গ্রিনিজ থেকে রোডস: কোচ আসে কোচ যায়!

গর্ডন গ্রিনিজের জমানায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপের টিকেট পাওয়ার সাথে সাথে পায় টেস্ট স্ট্যাটাস। গ্রিনিজ থেকে শ্রীলঙ্কার চান্দিকা হাতুরুসিংহে পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে কাজ করেছেন মোট ১০ জন কোচ। দুই যুগে ১০ কোচ সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে, একাদশ কোচ সম্ভবত হতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ কাউন্টি সার্কিটের পরিচিত কোচ স্টিভ রোডস।

এর মধ্য দিয়ে সাত মাস কোচহীন অবস্থার অবস্থার অবসান ঘটাতে চলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। চলুন এর আগে বিগত দিনের ১০ কোচদের পারফরম্যান্স একঝলক দেখে নেওয়া যাক।

  • গর্ডন গ্রিনিজ (ডিসেম্বর, ১৯৯৬ – মে, ১৯৯৯)

বাংলাদেশকে ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপের টিকেট এনে দেন এই ক্যারিবিয়ান। তার অধীনেই বিশ্বকাপে পাকিস্তান ও স্কটল্যান্ডকে হারায় বুলবুল-আকরাম না। তবে, তিনি অবকাঠামো ও নিজেদের মান আরো উন্নয়নের আগেই টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার বিরোধী ছিলেন। ফলাফল বিশ্বকাপের মাঝপথে তিনি বরখাস্ত হন।

  • এডি বারলো (আগস্ট, ১৯৯৯ – মে, ২০০০)

তাঁকে ডিরেক্টর অব কোচিং করে নিয়ে আসে বিসিবি। তাঁর অধীনেই প্রথম টেস্ট খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু, অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন।

  • ট্রেভর চ্যাপেল (মার্চ, ১৯৯৯ – ফেব্রুয়ারি, ২০০২)

এক বছরেরও কম সময় ছিলেন সবচেয়ে অজনপ্রিয় এই চ্যাপেল। ১৯ ম্যাচের মধ্যে ১৮ টিতেই তাঁর অধীনে হারে বাংলাদেশ দল।

  • মহসিন কামাল (এপ্রিল, ২০০২ – মার্চ, ২০০৩)

তিনিও এক বছরের কম সময় ছিলেন। টানা ২৩ টি ম্যাচ তাঁর অধীনে হারে বাংলাদেশ। ফলাফল, বরখাস্ত হন এই পাকিস্তানি।

  • ডেভ হোয়াটমোর (মে, ২০০৩ – জুন, ২০০৭)

বাংলাদেশের অন্যতম সফল কোচদের একজন। ১১৮ টি ম্যাচ তাঁর অধীনে খেলে বাংলাদেশ। জিতে ৩৫ টিতে। এর মধ্যে ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ও আছে।

  • জেমি সিডন্স (নভেম্বর, ২০০৭ – এপ্রিল, ২০১১)

তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের ওপর বেশ প্রভাব ছিল এই অস্ট্রেলিয়ানের। চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ২০১১ সালে তিনি বিদায় নেন।

  • স্টুয়ার্ট ল (জুলাই, ২০১১ – মে, ২০১২)

১১ মাস তিনি বাংলাদেশ দলের সাথে খেলেন। তাঁর অধীনেই ২০১২ সালের সেই বিখ্যাত এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলে বাংলাদেশ। তবে, এশিয়া কাপের পরই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।

  • রিচার্ড পাইবাস (জুন, ২০১২ – অক্টোবর, ২০১২)

মাত্র চার বছর ছিলেন। না খেলোয়াড়দের সাথে বনিবনা হয়েছিল, না বিসিবির সাথে। কাউকে কিছু না জানিয়েই তিনি চলে যান।

  • শেন জার্গেনসেন (নভেম্বর, ২০১২ – এপ্রিল, ২০১৪)

খেলোয়াড়রা তাঁকে খুব পছন্দ করতেন। তবে, ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার জের ধরে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

  • চান্দিকা হাতুরুসিংহে (জুন, ২০১৪ – নভেম্বর, ২০১৭)

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল কোচ। তাঁর অধীনে ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ও ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলে বাংলাদেশ।

  • স্টিভ রোডস (জুন, ২০১৮ -)

ইংল্যান্ডের হয়ে ১১ টি টেস্ট ও নয়টি ওয়ানডের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন স্টিভ রোডজের সাথে কথাবার্তা এগোচ্ছে বিসিবির। শিগগিরই তিনি ঢাকায় এসে বিসিবির সামনে সাক্ষাৎকারে বসবেন।  গ্যারি কার্স্টেনের সুপারিশে কোচদের যে শর্টলিস্ট করা হয়েছে তাঁর মধ্যেই আছেন এই স্টিভ রোডস।

– ইএসপিএন ক্রিকইনফো অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।