এই পাঁচটি বিষয়ে আলোচনা দরকার

১.

সৌম্য সরকারকে ওপেনিংয়ে না নামানো যতটা ভাল সিদ্ধান্ত ছিল ঠিক ততটাই খারাপ সিদ্ধান্ত ছিল তাকে পাঁচে নামানোটা। ব্যাটিং পজিশন এখানে মুখ্য নয় বরং যে পরিস্থিতিতে তাকে ২২ গজে ঠেলে পাঠিয়েছে ম্যানেজমেন্ট সেটাই মুখ্য। সৌম্য যে স্পিনের বিপক্ষে একদমই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না তা কারও অজানা নয়।

তাই শুরুতেই মুজিব উর রহমানের মুখোমুখি না হতে যে তাকে আজ ওপেনিংয়ে নামানো হয়নি সেটা কোন রকেট সায়েন্স নয়। কিন্তু পরে তাকে এমন একটা সময় নামানো হলো যখন মুজিব বোলিংয়ে এবং দল ৩১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুকছে। এ সময় সৌম্য ছাড়া অন্য কোন বিকল্প ছিল না এমনও নয়। ফলাফল লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ে ‘গোল্ডেন ডাক’ সৌম্যের।

২.

আফিফ হোসেন ধ্রুবকে কেন অত নিচে নামানো হচ্ছে? তাকে কেন সৌম্যের জায়গায় আজ চিন্তা করা গেল না? সে যেই ক্যালিবারের ব্যাটসম্যান তাতে তাকে তিন, চার কিংবা খুব বেশি হলে পাঁচে মানায়। এর নিচে নয়। গত ম্যাচে তাকে ৮ এ নামানোটা খুবই বিস্ময়কর ঠেকেছিল। বিস্ময়কর লেগেছে আফগানিস্তানের বিপক্ষেও সাত নম্বরে তাকে নামানোটাও।

সেদিন আটে নেমে ২৬ বলে ৫২ করে ম্যাচ জিতিয়েছে বলে সে ওই পজিশনের ব্যাটসম্যান হয়ে গেছে এমন তো নয়। সে সাত-আটে নেমে প্রতিদিনই জিতাবে এমন ভাবাটাও বোকামি। বরং সে যে মাপের ব্যাটসম্যান তাতে উপযুক্ত ব্যাটিং পজিশনে তাকে নামানোটা খুব জরুরি। ধ্রুবকে ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে উঠিয়ে তিন বা চারে নামালে তাঁর থেকে আরো ভাল কিছু পাওয়া যাবে বলেই বিশ্বাস আমার।

৩.

ম্যাচে সবচেয়ে বড় ভুল ছিল মাত্র চার জন বোলার নিয়ে মাঠে নামা। পঞ্চম বোলারের কাজটা সারতে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ব্যবহার করেছেন তিন জন। তারা তিন জন মিলে ৪ ওভারে খরচ করেছেন ৪৬ রান। বিনিময়ে পাননি কোন উইকেট। এই ৩ জনের একজন সৌম্য সরকার গুরুত্বপূর্ণ ১৮ তম ওভারে এসে দিয়ে গেছেন ২২ রান। লঙ্গার ভার্সনে ৪ জন বোলার নিয়ে খেলা গেলেও শর্টার ভার্সনে পঞ্চম বোলার ছাড়া খেলাটা খুবই কঠিন। হ্যাঁ, প্রতিপক্ষ বিচারে মাঝে মাঝে আপনি চারজন জেনুইন বোলার নিয়েও খেলতে পারেন। তবে টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তান সেরকম প্রতিপক্ষ নয় অবশ্যই।

মজার ব্যাপার হল, পঞ্চম বোলার হিসেবে ধ্রুব ছিলেন। অধিনায়ক তাঁকে একটা ওভারের জন্যও সুযোগ দেননি। কেন!

৪.

মুশফিকুর রহিমের উইকেটরক্ষণের ক্ষেত্রে বলতে হয় ‘অ্যানাফ ইজ মোর দ্যান অ্যানাফ’। তাঁর কাছ থেকে গ্লাভস কেড়ে নেয়াটা এখন সময়ের দাবি। প্রায় প্রতি ম্যাচেই তিনি ভুল করে যাচ্ছেন। বল ছেড়ে রান বিলিয়ে যাচ্ছেন এবং বেশকিছু সুযোগও মিস করেছেন। তারপরেও উইকেটরক্ষক হিসেবে থেকে যাচ্ছেন বহাল তবিয়তে। এ বিষয়টার দ্রুত সমাধান দরকার। ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে তাঁর বাজে ফর্মটাও একটা বড় দুশ্চিন্তার কারণ। একাদশে জায়গা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গেছে।

৫.

তাইজুল ইসলামকে কোনভাবেই টি-টোয়েন্টির বোলার মনে হয়নি। বোলিংয়ে বৈচিত্র্য না থাকা সত্ত্বেও এক জায়গায় বল করে টেস্টে আপনি সাফল্য পেতে পারেন ঠিকই কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে নয়। সাকিব ছাড়া টি-টোয়েন্টি’র জন্য ভালো স্পিনার এদেশে খুব কমই আছে। কিন্তু, কাজ চালানোর মত যারা আছেন। অপু, নাইম এবং বর্তমানে দলে থাকা আনকোরা মেহেদি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তাইজুলের চেয়ে কার্যকরী হতে পারেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।