আজিম-সুজাতা: ঢাকাই ছবির স্মরণীয় জুটি

৫৫ টি বসন্ত পেরিয়ে গেলেও স্মৃতিতে জেগে আছে দু’টি নাম। তাঁরা ছিলেন বাংলা সিনেমার সোনালী দিনের তারকা। তাঁরা জুটি বেঁধে সফল হয়েছিলেন বিগত সেই ষাটের দশকে।

তাঁদের ছবি দেখার জন্য দলে দলে জনতা ভিড় করতো  ছবি ঘরের সামনে। দেখতেই যে হবে –  রাখাল বন্ধু, সাইফুল মুলক বদিউজ্জামাল, আমির সওদাগর ও ভেলুয়া সুন্দরী, মধুমালা, স্বর্ণকমল, নাগিনীর প্রেম, ডাকবাবু, তানসেন – আরও কত কী ছবি। তাঁরা হলেন কিংবদন্তিতুল্য জুটি আজিম ও সুজাতা।

১৯৬৪ সালের কথা। ‘মেঘ ভাঙা রোদ ’-এ আজিম ও সুজাতা জুটি হিসেবে প্রথম রূপালী পর্দার জগতে দেখা দিলেন। কাজী খালেক পরিচালিত ‘মেঘ ভাঙা রোদ’ ছবিতে আজিম – সুজাতা ছিলেন রোমান্টিক জুটি। ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৬৪ সালের দুই অক্টোবর।

১৯৬৬ সালে মুক্তি পেয়েছিল আজিম-সুজাতা জুটির ‘ডাকবাবু’ ছবিটি। ওই ছবিতে কাজ করতে গিয়েই আজিম-সুজাতার মধ্যে মন দেয়া নেয়া শুরু হয়েছিল বলে শোনা যায়। এর পরের বছর মানে ১৯৬৭ সালের জুলাই মাসে আজিম ও সুজাতা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন।

মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘ডাকবাবু’ মুক্তি পেয়েছিল ১৯৬৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। পরবর্তীতে এই জুটির ‘সাইফুল মুলক বদিউজ্জামাল’ মুক্তি পেয়েছিল  ১৯৬৭ সালের ১৫  সেপ্টেম্বর।

‘মধুমালা’ মুক্তি পায় ১৯৬৮ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি। ‘রাখাল বন্ধু’ মুক্তি পায় ১৯৬৮ সালের ১০ মার্চ। ‘চেনা অচেনা’ মুক্তি পায় ১৯৬৮ সালের ৩১ মে। ‘পাতাল পুরীর রাজকন্যা‘ ১৯৬৯ সালের ১০ মার্চ। ‘স্বর্ণকমল’ মুক্তি পায় ১৯৬৯ সালের ২৯ আগষ্ট। ‘তানসেন’ মুক্তি পায় ১৯৭০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি। ‘আমির সওদাগর ও ভেলুয়া সুন্দরী’ মুক্তি পায় ১৯৭০ সালের ২০ মার্চ।

ওই সময়ের দর্শকদের আজও মনে পড়ে আজিম-সুজাতা জুটির কথা। তাদের কথা বাঙালি দর্শকরা চিরদিন মনে রাখবেই। ষাটের দশকে এই জুটি ছিল হৃদস্পন্দন সৃষ্টিকারী জুটি। এই জুটির সাফল্যের সেই কল্প-কাহিনী এখন তো তো রীতিমত কিংবদন্তি।

ঢাকার ছবিতে রহমান-শবনম জুটির যুগ শেষে একচ্ছত্র আধিপত্ত ছিল আজিম-সুজাতার। বিশেষ করে বিয়ে ও রাজ্জাক ও কবরী জুটির আবির্ভাবের পর থেকে তাঁদের জুটি বাজার হারাতে থাকে।

বারুদ ছবির পোস্টার

দেওয়ান নজরুল হলিউডের ‘গডফাদার’ ছবিটি থেকে অনুপ্রানিত হয়ে ১৯৮০ সালে নির্মাণ করেন ‘বারুদ’। আজিম-সুজাতা দম্পতির তিন ছেলেমেয়ের চরিত্রে ছিলেন সোহেল রানা, ওয়াসিম ও ববিতা।  তিনজনই তখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ছিলেন। তারকাবহুল এই ছবিতে আরো ছিলেন জসিম ও শাবানা। ক্রাইম-থ্রিলার ঘরানার ছবিটি সে সময় দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়।

আজিমের পুরো নাম নূরুল আজিম খালেদ রউফ। ২০০৩ সালের ২৬ মার্চ তিনি মারা যান। জীবদ্দশায় তিনি ৫৩ টির মত ছবিতে কাজ করেন।

অন্যদিকে সুজাতা এখনো জীবিত আছেন। তাঁকে সিনেমায় অভিনয় করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন চিত্র পরিচালক সালাহউদ্দিন। সালাহউদ্দিনই তাঁর তন্দ্রা মজুমদার নাম পাল্টে রাখলেন সুজাতা। সুজাতা ১৯৬৫ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত ঢাকার চলচ্চিত্রে জনপ্রিয় নায়িকাদের মধ্যে একজন ছিলেন।

সুজাতার সবচেয়ে আলোচিত কাজ হল ‘রূপবান’। ১৯৬৫ সালের এই ছবিটি ঢাকার ছবি ইতিহাসে অন্যতম ব্যবসাসফল ছবি। ছবিটি ছিল গানে গানে পরিপূর্ণ – মোট ৩০ টি গান ছিল ছবিটিতে।  সিনেমাটির সুবাদে বাঙালির প্রিয় ‘রূপবান কন্যা’ হয়েছিলেন তিনি। আজো সুজাতার কথা ‍উঠতেই এই ছবির প্রসঙ্গ আসতে বাধ্য।

রূপবান ছবির একটা দৃশ্য

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।