৮ বছর, ৪ সিনেমা, ১১০০ কোটির ব্যবসা!

আমির খান বরাবরই সিনেমা নির্বাচন করার ব্যাপারে বেশ খুঁতখুতে। তবে, এর ফলাফলটা বরাবরই ভাল হয়। শীর্ষ চরিত্রে এই যুগে কেবল চারটি সিনেমা – তালাশ, ধুম থ্রি, পিকে ও দাঙ্গাল করেছেন তিনি। সব সময় কনটেন্টে জোর দেওয়ার ফলাফল হিসেবে চারটি সিনেমাই পেয়েছে ব্যবসায়িক সাফল্য। আর আমির খানের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ তকমাটা আরো পাকাপোক্ত হয়েছে।

এখানেই বাকিদের সাথে আমির খানের পার্থক্য। জনপ্রিয়তাকে তিনি কোনো স্থায়ী ব্যাপার মনে করেন না। বরং, ভাল সিনেমা দিয়ে দর্শকপ্রিয়তা ধরে রাখার পক্ষে তিনি। সেজন্যই তো আমির খান পেয়ে যাচ্ছেন ধারাবাহিক সাফল্য।

শীর্ষ চরিত্রে তাঁর সর্বশেষ চারটা ছবির মধ্যে তিনটিই সর্বকালের সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমার সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। এর মধ্যে ‘ধুম থ্রি’ শাহরুখ খান অভিনীত ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’-এর ব্যবসায়িক সাফল্যকে ছাড়িয়ে গিয়ে হয়েছে বলিউডের সবচেয়ে সফল ছবি। এরপর থেকে আমির খান একটু একটু করে নিজেকেই যেন ছাড়িয়ে গেছেন।

 

 

‘পিকে’ দিয়ে তিনি ভেঙেছেন ‘ধুম থ্রি’র রেকর্ড। ‘পিকে’ বক্স অফিসের বিবেচনায় প্রথম বলিউড সিনেমা হিসেবে জায়গা করে নেয় ৩০০ কোটির তালিকায়। এর দু’বছর বাদে আসে ‘দাঙ্গাল’। সর্বকালের সেরা ব্যবসায়িক সাফল্য পাওয়া এই সিনেমাটি বক্স অফিস থেকে ৩৮৫ কোটি রুপি আয় করে।

আমির হলেন বলিউড ইন্ডাস্ট্রির ট্রেন্ড সেটার। কারণ তিনিই ১০০, ২০০ ও ৩০০ কোটি ক্লাবের উদ্বোধন করেন বলিউড বক্স অফিসে। সর্বশেষ চারটি সিনেমার হিসেবে বক্স অফিস থেকে তাঁর মোট আয় ১১০০ কোটি রুপি। এর অর্থ হল আমিরের প্রতিটি সিনেমা গড়ে ২৭৫ কোটি রুপি আয় করেছে।

এই চারটি সিনেমা ছাড়াও এই সময়ে ‘ধোবি ঘাট’ ও ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ সিনেমায় কাজ করেছেন আমির। ‘ধোবি ঘাট’টা ছিল একেবারেই আর্ট ফিল্ম। সেখানে ব্যবসা নয়, বরং নির্মানেই বেশি জোর দিয়েছিলেন আমির। ‘সিক্রেট সুপারস্টার’-এ তিনি ক্যামিও একটা চরিত্রে করেন।

এই দু’টো সিনেমাকেও ধরা হলে, ছয়টি সিনেমা থেকে আয় আসে মোট ১১৭৬ কোটি রুপি। অর্থাৎ সিনেমা প্রতি আয় ১৯৬ কোটি রুপি। নি:সন্দেহে আমিরই তাই হিন্দী সিনেমার সবচেয়ে ভরসা করার মত ‘ব্র্যান্ড’। মানে যে কাজটা ভাল, সেই কাজটা দর্শকের কাছেও গ্রহণযোগ্য।

আসছে দিওয়ালিতে আমির খানকে দেখা যাবে ‘ঠাগস অব হিন্দোস্তান’-এ। এখানে শীর্ষ চরিত্রে আরো আছেন অমিতাভ বচ্চন, ক্যাটরিনা কাইফ ও ফাতিমা সানা শেখ। নি:সন্দেহে এটা এই বছরের অন্যতম আলোচিত সিনেমার একটি হতে যাচ্ছে।

বক্স অফিস বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এটা প্রথম হিন্দি সিনেমা হিসেবে ৪০০ কোটি ক্লাবে নাম লেখাবে। মানে এখানেও এক নতুন ধারার যাত্রা শুরু করবেন আমির।

আর সেটা যদি হয়েই যায়, তাহলে আরেকটি অনন্য মাইলফলক গড়বেন তিনি। তখন কেন্দ্রীয় চরিত্রে তাঁর শেষ পাঁচ সিনেমার মোট আয় দাঁড়াবে ১৫০০ কোটি রুটি। সিনেমাপ্রতি আয় ৩০০ কোটি রুপি। এই অর্জনটাকে অবিশ্বাস্য বললেও কম বলা হবে।

কেন্দ্রীয় চরিত্রে আমিরের শেষ চার সিনেমা

  • তালাশ – ৯৩ কোটি রুপি
  • ধুম থ্রি – ২৮৫ কোটি রুপি
  • পিকে – ৩৪০ কোটি রুপি
  • দাঙ্গাল -৩৮৭ কোটি রুপি

কইমই অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।