নব্বই দশকের ব্যর্থ নায়িকাদের উপাখ্যান

সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিভা ও পরিশ্রমের জোর থাকার পরও টিকে থাকা সহজ নয়। তাই, অনেক সম্ভাবনা নিয়ে হাজির হওয়ার পরও হারিয়ে গেছেন অনেক নায়িকাই। নব্বই দশকে এমন ঘটনা অহরহই ঘটতো। তাদেরই কয়েকজনকে নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন।

  • নম্রতা শিরোদকার

সাবেক মিস ইন্ডিয়া নম্রতা হলেন অভিনেত্রী শিল্পা শিরোদকারের ছোট বোন। ১৯৯৯ সালের ‘বাস্তব’ সিনেমার জন্য বিখ্যাত। তবে, ২০০৫ সালে দক্ষিণী নায়ক মহেশ বাবুকে বিয়ে করে তিনি রঙিণ দুনিয়াকে বিদায় জানান।

এখন তিনি স্বামীর ব্যক্তিগত ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন। ‘পুকার’-এ একটা ক্যামিও চরিত্র ছিল। এর আগে ১৯৯৮ সালে ‘জাব প্যায়ার কিসি সে হোতা হ্যায়’ সিনেমাতে একটি ক্যামিও রোলে তাঁর অভিষেক হয়।

  • প্রিয়া গিল

সুন্দরী এই অভিনেত্রী ‘তেরে মেরে সাপনে’ (১৯৯৬) ও ‘সিরফ তুম’ (১৯৯৮)-এর মত হিট ছবি করেছেন ক্যারিয়ারের গোড়ায়। ১৯৯৯ সালে করেন বাড়ে দিলওয়ালা (১৯৯৬)।

২০০০ সালে পান ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ব্রেক। স্বয়ং শাহরুখ খানের সাথে করেন জোশ। সিনেমাটা মোটামুটি ভালই ব্যবসা করেছিল। যদিও, এর কয়েক বছরের মধ্যেই বলিউড থেকে হারিয়ে যান প্রিয়া গিল।

  • আনু আগারওয়াল

তিনি ছিলেন হিট সিনেমা ‘আশিকি’র নায়িকা। ‘তুমি তো স্টার!’ – আনুকে প্রথম দেখার পর এই কথাটাই বলেছিলেন সিনেমা নির্মাতা মহেশ ভাট। কেবল আনুর কথা মাথায় রেখেই সিনেমার স্ক্রিপ্ট পর্যন্ত লিখেছিলেন খ্যাতনামা এই পরিচালক।

১৯৯০ সালের আশিকি’র পর খলনায়িকা (১৯৯৩), কিং আঙ্কেল (১৯৯৩) – ইত্যাদি সিনেমা করেন অনু। সবগুলোই বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। ১৯৯৯ সালে তিনি মুম্বাইয়ে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। এর জন্য ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে তাকে ২৯ দিন কোমায় থাকতে হয়।

আনু এখন বিহারে থাকেন। এখনো বিয়ে করেননি। বিহারের মুঙ্গারে একটা যোগ ব্যায়ামের স্কুলে নিয়মিত ব্যায়াম করেন। ২০১৫ সালে নিজের আত্মজীবনি লেখেন ‘আনুজিয়াল – মেমোইর অব আ গার্ল হু কেম ব্যাক ফ্রম দ্য ডেড’-এ নতুন জীবন ফিরে পাওয়া আনু’র লড়াইয়ের গল্পটা জানা যায়।

  • কিমি কাটকার

কিমিকে বলিউড কখনো ভুলবে না। ১৯৯১ সালে খোদ অমিতাভ বচ্চনের বিপরীতে তিনি ‘হাম’ ছবিটি করেন। সেখানে দু’জনে অংশ নেন ‘জুম্মা চুম্মা দে দে’ গানে। ছবিটি ফ্লপ করলেও, এই গানটা সর্বকালের ক্লাসিক বলিউডি গানগুলোর একটি। বলিউডে ব্যর্থ হয়ে কিমি স্থায়ী ভাবে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান।

