ঢাকার আকাশে কেন গোলাকার রংধনু?

তখন বেলা ১১ টার মত। ঢাকার আকাশে অভিনব এক দৃশ্যের অবতারণা হল। গোলাকার রংধনু। খানিক সময় স্থায়ী হল সেই রংধনু। দেখতে দেখতে মিলিয়েও গেল। এমন দৃশ্যটা সচরাচর দেখা যায় না।

নগরীর মানুষ তাই অবাক। অনেকেই মুহূর্তটাকে ফ্রেমবন্দী করে রাখলেন। স্যোশাল মিডিয়াও তাই ছেয়ে গেল গোলাকার রংধনুতে। উচ্ছ্বসিত হওয়ার সাথে সাথে সকলের মনেই প্রশ্ন একটাই, এমন গোলাকার রংধনুর কারণ কি!

এমন রংধনু সৃ্ষ্টির দু’টো কারণ পাওয়া গেল। প্রথম ব্যাখ্যাটা হল – সূর্যগ্রহণের সময় পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে। এ সময় সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চাঁদের অবস্থানের কারণে অল্প কিছু সময়ের জন্য ঢাকা পড়ে যায় সূর্য। তখনই এমন আলোর বলয়াকৃতির রংধনু তৈরি হয়।

মহাকাশ গবেষণা বিষয়ক মার্কিন সংস্থা নাসার এই রংধনুর নামকরণ করেছে ২২ ডিগ্রি হ্যালো নামে। এই নামকরণের পেছনেও একটা কারণ আছে।

বায়ুমণ্ডলের প্রধান পাঁচটি স্তরের একটি হল স্ট্রাটোস্ফিয়ার বা স্ট্রাটোমণ্ডল। পৃথিবী থেকে ১২/১৫ কিলোমিটার (৭.৫/৯.৩ মাইল, ৩৯,০০০/৪৯,১০৪ ফুট) উপরে ট্রপোবিরতি হতে শুরু হয়ে স্ট্র্যাটোবিরতি পর্যন্ত ৫০ থেকে ৫৫ (৩১-৩৪ মাইল; ১৬০,০০০- ১৮০,০০০ ফুট) কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।

এই স্তরে ছোট ছোট বরফ কণা রয়েছে। সূর্যের আলো স্ট্রাটোস্ফিয়ারে পৌঁছানোর পর বরফে পড়ে তা প্রতিসরণ হয়। হ্যালো ২২ ডিগ্রি থেকে ৫০ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে। তবে ২২ ডিগ্রি হলেই এই বলয় সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়।

দুপুর দুইটার দিকে ঢাকায় মোটামুটি ভারি বৃষ্টিও হয়েছে। এটা হওয়ারই ছিল। কারণ, বায়ুমণ্ডলে জমে থাকা বরফ কণা থেকে প্রতিসরণ হয়েছে।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।