নয় নম্বর পাঁজরের হাড়ের ব্যাথায় নীল এক সেঞ্চুরি

অনেক খুঁজে একটাই তথ্য পাওয়া গেলো। তাও আত্মীয় সূত্রে। কাল রাত অবধি সেই তথ্যনুযায়ী, মুশফিক খেলছেন না। সুযোগ নেই।

দুবাইয়ে হোয়াটস অ্যাপ, ম্যাসেঞ্জার, ভাইবার কোন কিছুই কাজ করে না। টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে তথ্য পেতে গোয়েন্দার ভূমিকায় নামতে হলো। ফোন দিলাম চারজনকে। ধরলেন দু’জন। একজন কথাই বলতে চাইলেন না। ঢাকা যখন ঘুমিয়ে তখন আমি নিশ্চিত হলাম বগুড়ার ছেলেটার আর খেলা হচ্ছে না।

এ অঙ্গনে যারা কাজ করেন তারা জানেন, মুশফিককে পাওয়া কতটা কঠিন। তিনি মধ্যরাতে মনে বিষাদ নিয়ে বিছানায় যাওয়ার মধ্যে আমার মত একজনের টেক্সটের উত্তর দেবেন কেনো? তাই সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা।

চিকিৎসক সূত্র থেকে যা জানলাম, সেটা আরো মন খারাপের মত। পাঁজড়ের নয় নম্বর হাড়ে চিড়। খেলার সুযোগই নেই।একজন তো বলেই দিলেন , দুবাইয়ে ফিরতি বিমানে তিনি কখন উঠবেন সেটার দিকেও যেনো নজর থাকে।

ব্যক্তিগতভাবে আমি হতাশ। কিন্তু কাজ তো থেমে থাকবে না। আবারো পরিবারের শরনাপন্ন। সেখানে থেকে পাওয়া তথ্যগুলো যোগ করলে দাঁড়ায়, বড় শট খেলতে গেলেই ব্যথা পাচ্ছেন তিনি। এই জমানার ক্রিকেটে আপনি শুধু সিঙ্গেলসেই খেলতে পারবেন না। মারতেই হবে। তার না খেলার ব্যাপারটা টিম ম্যানেজমেন্ট চেপে গেলেন। সেটাই স্বাভাবিক।

খেলা শুরুর আগে চান্দিকা হাতুরুসিংহের সামনে দারুণ ডিশ তুলে দেয়ার কোন কারন দেখেনি তারা। এর মধ্যেই বাতাসে ভেসে এলো নাজমুল হোসেন শান্তর নাম। প্রায় সব চূড়ান্ত। মুশফিক নেই। এ ম্যাচে নেই। হয়ত এশিয়া কাপেই নেই!

শেষ পর্যন্ত তাঁকে পাওয়াই গেলো না। এক বন্ধুর মাধ্যমে দুটি প্রশ্ন করার সুযোগ অবশ্য হলো। হোটেল ছাড়ার আগে কি অবস্থা বলার পর উত্তর এলো, দেশ আগে। অনেক কষ্ট করেছি এশিয়া কাপের জন্য। শেষ পর্যন্ত খেলতে চাই। টেপ বেঁধে নেবো। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

তারপরের প্রশ্নটা ছিল- আপনি তো পরের ম্যাচ খেললে পাঁচ দিনের বিশ্রাম পাবেন। সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেন। সব কিছুর পরও সুস্থতা আগে।

উত্তর দেননি। উত্তরটা পেলাম টসের সময়।

ইনিংসের প্রথম ছক্কা মারার পর বেন্ড হওয়া দেখলেই বোঝা যায় পেইন কেমন! থেকে থেকে পানি খাচ্ছেন। একটু নড়ছেন। ব্যথায় কুঁকড়ে উঠছেন।

হি ইজ সিম্পলি আনকম্পেয়ারেবল। হি ইজ মুশফিকুর রহিম। মিঠুনকে নিয়ে যেভাবে শিল্ড করে গেলেন জুটিতে, সেটা মনে করিয়ে একজন আছেন যার ওপর নির্ভর করা যায়।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশি হিসেবে জাভেদ ওমরের লঙ্কার বিপক্ষে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৮৫ রান এদিন টপকে গেলেন। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ১৯৯০ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আতাহার আলী খানের ৭৮ ছিল এতোদিন সর্বোচ্চ। সেটাও পেছনে পড়ে গেলো। বাকী ছিল এশিয়ব কাপে দ্বিতীয় শতক করা। সেটাও ষষ্ঠ সেঞ্চুরি হিসেবে এলো।

তামিম ইকবালের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশ হিসেবে লঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডেতে তিন অংক। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। নয় নম্বরের পাঁজরের হাড়ের বেদনার নীল এই ইনিংসটাকে কোথায় দিন শেষে দাঁড় করালো সেটাতে বুঝেই গেছেন। তবে ধন্যবাদ তামিম ইকবালকে। এমন সাহস দেখাতে বুকের পাটা লাগে। এই ছেলেগুলো এতো অদ্ভুত কেন?

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।