কোনো একটা সময় তাঁরা কেউ থাকবেন না!

একটা নাম নেই।

– তাতে কি? সামনের সিরিজেই থাকবে।

এবার যে দুটো নাম নেই!

– তাতেই বা কি? চোট সেরে গেলেই তো আবার ফিরবে ওই দুটো নাম!

ম্যাচের আগে একাদশের দিকে তাকিয়ে মনকে এখন আপনি বুঝিয়ে ফেলতে পারেন অনেকভাবেই। একটা টুর্নামেন্টই তো! কিচ্ছু হবে না। সামনের হোম সিরিজ বা তারও পরের কোন এক সিরিজ- ফিরবেই তো সবাই। ফিরতে তো হবেই।

এরপর, কোন একদিন হয়তো বাংলাদেশের কোন একটা ম্যাচের আগে একাদশটার দিকে চোখ পড়বে আপনার। সেখানে আপনি দেখবেন একটা বা দুটো নয়, মোট পাঁচটা নাম নেই। আপনি আবারও মনকে বুঝিয়ে ফেলতে চাইবেন, ‘ধুর! একটা সিরিজই!’

মন এবার আর বুঝবে না। বরং মাঝপথে সে থামিয়ে দেবে আপনাকে। স্মরণ করিয়ে দেবে একটা দিনের কথা। যে দিনটা আসবে আপনি জানতেন। কিন্তু সে দিনটা আসুক, আপনি কখনো চাইতেন না।

আপনি ওই পাঁচজনের সাথে বড় হয়েছেন। ওই পাঁচজনকে নিয়ে আপনার অনেক স্মৃতি! কতবার আপনাকে বিশ্বজয়ের আনন্দ দিয়েছেন ওই পাঁচজন! কত কত দিন নিজের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে আপনি সফলতার খোঁজ করেছেন ওই পাঁচজনের ব্যাটে বা বলে। কত কত রাত আপনি রাজ্যের খুশি সঙ্গী করে ঘুমাতে গেছেন ওই পাঁচজনের বদৌলতে! আপনি ওই পাঁচজনের সাথে হেসেছেন। আপনি ওই পাঁচজনের সাথে কেঁদেছেন। ওই পাঁচজন আপনার জীবনের একটা অংশ হয়ে গেছে, আপনারই অজান্তে।

এরপর একটা দিন আসবে। সেই দিনটা।

হঠাৎ আপনি আবিস্কার করবেন, আর কোন সিরিজের একাদশে ওই পাঁচটা নামের একটাকেও আর দেখা যাবে না। আপনি আবিস্কার করবেন, কেমন যেন ফাঁকাফাঁকা লাগছে একাদশটা, ১১টা নাম থাকার পরও। কেমন জানি ফাঁকাফাঁকা লাগছে মাঠটা, ১১ জন নামার পরও। সব থেকেও যেন ফাঁকা হয়ে গেছে সবকিছু। ওই একাদশ, ওই মাঠ। আপনার বুকটাও।

সেদিন পাকিস্তানের ম্যাচ শেষে মুশফিক বলেছেন, ‘কারও জন্য কিছু থেমে থাকে না। একদিন হয়তো আমি থাকবো না। আমাদের সিনিয়র পাঁচজনের কেউই থাকবো না। তারপরও ক্রিকেট চলতে থাকবে।’

দেখে একটু ধাক্কামতো খেলাম। সেই সময়টা চিন্তা করার চেষ্টা করলাম। খুব বেশিক্ষণ চিন্তা করা যায় না।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।