  • মমতা কুলকার্নি

মমতা মাত্র ২০ বছর বয়সে বলিউডে যোগ দেন। ‘আশিক আওয়ারা’ সিনেমায় সাইফ আলী খানের বিপরীতে তাঁর অভিষেক। সাইফ ও মমতা দু’জনই সেরা নবাগতের পুরস্কার জিতে যান। সাফল্যের সিঁড়িতে তর তর করে উপরে উঠে যাচ্ছিলেন মমতা। শাহরুখ, আমির, সালমান – তিন খানের সাথেই ক্যারিয়ারের অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই কাজ করে ফেলেন তিনি।

১৯৯৮ সালে রাজকুমার সন্তোষী মমতাকে তাঁর ছবি ‘চায়না গেট’ থেকে মাঝপথে বের করে দেন । পরে আসে আন্ডাওয়ার্ল্ড ছোটা শাকিলের ফোন। তাঁর হুমকিতেই নাকি ফের মমতাকে ছবিতে ফিরিয়ে নেন রাজকুমার। বলা হয়, এই ঘটনাই বলিউড থেকে দূরে ঠেলে দেয় মমতাকে। সিনেমা ফ্লপ হয় আর প্রযোজক-নির্মাতাদের কাছে একটা খারাপ ভাবমূর্তি  তৈরি হয় তাঁর।

২০০২ সালে গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে একেবারেই হারিয়ে যান মমতা। মমতার শেষের দিকের কাজগুলো হল – সেন্সর (২০০১), ছুপা রুস্তম (২০০১) ও কাভি হাম কাভি তুম (২০০২)। বলিউডে ১০ বছরের ক্যারিয়ারে মমতা করেন মোট ২২ টি ছবি।

সর্বশেষ তিনি কুখ্যাত ড্রাগ ডিলার ভিকি গোস্বামীর সাথে সম্পর্ক থাকার সুবাদে আলোচিত হন। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে তাকে কেনিয়াতে কুখ্যাত সব ড্রাগ মাফিয়াদের সাথে বৈঠক করতে দেখা যায় ভিকির সাথে। ক্রাইম ব্রাঞ্চের কর্মকর্তারা মুম্বাইয়ের ভারসোভায় মমতার বাড়ি স্কাই এনক্লেভের দরজায় গ্রেফতারি পরোয়ানা লাগিয়ে দিয়ে এসেছে। যদিও, তার খোঁজ মেলেনি। তাঁকে ‘পাকারনা মুশকিল হি নেহি, না মুমকিন হ্যায়’!

  • আয়েশা জুলকা

১১ বছর বয়সে ক্যারিয়ার শুরু করে আয়েশা শিশু শিল্পী ‘কোহরা’, ‘কুরবান’, ‘বালমা’ ও ‘সংগ্রাম’-এর মত হিট ছবি উপহার দেন। নায়িকা হিসেবে ১৯৯২ সালের ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’ কিংবা ‘খিলাড়ি’ সিনেমাগুলোর সুবাদে নব্বই দশকে আয়েশা রীতিমত সেনসেশনে পরিণত হয়েছিলেন। যদিও, ক্যারিয়ারের তুঙ্গেই তিনি স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যান।

তিনি বলেছিলেন, ‘ভাল অবস্থানে থাকতেই চলে যাওয়া ভাল। বেশি অপেক্ষা করলে হতাশা বাড়ে। আমি জীবনের অন্য পাশটাও দেখতে চাই। ২০০৩ সালে তিনি বিজনেস টাইকুন সামির ভাশিকে বিয়ে করেন।

