নাইন্টিজ বিউটিজ: হারানো সময়ের সোনালি মুখ

নব্বই দশকের বেশ জনপ্রিয় মুখ তাঁরা। প্রত্যেকেরই রুপে কিংবা অভিনয়ে বারংবার চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছি আমরা। যদিও পর্দায় এখন আর তাদের তেমন দেখা যায় না। তবে সেই কৈশোর থেকে তাদের ওপরে ভালো লাগার বৃষ্টিপাত হয়ে আসছে আজ অবধি।

  • রিচি সোলায়মান

রিচি সোলায়মান পাবনায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা এম. এম. সোলায়মান একজন ব্যবসায়ী। তিনি সেন্ট জুডস স্কুল থেকে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষাগ্রহণ করেন। স্কুল-কলেজেরে শিক্ষাগ্রহণ শেষে তিনি এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ) সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনে তিনি কাজ করেছেন ৪০ টির বেশি টেলিভিশন ধারাবাহিক নাটকে।

এছাড়া তিনি বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটান শাহনেওয়াজ কাকলী পরিচালিত ‘নীরব প্রেম’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে, যদিও চলচ্চিত্রটি অমুক্তিপ্রাপ্ত। এখন পর্যন্ত বাংলা নাটকে উনি আমার সবচেয়ে পছন্দের অভিনেত্রী। টেলিভিশনের পর্দায় তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে ‘আবেগ’, ‘সোনার ময়না পাখি’, ‘সুখতারা’, ‘ফুচকা বিলাস’ অন্যতম।

  • তনিমা হামিদ

তনিমা হামিদ মঞ্চ ও টিভি মিডিয়া উভয় ক্ষেত্রেই সমান জনপ্রিয়। হঠাৎ করেই সব কিছু থেকে নিজেকে আড়াল করে ফেলেন এক সময়কার এই ব্যস্ত অভিনেত্রী। মাত্র চার বছর বয়সে অভিনয় শুরু করেন এই অভিনেত্রী, মঞ্চে তার অভিনীত প্রথম নাটক ‘চক সার্কেল’।

মূলত নাট্য পরিবারে তাঁর জন্ম বলেই ছোট থেকেই অভিনয় জিনিষটা বেশ ভালো ভাবেই রপ্ত করতে পেরেছিলেন। তার পিতার নাম ম. হামিদ এবং মাতার নাম ফাল্গুনী হামিদ। তাঁর অভিনীত টিভি নাটকগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় কিছু কাজগুলো হল – ‘দায়বন্ধন’, ‘খোঁজ’, ‘দৈনিক তোড়পাড়’, ‘বগুড়ার স্যার’ ও ‘টমটম’। এছাড়া তিনি একটি টেলিফিল্মের গল্পও লিখেছিলেন যার নাম ‘মেঘের ভেলায় ভেসে যাব আজ’। টেলিফিল্মটি পরিচালনা করেছিলেন তাঁর মা ফাল্গুনী হামিদ।

  • সাদিয়া ইসলাম মৌ

বাংলাদেশের নব্বই দশকের বেশ জনপ্রিয় মডেল সাদিয়া ইসলাম মৌ। এছাড়া তিনি একজন সুপরিচিত নৃত্য শিল্পী। আমার মতে তিনি একজন শক্তিমান অভিনেত্রীও বটে। তাঁর প্রথম মডেলিং ক্যারিয়ার শুরু হয় ১৯৮৯ সালে। ২০০০ এর দশকের সবচেয়ে সফল নারী মডেল ছিলেন তিনি। যদিও এখন তাকে আর মডেলিং পেশায় তেমন দেখা যায় না তবে নৃত্য করেন নিয়মিত।

এক সাথে নিজেদের প্রথম বিজ্ঞাপনে নোবেল ও মৌ

বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আছেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখ্যযোগ্য কিছু নাটক হল – ‘অল দ্য বেস্ট’, ‘বদনাম’, ‘মনে পড়ে রুবি রায়’, ‘নীল আকাশ প্রেম বিষ’ ইত্যাদি।

  • ইপসিতা শবনম শ্রাবন্তী

‘তোমাকে না পেলে জীবনে না পেলে বাঁচিবো না কেমন ইউরো লেমন’ কে দেখে নাই এই বিজ্ঞাপন! যদিও অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীর এই বিজ্ঞাপন রয়েছে তবে শ্রাবন্তীরটাই ছিলো বেশি জনপ্রিয়। ইপসিতা শবনম শ্রাবন্তী বাংলাদেশের বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মতিন রহমানের ‘রং নম্বর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে নজর কেড়ে নেন সকলের। রং নম্বর এবং ব্যাচেলর থেকেই দর্শকের মাঝে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন, অনেকে তো ধরেই নেন বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি পেতে যাচ্ছে শক্তিমান একজন অভিনেত্রী কিন্তু হঠাৎ করেই রঙিন দুনিয়া থেকে বিদায় নেন!

