কবে আসবে আরেকটি ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’!

ও আমার বন্ধু গো, চির সাথী পথ চলার, তোমারই জন্য গড়েছি আমি মঞ্জিল ভালোবাসার -এই গানটির কথা উঠলেই মনে পড়ে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত সিনেমার প্রসঙ্গ আসতে বাধ্য। ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ মুক্তি পেয়েছিল এই ছবিটি। ঈদ উল ফিতরে মুক্তি পাওয়া তুমুল সাড়া জাগানো বাম্পার হিট এই ছবিটি ২৫ বছর কাটিয়ে ফেলেছে। এই অর্জনের পাশে আছে হাহাকারও। কারণ, এই ২৫ বছরে এই মানের সিনেমা তো খুব কমই নির্মিত হয়েছে।

বাংলা চলচ্চিত্রে নানাদিক থেকেই এই ছবিটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই সিনেমাতেই অভিষেক ঘটেছিল রাজপুত্র খ্যাত সালমান শাহ ও প্রিয়দর্শিনী খ্যাত মৌসুমীর। মাত্র স্বল্প সময়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিলেন সালমান। অকালপ্রয়াত না হলে নি:সন্দেহে তিনি বাংলা চলচ্চিত্র কে আরো সমৃদ্ধ করতেন।

অন্যদিকে মৌসুমীও নিজেকে সমাদৃত করেছেন। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা জনপ্রিয় নায়িকা হিসেবে। সালমান ও মৌসুমীর বাইরে এই ছবিতেই খল হিসেবে অভিষেক ঘটে ডনের। এর বাইরে খান আতা ও নীলুফার ইয়াসমিনের পুত্র আগুনের চলচ্চিত্রের গায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তীতে বেশ সংখ্যক শ্রুতিমধুর গানের গায়ক হন তিনি।

প্রখ্যাত অভিনেতা রাজিব, এই ছবি দিয়েই খল ইমেজ থেকে বেরিয়ে এসে বাবা চরিত্রে সুপরিচিতি পান। পরবর্তীতে এই ধারার অনেক ছবি করেন। পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান বেশ সংখ্যক ছবি নির্মান করেছেন। তবে তিনি অন্তত এই একটি ছবির জন্য দর্শকদের কাছে স্মরণীয় থাকবেন। কারন তাঁর বাকি সিনেমাগুলো এই সিনেমার কাছে অনেকটাই ম্লান।

বিখ্যাত প্রযোজক সংস্থা আনন্দমেলা সিনেমা। বলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তাক’-এর অফিসিয়াল সত্ব কিনে এনে নির্মান করেন। এটি হিন্দি সিনেমা থেকে বাংলাদেশের প্রথম অফিসিয়াল রিমেককৃত ছবি। পাশাপাশি অন্যতম সেরা রিমেক সিনেমা হিসেবে পরিচিত। পরবর্তীতে তাঁরা আরো বেশ কয়েকটি সিনেমা অফিসিয়ালি রিমেক করেন।

সাধারণত হিন্দি গান থেকে সরাসরি বাংলায় স্থানান্তর হলে,দর্শকদের হৃদয়ে সেভাবে গেঁথে থাকে না, কিন্তু এই ছবির গানগুলো ব্যতিক্রম। ব্যাপক জনপ্রিয় তো হয়েছেই, গানগুলো দর্শকদের কাছে এখনো সমাদৃত। এর জন্য কৃতিত্বের দাবিদার সুরকার আলম খান, মুল সুরকার আনন্দ মিলিন্দের সৃষ্টি থেকে খুব যত্নসহকারে সুর তুলেছিলেন তিনি।

গান ও সহজবোধ্য ভাবে লিখেছেন মনিরুজ্জামান মনির। গানে আগুনের পাশাপাশি কিংবদন্তি গায়িকা রুনা লায়লাও কন্ঠ দিয়েছিলেন।

বাংলা চলচ্চিত্রের এই দু:সময়ে আরেকটি ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দরকার। ‍খুব দরকার। কবে আসবে আরেকটি ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’? সালমান শাহ অথবা মৌসুমীর মানের নায়ক-নায়িকাই বা কবে আসবে?

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।