ছন্নছাড়া ব্রাজিলের নেপথ্যে পাঁচ কারণ

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মোটেই ফেবারিটদের মত সূচনা করতে পারেনি ব্রাজিল। সম্ভবত বছর দুয়েক আগে দায়িত্ব নেওয়া তিতের অধীনে এটাই ব্রাজিলের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স। কেন এই অধ:পতন? কেন রোস্তভে ১-১ ড্র-এ সন্তুষ্ট থাকতে হল ব্রাজিলকে? চলুন নেপথ্যের কিছু কারণ জানা যাক। দ্রুতই এই সংকটগুলো না কাটলে বিশ্বকাপে আসছে ম্যাচগুলোতো আরো বড় বিপদে পড়তে হতে পারে ব্রাজিলকে।

  • সেরা খেলোয়াড়ের ফিটনেস

প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনের (পিএসজি) হয়ে ইনজুরিতে পড়ার পর নেইমারকে তিন মাস মাঠের বাইরে থাকতে হবে। এরপর বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতিমূলক প্রীতি ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বদলী হিসেবে নেমে তিনি দারুণ এক গোল করেন, পরের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও গোল করেন। কিন্তু, মূল বিশ্বকাপে দেখা গেল নেইমারের দুর্দশা। বারবার বলের পজেশন হারাচ্ছিলেন, বড্ড গতিহীন আর ক্লান্ত মনে হচ্ছিল তাঁকে। বোঝাই যাচ্ছে, ব্রাজিলের সেরা খেলোয়াড়টি এখনো শতভাগ ফিট নন। আসছে সময়ে বিশ্বকাপে নেইমারের ফিটনেসই ব্রাজিলের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ তীব্র করার জন্য যথেষ্ট।

  • নিষ্ক্রিয় পওলিনহো

ম্যাচে নি:সন্দেহে ব্রাজিলের সবচেয়ে দুর্বল পারফরমার ছিলেন পওলিনহো। তাঁর সাথে দানিলো ও উইলিয়ানও সৃষ্টিশীল কিছও করতে ব্যর্থ হন। বাজে টেকনিক কিংবা ফিনিশিংয়ের ঘাটতির কারণে পওলিনহো দু’টি সহজ সুযোগ নষ্টও করেন। বার্সেলোনার এই তারকার পারফরম্যান্স দেখে মনে হয়েছে, তিনি ব্রাজিলের মত দলের ফাইনাল থার্ডে জায়গা পাওয়ার মত লোক না। তিতে চাইলে টেকনিক্যালি আরেকটু দক্ষ ফ্রেডকে এই জায়গায় কাজে লাগাতে পারেন। এমনকি সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ দিকে পওলিনহোর বদলী হিসেবে নেমে রেনাতো আগুস্তোও ছিলেন পওলিনহোর চেয়ে হাজারগুণ ভাল।

  • ফিরমিনো কেন শুরু থেকে নয়?

সর্বশেষ কবে রবার্তো ফিরমিনো ব্রাজিলের প্রথম একাদশে জায়গা পেয়েছিলেন? প্রায় এক বছর আগে কলম্বিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে। ক্লাব ফুটবলে শেষ মৌসুমটা ছিল ফিরমিনোর ক্যারিয়ারের সেরা। লিভারপুলের হয়ে তিনি খেলেছেন উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল। তাঁকে মাত্র শেষের ১৫ মিনিট সুযোগ দেওয়াটা অন্যায়। তিনি সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগকে গ্যাব্রিয়েল জেসাসের চেয়ে বেশি বিপাকে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। খুবই ভাল হয় যদি আসছে শুক্রবার কোস্টারিকার বিপক্ষে প্রথম থেকেই সুযোগ দেওয়া হয় ফিরমিনোকে।

  • নেইমারের গতি

এমনিতেই নেইমারের ফিটনেস আশাব্যঞ্জক নয়, তার ওপর পিএসজি এই তারকার দিকে কড়া নজর থাকে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের। ফলে, নেইমারের নিজের পায়ে বেশিক্ষণ বল রাখাটা খুব ভাল কোনো বুদ্ধি হবে না। ‍সুইজার‌ল্যান্ডের বিপক্ষে দ্রুত পাসিং অ্যান্ড প্রেসিং ফুটবল খেলতে পারলেই হয়তো চিত্রটা ভিন্ন হতে পারতো। বিশ্বকাপ জিততে চাইলে ব্রাজিলকে গোটা দল হিসেবে ভাল খেলতে হবে।

  • সামনের ঝুঁকি

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই পয়েন্ট হারালো ব্রাজিল। গ্রুপের অপর দল সার্বিয়া টেকনিক্যালি আরো ভাল দল। এমন ছন্নছাড়া ফুটবল অব্যহত থাকলে তাঁদের বিপক্ষেও জিততে হলে রীতিমত সংগ্রাম করতে হবে ব্রাজিলকে। এরপর কোস্টারিকা হারিয়ে কোনোক্রমে দ্বিতীয় রাউন্ডে চলে গেলেও নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই ব্রাজিলের। তখন দেখা হতে পারে জার্মানি কিংবা মেক্সিকোর সাথে। নিশ্চিত করে বলা যায়, এখন নিশ্চয়ই দুশ্চিন্তায় নিজের মাথার অবশিষ্ট চুলগুলোও ছিড়ে ফেলছেন তিতে।

– ক্রিকেটসকার অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।