শেষ বলে পরাজয়ের পঞ্চকাণ্ড

তীরে এসে তরী ডোবানোর বহু নজীর পাওয়া যায় বাংলাদেশ ক্রিকেটে।

এই যেমন, সর্বশেষ এশিয়া কাপে চারবারের মধ্যে তৃতীয়বার ফাইনালে শিরোপা জিততে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। আগের দুই পরাজয় ছিল পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে। মাশরাফি বিন মুর্তজা ও তার দল ট্রফি জয়ের জন্য দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকলেও, ফাইনালে ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে সেটা হয়নি। এই ফাইনাল নিয়ে নিজেদের ইতিহাসে পঞ্চমবারের মত শেষ বলে গিয়ে হারলো বাংলাদেশ।

  • এশিয়া কাপ ফাইনাল, ২০১২: প্রতিপক্ষ পাকিস্তান

সেবার ওয়ানডে পরাশক্তি না হলেও, বাংলাদেশ ২০১২ সালের এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছিল। ফাইনাল খেলতে তারা ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দিয়েছিল।

মুশফিকুর রহিম এশিয়া কাপের সেই আসরে বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন। তিনি টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং নেন। পাকিস্তান স্কোরবোর্ডে ২৩৬ রান জমা করতে সমর্থ হয়। বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছিল।

স্বাগতিকরা ভাল শুরু পেয়েছিল তামিম ইকবাল নাজিমউদ্দিনের সঙ্গে ওপেন করতে নেমে হাফ সেঞ্চুরি করলে। মিডল অর্ডারে সাকিব দারুণ খেললেও স্বাগতিকরা শেষ ওভারে ১০ রান নিতে না পেরে ম্যাচ হেরে যায়। আইজাজ চিমা আক্রমণে এসে মাত্র সাত রান দিয়ে বাংলাদেশের দুই রানের হার নিশ্চিত করেন।

  • টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০১৪: প্রতিপক্ষ ভারত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের কাছে বাংলাদেশের হার ভক্তদের হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। সে ম্যাচে মুশফিকের আগাম উদযাপন যেন সেই যন্ত্রনা আরো বাড়িয়ে দেয়।

ব্যাঙ্গালুরুতে বাংলাদেশ টসে জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। ভারত সাত উইকেটে ১৪৬ রান সংগ্রহ করে। সেই স্কোর বাংলাদেশের সংগ্রহ করা কঠিন ছিল না। কিন্তু, তারা ঐতিহাসিক জয়টি পেতে ব্যর্থ হয়েছে।

হার্ডিক পান্ডিয়ার শেষ ওভারে বাংলাদেশের ১১ রান দরকার ছিল। মাহমুদুল্লাহ ও মুশফিক উইকেটে ছিলেন। বাংলাদেশের চিন্তায় জয় ছাড়া কিছুই ছিল না।

মাহমুদউল্লাহ প্রথম বলে স্ট্রাইক রোটেট করেন, এবং মুশফিক ভারতীয় পেসার হার্দিক পান্ডিয়াকে পরপর দু’টি চার মারার পর উদযাপন শুরু করেন। মুশফিকের উদযাপন ফিকে হইয়ে যায় যখন তিনি এবং মাহমুদউল্লাহ পান্ডিয়ার পরের দুই বলে পরপর আউট হন। শেষ বলে বাংলাদেশের দুই রান দরকার ছিল, কিন্তু শুভাগত হোম সেই রান নিতে ব্যর্থ হন।

  • দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ, ২০১৮: প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান

ভারতের দেহরাদুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচে পরাজয়ের পর, বাংলাদেশ তৃতীয় ম্যাচে লজ্জাজনক হোয়াইটওয়াশ এড়াতে ব্যাকুল ছিল।  প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪৫ রান করে আফগানিস্তান। সফরকারী বাংলাদেশ এই রান তাড়া করতে ব্যর্থ হয়। শেষ ১২ বলে ৩০ রান দরকার ছিল। ১৯ তম ওভারে মুশফিক করিম জান্নাতকে টানা পাঁচটি চার মারেন। শেষ ওভারে বাংলাদেশের মাত্র নয় রান দরকার ছিল।

রশিদ খান ২০ তম ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলেই মুশফিককে আউট করেন, বাংলাদেশ ম্যাচটি এক রানে হেরে যায়। আরিফুল হক শেষ বলে দুই রান নিতে পারেননি। ইতিহাসে প্রথমবারের মত আফগানিস্তানের কাছে বাংলাদেশ হোয়াইটওয়াশ হয়।

  • নিদাহাস ট্রফি ফাইনাল, ২০১৮: প্রতিপক্ষ ভারত

২০১৮ সালে অনুষ্ঠেয় নিদাহাস ট্রফিতে বাংলাদেশ ফাইনালে পৌঁছে যায় স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে দু’বার হারিয়ে। কিন্তু দীনেশ কার্তিকের অতিমানবীয় ইনিংসে ম্যাচটি হেরে যাওয়ায় আবারো রানার আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় বাংলাদেশকে।

কলম্বোতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ ১৬৬ রান তোলে। সাব্বির রহমান ৫০ বলে ৭৭ রান করেন। শেষ দুই ওভারে ভারতের ৩৪ রানের প্রয়োজন ছিল। প্রথমবারের মত কোনো বহুজাতিক টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের স্বপ্নে বিভোর ছিল বাংলাদেশ।

কিন্তু, এই জয় বোধহয় ভারতের জন্য লেখা ছিল, কারণ ১৯ তম ওভারে রুবেল হোসেনকে একদম পিটিয়ে ছাতুবানিয়ে ২২ রান নেন দীনেশ কার্তিক। শেষ বলে ভারতের পাঁচটি দরকার ছিল, এবং দীনেশ কার্তিক সৌম্য সরকারকে অবিশ্বাস্যভাবে ছয় মেরে দলের জন্য জয় এনে দেয়।

  • এশিয়া কাপ ফাইনাল, ২০১৮: প্রতিপক্ষ ভারত

বাংলাদেশের ভাল সুযোগ ছিল এ ম্যাচে। যদিও, দু্বাইয়ে অনুষ্ঠিত ফাইনালে তাঁরা মাত্র ২২২ রান করতে সক্ষম হয়। লিটন দাসের চোয়ালবদ্ধ ১২১ রানের পরও বাংলাদেশের মিডল অর্ডার ভেঙে পড়ে।

ফাইনালে টস জিতে ভারত বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাট করতে আমন্ত্রণ জানায়। বাংলাদেশ ২২২ রান করেও শেষ বলে ম্যাচ হারে। ২২২ রানের টার্গেট ভারতের জন্য মামুলি ব্যাপার ছিল। কিন্তু, বাংলাদেশি বোলাররা রোহিত শর্মার দলের জন্য এ লক্ষ্যটাই খুব কঠিন করে তোলে। মাশরাফির দুর্দান্ত অধিনায়কত্ব বাংলাদেশকে শেষ বল পর্যন্ত আশা জিইয়ে রাখছিল।

শেষ ওভারে ভারতের মাত্র ছয় রান দরকার ছিল। মাশরাফি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে বল তুলে দেন। ডানহাতি এই অফস্পিনারকে খেলে জয় আদায় করতে ভারতকে শেষ ডেলিভারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। কেদার যাদবের ভয়হীন ব্যাটিংয়ে আবারো রানার-আপ হতে হয় বাংলাদেশকে।

– স্পোর্টসকিডা অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।