশ কাটিয়ে হেটে এগিয়ে যাচ্ছি আর বোঝার চেষ্টা করছে আর কতদূর বাকি।

শাহাজাতপুর আর লিংক রোডের মাঝখানে একটা ইউটার্ন আছে। ওখান থেকে সুবাস্তু হেটে যেতে ১০ মিনিট লাগে। ওই জায়টাতেই আসল ভিড়। ১০০ জন রিকশাওয়ালা হবে যারা মেইন রোডে বসা।

আর বাকি রাস্তায় অনেক ধরণের মানুষে ভরা। দোকানদার, অফিস কর্মী, বাসের হেল্পাররা আরো অনেকে। মেয়েটি ইউটার্নের কাছাকাছি যেতেই কে যেন তাঁর কোমরে হাত দিয়ে শাড়িটা টেনে ধরলো।

মারমুখি হয়ে ঘুরে দাড়াতেই মেয়েটা দেখে অনেক মানুষ। কে করেছে কাজটা বোঝাই যাচ্ছে না। চিৎকার দিয়ে একটা গালি দিলো সে। সবাই মেয়েটার দিকেই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।

রাগে আবার হাটা শুরু করলো মেয়েটা, এবার একটু দ্রুত। কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলো সে। ১ মিনিট ও হয়নি আবার একটা জটলায় পরলো সে। সবাই স্লোগান দিচ্ছে। ফুটপাত ভরা মানুষ।

দ্রুত হেঁটে যাচ্ছে মেয়েটা। হঠাৎ টের পেলো কারা যেন তাঁর বুকে গলায় আর কোমরে একসাথে খামছি দিয়েছে। তিনটা হাতের স্পর্শ। আবারো চিৎকার দিয়ে ঘুরতেই ডান পাশের বুকের কাছে একটা ঘুষি খেলো সে।

ব্যাথায় শরীর অবস হয়ে যাচ্ছে মনে হলো। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো কে বা কারা করছে বোঝার উপায় নেই! ততক্ষণে তাঁর শাড়ি প্রায় খুলে গেছে। পাশের এক মহিলা এসে জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে।

মেয়েটা পুরা ব্ল্যাংক হয়ে গেছে ততক্ষণে। কারণ কেউ দৌড়াচ্ছে না, আশেপাশের সবাই নরমাল! তাহলে কাজটা করলো কারা! রাগে হাত-পা কাঁপছিলো তার।

আর কিছু চিন্তা না করেই প্রায় দৌড় দিতে লাগলো সে অফিসের দিকে। পিছনে তাকিয়ে দেখিনি আর। অফিসে গিয়ে পাগলের মত চিৎকার করেছে সবার সাথে। ব্যাথায়, রাগে, জিদে, কষ্টে কাঁপছিলো মেয়েটা, কিন্তু কাঁদছিলোনা একটুও!

পরে অনেক কাহিনি করে বাসায় পৌছানো হয়েছিলো তাকে। বাসায় তার মা তাকে দেখে কাঁদছিলেন। ভয়ে, কষ্টে, রাগে। যখন কাপড় চেঞ্জ করছিলো বুঝতে পেলো এই অল্প সময়ে কি পরিমাণ ব্যাথা পেয়েছে সে।

মা বরফ দিচ্ছিলো আর কাঁদছিল। ব্লাউজের সাথে শাড়ী আটকে রাখার জন্য যে সেফটিপিন ছিলো সেটা দিয়ে শাড়িটা ছিঁড়ে গেছে আর কোমরে কেটে গেছিলো। বুকে আর গলায় আঁচরের দাগে লাল হয়েছিলো।

ঘুষি খাওয়ার জন্য বুকের ডানপাশটা এখনো ফুলে আছে। সেদিন আর কিচ্ছু করিনি মেয়েটা। ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে গেছে।

তাঁর পরিবার আর প্রিয়জনেরা জানে সে অনেক শক্ত। কেউ কিছু বললে বা করলে পাল্টা জবাব দিতে জানে। কিন্তু সেদিন কিছুই করার পাচ্ছিলোনা সে। কারণ যারা এমনটা করছে, তাদের দেখতে পাচ্ছিলোনা। পরে ভালো করে ভবে দেখেছে সে, তাকে হয়তো আগে থেকেই ২/৩ জন ফলো করছিলো। কারণ তা না হলে সে ঝামেলার সময় এত কায়দা করে সুযোগের স্বদব্যবহার করা সম্ভব না। ঘটনা গুলো ঘটেছে ভিড়ের মধ্যে।

সবাই এত ভালো অভিনয়ে যে কেউ ইতস্তত হয়নি বা ঘাবড়ে যায়নি। পালানো তো দুরের কথা।

এই ধরণের ঘটনা যে কোনো কনসার্টে বা ভিড় আছে এমন যায়গায় সহজেই করা যাবে। কিছু বিকৃত মানুষ এটার সুযোগেই থাকে। তাই এই ‘সত্য ঘটনাটা’ জানানো দরকার। মেয়েটা জানে না সেই মানুষগুলো কোন শ্রেনীর ছিলো।

বয়স কত ছিলো বা দেখতে কেমন। শুধু জানে তারা পুরুষ মানুষ ছিলো। আর সুযোগে মোলেস্ট করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল।

মেয়েটি মানসিক ও শারীরিকভাবে এখনো সুস্থ হতে পারেনি, তার অনুরোধেই নাম গোপন রাখা হল। সাবধানে থাকুন সবাই।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।