বলা যেতে পারে তাঁর বিয়ে, সংসারের কারনেই টেলিভিশন স্কিনে দেখা যায় নি! আর কখনো দেখা যাবে কিনা তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই! টেলিভিশনের এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন ‘বাচ্চা রেখে কোথাও গিয়ে শ্যুটিং করতে ভালো লাগে না। আমি পারি না। কাজ করাটা কমিটমেন্টের ব্যাপার। কারও সঙ্গে ফাজলামি করতে পারব না। পরে দু’একটা কাজ করতে পারি, তবে তা নিশ্চিত নয়।’ তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে ‘হৃদয়ের একুল ওকুল’, ‘বহুরূপী’, ‘ভাত ঘুম’, ‘বাড়ির নাম শান্তিকুঞ্জ’, ‘অপু দ্য গ্রেট’ ইত্যাদি বেশ পরিচিত।

  • শমী কায়সার

শমী কায়সার মানেই ছিলো দারুণ কিছু। তাঁর এক্সপ্রেশন আমার খুব পছন্দের, এখনো পুরনো নাটক গুলো ইউটিউব ঘেটে ঘেটে দেখি, কি দারুণ যে তাঁর অভিনয় বলা বাহুল্য। তিনি ছিলেন একধারে একজন গুণী শিল্পী এবং একজন প্রযোজক। ১৯৮৯ সালে হঠাৎ করেই পরিচালক আতিকুল হক চৌধুরীর নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষার মেয়ে খোঁজার মাধ্যমে আবিষ্কৃত হন শমী।

এরপর তিনি ইমদাদুল হক মিলনের উপন্যাস অবলম্বনে এবং আব্দুল্লাহ আল মামুনের পরিচালনায় তিন পর্বের ধারাবাহিক নাটক ‘যত দূরে যাই’-এ অভিনয় করে পরিচিত লাভ করেন। এরপর তিনি বহু নাটকে অভিনয় করেন তাঁর উল্লেখ্যযোগ্য কিছু কাজের মধ্যে ‘নক্ষত্রের রাত’, ‘ছোট ছোট ঢেউ’, ‘স্পর্শ’, ‘একজন’, ‘অরণ্য’, ‘আকাশে অনেক রাত’, ‘মুক্তি’, ‘অন্তরে নিরন্তরে’, ‘স্বপ্ন’, ‘ঠিকানা’ বেশ পরিচিত।

  • তারিন জাহান

তিনি একাধারে একজন অভিনেত্রী, গায়িকা, নৃত্যশিল্পী ও মডেল। তারিন ১৯৮৫ সালে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিভা অন্বেষণ নতুন কুঁড়ি-তে অভিনয়, নাচ এবং গল্প বলাতে প্রথম হন। তখন থেকেই তিনি শিশু-শিল্পী হিসাবে ছোট পর্দায় কাজ শুরু করেন। ১৯৮৮ সালে ‘শহীদুল্লাহ কায়সারের’ লেখা উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ধারাবাহিক নাটক ‘সংশপ্তক’-এ শিশু চরিত্রে অভিনয় করেন।

তিনি প্রথম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন তৌকির আহমেদের সাথে ‘কাঁঠাল বুড়ি’ নাটকে। যেটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট চ্যানেল এটিএন বাংলার প্রচারিত প্রথম নাটক। এছাড়া তিনি দু’টি ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রে প্রিয়াংকা ত্রিবেদী এবং প্রিয়াংকা ব্যানার্জীর হয়ে কণ্ঠ দিয়েছিলেন। তিনি একটি বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনেত্রী শাবনুরের জন্যেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মাঝে ‘এইসব দিন রাত্রি’, ‘সংশপ্তক’, ‘ফুল বাগানের সাপ’, ‘কথা ছিল অন্যরকম’, ‘ইউ টার্ন’, ‘মায়া’, ‘হারানো আকাশ’, ‘রাজকন্যা’, ‘সবুজ ভেলভেট’, ‘অনুচ্ছেদ ৭১’, ‘অগ্নিবলাকা’ ইত্যাদি বেশ পরিচিত।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।