থ্রি ইডিয়টস: পরিচিতি সিনেমার অপরিচিত গল্প

চেতন ভগৎ-এর খ্যাতনামা উপন্যাস ‘ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০০৯ সালে রাজ কুমার হিরানী নির্মান করেন হিন্দি সিনেমা জগতের অন্যতম সাড়া জাগানো এবং জনপ্রিয় মুভি ‘থ্রি ইডিয়টস’।

আমির খান, আর মাধবন, শারমান জোশি, কারিনা কাপুর, বোমান ইরানী অভিনীত কামিং অফ এজ জনরার এই কমেডি-ড্রামা ২০০৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুক্তি পেয়েছিল। সিনেমাটি আক্ষরিক অর্থেই বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম সেরা একটি সিনেমা।

২ লাখ ৮৮ হাজার এর বেশি ভোট পেয়েও আইএমডিবি রেটিং ৮.৪! বক্স অফিসের আগের সব রেকর্ড ভাঙার পাশাপাশি ঘরে তুলেছিল তিনটি ন্যাশনাল, ছয়টি ফিল্মফেয়ার সহ সর্বমোট ৫২ টি অ্যাওয়ার্ড! তামিল ভাষায় নানবান (২০১২) নামে রিমেক হয়েছে, গত বছর রিলিজ হয়েছে মেক্সিকান রিমেক ‘থ্রি ইডিয়টাস’!

রেটিং, বক্স অফিস সাকসেস, অ্যাওয়ার্ড – এগুলো আসলে এই মুভির মহত্ত্ব পুরোপুরি বুঝাতে যথেষ্ট নয়। এতো বছর পরও যে মুভির জনপ্রিয়তায় কোনো ভাটা পড়েনি, যেভাবে মানুষের মুখে মুখে এই মুভির চর্চা হয়েছে বা এখনো হয়, সিনেমা প্রেমীদের মনে এই মুভি যেভাবে জায়গা করে নিয়েছে খুব কম মুভি দ্বারাই আসলে এগুলো সম্ভব হয়।

অনেকের মতো আমারও সবচেয়ে পছন্দের হিন্দি মুভি ‘থ্রি ইডিয়টস’। সবচেয়ে বেশিবার দেখা হিন্দি মুভিও! বার বার দেখেও এই মুভির প্রতি কোনো বিরক্তি আসেনা। যতবার দেখে ততবার-ই মুগ্ধ হই। প্রতিবার দেখা শেষেই আলাদা একটা তৃপ্তি নিয়ে ওঠা যায়, মনে হয় আবারো যেন নতুন কিছু দেখলাম! অনেক হিন্দি মুভি দেখেছি এবং ভবিষ্যতেও দেখব তবে এই মুভির প্রতি ভাল লাগা কোনো দিনই শেষ হবে বলে মনে হয় না বরং দিন দিন বেড়েই চলছে!

সিনেমাটি অনেকেই অসংখ্যবার দেখলেও এর পর্দার আড়ালের কিছু ব্যাপার এখনো অনেকেই জানেন না। চলুন সেই অজানা কিছু অধ্যায় জেনে নেওয়া যাক।

১.

‘র‌্যাঞ্চো’ চরিত্রটির জন্য রাজ কুমার হিরানী প্রথমে প্রস্তাব করেছিলেন স্বয়ং শাহরুখ খানকে। তিনি প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর দৃশ্যপটে আসে আমিরের নাম। আমির শুনেই রাজি হয়ে যান।

২.

রাজ কুমার হিরানীর সাথে কাজ করার জন্য অনেক আগে থেকেই মুখিয়ে ছিলেন কারিনা কাপুর। এই সিনেমায় কারিনা নিজেই ‘পিয়া’ চরিত্রটি পাওয়ার জন্য পরিচালকের কাছে নিজের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

৩.

সিনেমাটিতে একটি ক্যামিও চরিত্র করার জন্য সঞ্জয় দত্তকে বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি সময় দিতে পারেননি। ফারহান ও রাজু – এই দু’টি চরিত্রের একটির জন্য আরশাদ ওয়ার্সিকে প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু শিডিউল জটিলতায় তিনি সিনেমাটি করতে পারেননি। পরে চরিত্র দু’টি প্রস্তাব করা হয় জন আব্রাহাম ও সাইফ আলী খানকে। তাঁরাও না করে দিলে চরিত্র দু’টি পান মাধবন ও শারমান।

৪.

সিনেমায় নি:সন্দেহে সবচেয়ে আলোচিত অংশ হল সন্তান ডেলিভারির দৃশ্যগুলো। আসলে পরিচালক এই অংশটুকু ‘মুন্না ভাই এমবিবিএস’ সিনেমার জন্য ভেবেছিলেন। তবে, পরে সেটা সিনেমার সাথে অপ্রয়োজনীয় মনে হওয়ায় বাদ দেন।

৫.

‘র‌্যাঞ্চো’র চরিত্রটি করার জন্য আমির খানের ওজন কমানোর কোনো বিকল্প ছিল না। তাই, তাঁকে কড়া খাদ্যাভাস মেনে চলতে হত। এমননি নিজের জন্মদিনের কেকও খেতে পারেননি। এক সাক্ষাৎকারে তখন বলেছিলেন, ‘আমি দুধ আর কয়েকটা কলা খেয়ে বেঁচে আছি।’

৬.

‘থ্রি ইডিয়টস’ প্রথম ছবি হিসেবে বলিউড বক্স অফিস থেকে ২০০ কোটি রুপি আয় করেন। গোটা বিশ্ব থেকে সিনেমাটির মোট আয় ছিল ৩৯৫ কোটি রুপি। এমনকি চীনেও সিনেমাটি বেশ সাফল্য পায়।

৭.

খুবই চাঞ্চল্যকর খবর হল সিনেমাটির সিকুয়েলও বের হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমির খান নিজেই একবার বলেছিলেন নো অভিজিৎ জোশি সিনেমাটির দ্বিতীয় পর্বের স্ক্রিপ্ট লিখছেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।