১৪ বছরের বালকের ই-মেইল আবিষ্কারের গল্প

এই যুগে যদি কেউ এসে বলে, তাঁর কোনো ইমেইল আইডি নেই, তাহলে প্রযুক্তি বেষ্টিত এই সমাজে তাঁকে এলিয়েন বলে মনে হতেই পারে। চলতি পৃথিবীতে ই-মেইল থাকা ও এর ব্যবহার জানা অনেকটাই বাধ্যতামূলক। কিন্তু, যারা নিয়মিত ই-মেইল ব্যবহার করেন তাঁরা কি জানেন এই ঐতিহাসিক অনন্য আবিষ্কারের জনক কে?

তিনি হলেন ভারতের মুম্বাইয়ে জন্ম নেওয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করা শিবা আইয়াদুরাই। ১৯৭৯ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সেই তিনি আজকের দিনের ‘ই-মেইল’ আবিষ্কার করেন। জন্ম ১৯৬৩ সালে, মুম্বাইয়ে। এরপর মাত্র সাত বছর বয়সে তিনি পরিবারের সাথে চলে যান আমেরিকায়।

আমেরিকার নিউ জার্সিতে তামিলিয়ান শিবা তখন হাইস্কুলে পড়তেন। সেই সময়ে তিনি ইন্টার-অফিস মেইল সিস্টেমের একটি ইলেকট্রনিক ভার্সন তৈরি করেন। তার নাম তিনি দেন ‘ই-মেইল’। এরপর ১৯৮২ সালে এই আবিস্কারের কপিরাইট পান। ভারতীয় হলেও তিনি আমেরিকার নাগরিক।

কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহী আইয়াদুরাই নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কোউরেন্ট ইন্সটিটিউট অব ম্যাথেমেটিক্যাল সাইন্সের সামার প্রোগ্রামে ভর্তি হন। নিউ জার্সির লিভিংস্টান হাই স্কুলের এই স্কলার ইউনিভার্সিটি অব মেডিসিন ও ডেন্টিস্ট্রির হয়ে ইমেইল সিস্টেম নির্মানের কাজ করেন।

এই কাজের জন্য আইয়াদুরাই ১৯৮১ সালে ওয়েস্টিংহাউ সাইন্স ট্যালেন্ট সার্চ অ্যাওয়ার্ড (হাই স্কুল সিনিয়র) পান। পরে তিনি বিশ্বখ্যাত মাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) তিনি ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সায়েন্সে তিনি মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর বায়োলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে লাভ করেন পিএইচডি ডিগ্রি। ২০১৮ সালে মাসাচুসেটসে তিনি সিনেট নির্বাচনও করেন।

যদিও, আইয়াদুরাইয়ের এই আবিষ্কার সমালোচনাকে উপেক্ষা করতে পারেনি। কম্পিউটার প্রযুক্তির ইতিহাসে আরো অনেকেই আছেন, যারা নিজেদের ইমেইলের আবিষ্কারক বলে দাবী করেন। তাঁদের দাবী ৬০-এর দশক থেকেই ইলেকট্রনিক কায়দায় ডকুমেন্ট আদান প্রদানের প্রথা চালু ছিল।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।