  • নীলম কোঠারি

আশির দশকের শেষভাগে সাফল্যের ছোয়া পেলেও নব্বই দশকে এসে ডুবেছেন নীলম। তাঁর ক্যারিয়ারের বড় হিট হল ১৯৮৯ সালের ‘ঘার কা চিরাগ’ ও ১৯৯০ সালের ‘অগ্নিপথ’। এই অভিনেত্রী অবশ্য অনেক ব্যর্থতার পরও ২০০১ সাল অবধি হিন্দি, বাংলা, মারাঠি ও কান্নাড়া ছবিতে কাজ করে গেছেন। ২০১১ সালে তিনি বিয়ে করেন অভিনেতা সামির সোনিকে।

  • নাগমা

নাগমার অভিষেকটা ছিল জমকালো। ১৯৯০ সালে অভিষেক ছবি ‘বাঘি’-তে বিপরীতে ছিলেন সালমান খান। এরপর ১৯৯৪ সালের ‘সুহাগ’ ও ১৯৯৬ সালের ‘কওন রোকেগা মুঝে’র মত ছবি বেশ অনেকবারই বলিউডের চৌকাছ মাড়িয়েছেন নাগমা। তবে, সাফল্য পেয়েছেন সামান্যই। বরং তিনি দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বেশি জনপ্রিয়তা পান। আর এখন ব্যস্ত আছেন রাজনীতির ময়দানে।

  • পুজা ভাট

নির্মাতা মহেশ ভাটের বড় মেয়ে পুজা ভাট ক্যারিয়ারের শুরুতে ড্যাডি (১৯৯০), দিল হ্যায় কি মানতা নেহি (১৯৯১) ও সড়ক (১৯৯১) ইত্যাদি ছবি দিয়ে মুগ্ধ করেন। কিন্তু, নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময় তিনি খেঁই হারিয়ে ফেলেন। পরে পরিচালনায় এসে ‘পাপ’, ‘হলিডে’, ধোকা ও ‘জিসম টু’ নির্মান করেন তিনি।

  • পুজা বাত্রা

১৯৯৭ সালে ‘ভিরাসাত’ ছবিতে অনিল কাপুরের প্রেমিকার অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। সহ-অভিনেত্রীর ক্যাটাগরিতে পুরস্কারও জিতেছিলেন। এরপর হাসিনা মান জায়েগি (১৯৯৯), কাহি প্যায়ার না হো জায়ে (২০০০), দিল নে ফির ইয়াদ কিয়া (২০০১) এর মত ছবি করেন। খুব বেশিদিন তিনি শোবিজে টিকে থাকতে পারেননি।

  • ময়ুরী কাঙ্গো

১৯৯৫ সালে ‘নাসিম’ ছবি দিয়ে বলিউডে তার অভিষেক। এরপর ১৯৯৬ সালে ‘পাপা ক্যাহতে হ্যায়’ ও ১৯৯৯ সালে ‘হোগি প্যায়ার কি জিত’-এর মত ব্যর্থ ছবি করার পর আর টিকে থাকতে পারেননি তিনি। তবে, ময়ুরী বুদ্ধিমান ছিলেন। সময় থাকতেই তিনি চলে গিয়েছিলেন টেলিভিশনে।

  • রাম্যা কৃষ্ণান

দক্ষিণের জনপ্রিয় এই মুখ বলিউডে কখনোই নায়িকা হিসেবে খুব বেশি স্বীকৃতি পাননি। তিনি ১৯৯৩ সালের বড় দু’টি প্রোজেক্ট ‘খলনায়ক’ ও ‘পরম্পরা’য় ছিলেন। এরপর ১৯৯৮ সালে করেছেন ‘বাড়ে মিয়া ছোটে মিয়া’-তে। সম্প্রতি তিনি অবশ্য বলিউডে বেশ জনপ্রিয়। সেটা অবশ্য বাহুবলি ছবির রাজমাতা শিবগামী চরিত্রটির সুবাদে।

– মিড ডে অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।