লঙ্কা কাণ্ড শেষে ১১ অভিমত

বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা সফরে ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে, ক্রিকেট খেলায় এটা হতেই পারে। ২০১৫ বিশ্বকাপের অব্যবহিত পরে আমরাও পাকিস্তানকে এভাবেই হোয়াইটওয়াশ করেছিলাম, তাতে পাকিস্তান তলিয়ে যায়নি, বা তারও পূর্বে ২ বার হোয়াইটওয়াশ হওয়া নিউজিল্যান্ডেরও জাতকুল লংঘিত হয়নি। যখন দুটো দল খেলবে, যাদের মধ্যে জয়ের স্পৃহা বেশি থাকবে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারাই জিতবে, ব্যতিক্রম ঘটলে অন্য দল জিততে পারে।

হার আর জিতের বাইরে ওয়ানডেতে যেহেতু মাঝামাঝি কিছু ঘটে ২০০ ম্যাচে ১ বার, সেই অপশনকে বিবেচনায় রাখা উচিত নয়। বাংলাদেশ যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনটা ম্যাচই হারলো তা আমায় ভাবাচ্ছে না খুব, কিন্তু ডেইলি স্টার সূত্রে জানলাম আফগানিস্তান ‘এ’ দলের অধিনায়ক অভিযোগ করেছে গ্রাউন্ডসম্যানরা তাদের জয় বঞ্চিত করেছে।

আমি নিজে টানা ৫ বছর সেমি-প্রফেশনাল ক্রিকেট টিম চালিয়েছি, সেই টিমের ১৮ জন ক্রিকেটার থার্ড-সেকেন্ড-ফার্স্ট ডিভিশনে খেলেছে, বেশ কয়েকজন জাতীয় দলের নেটে নিয়মিত নেট বোলিং করতো। ফলে তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেট অবকাঠামো সম্বন্ধে যেসব অভিজ্ঞতার গল্প শুনেছি, তাতে গ্রাউন্ডসম্যানরা যে কাজটা ওপরমহলের নির্দেশে করেছে এটা নিশ্চিত। কিন্তু মিডিয়াতে চলে আসায় হয়তোবা চাকরি যাবে বেচারা গ্রাউন্ডসম্যানের।

বাংলাদেশের সিরিজ হারার সাথে এই ঘটনার সংযোগ কী? পাতানো ম্যাচ, নির্লজ্জ আম্পায়ারিংয়ের গল্প পত্রিকাসূত্রে আমরা বহুবার জেনেছি, তাতে কি পরিস্থিতির বদল হয়েছে, বা হবে আশা করেন?

পরিবহন শ্রমিকদের সাথে যদি খুব ঘনিষ্ঠভাবে মেশার সুযোগ হয়, বা তাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন, দেখবেন বৃহত্তম অংশের প্রফেশনাল এথিক্স অত্যন্ত নাজুক, বিভিন্ন কোরাম মেনে চলতে হয় তাদের। বাংলাদেশের ক্রিকেটার আর পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে প্রফেশনাল এথিক্স প্রশ্নে অদ্ভুত সাদৃশ্য আছে, ক্রিকেট শুরুর প্রথম মাস থেকেই জানে গডফাদার তোষণ ব্যতীত টিকে থাকা যাবে না। কখনো সেই গডফাদার স্থানীয় কোচ, কখনো টিমের মালিক, কখনো বিসিবি পরিচালক, কখনোবা প্রথম সারির মিডিয়া হাউজের প্রভাবশালী ক্রিকেট সাংবাদিক।

পরিবহন শ্রমিকের নীতিতে চলা ক্রিকেট কাঠামো থেকে তবু যে কিছু ক্রিকেটার উঠে আসে, এবং বড়ো মঞ্চে কদাচিত পারফর্ম করে, এটা অনেকটাই মিরাকল। যে কারণে আমাদের দেশের মানদণ্ডে প্রতিভাবান বিবেচিত ক্রিকেটাররা ৫-৬ বছর পরও ক্রিকেটার হিসেবে খুব বেশি গ্রো করে না; ১৪-১৫ বছর বয়সে যা শিখেছিল সেটুকু সম্বল করেই টিকে থাকার চেষ্টা করে।

এগুলো অতিচর্চিত কথা, ক্রিকেটের খোঁজ রাখা প্রত্যেকেই জানে; তবু লিখছি কেন? জানি না।

শ্রীলঙ্কা সিরিজ শেষে কী উপলব্ধি তৈরি হলো সেসব লিখি বরং।

  • অভিমত ১

বাংলাদেশ অন্তত আগামী ২০ বছরেও বোলিং নির্ভর দল হতে পারবে না, তবে ব্যাটিংয়ে উতরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারত পেস বোলার তৈরির মিশনে পেস বোলিং ফাউন্ডেশনের মতো শক্ত ভিত্তির উদ্যোগ নেয়। আমরা কী করি? ফোন কোম্পানীর স্পন্সর নিয়ে পেসার হান্ট, স্পিনার হান্ট কার্যক্রম চালাই। এগুলো মার্কেটিং স্টান্ট হিসেবে চলতে পারে, কিন্তু ক্রিকেটের জন্য কতটুকু উপকারী? ধরলাম ১৩০ কিঃমিঃ/ঘন্টা গতিতে বল করতে পারা ১০ জনকে যোগাড় করলাম সারা দেশ থেকে। এর পরের ধাপ কী; বিসিবির অধীনে প্রশিক্ষণ?

কারা সেই প্রশিক্ষক, এবং কতদিন ধরে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে? এর পরের ধাপ কী? কিন্তু বাংলাদেশে যদি একটি পেস বোলিং ফাউন্ডেশন থাকতো, যেখানে প্রাক্তন কোনো গ্রেট ফাস্ট বোলারকে খণ্ডকালীন পরামর্শক হিসেবেও নিয়োগ দিতো, সেখান থেকে কোয়ালিটি পেসার তৈরি হতো অবশ্যই। কিন্তু আমাদের পেসাররা জাতীয় দলে ঢোকার পর বোলিংয়ের বেসিক শিখে যেগুলো অন্য দেশের বোলাররা বয়সভিত্তিক দলে ঢোকার আগেই জেনে রাখে। মাঝখান থেকে বোলিং কোচের বিষোদগার করা হয়।

যেসব মাঠে খেলা হয় সেগুলোর সীমানা কতটুকু? মিরপুরের মাঠও তো আহামরি বড়ো নয়, যে কারণে ছোট মাঠে খেলে খেলে ফেইক কনফিডেন্স তৈরি হয়ে যায়। অনেক মাঠে বোলারদের স্পাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা থাকে। ফার্স্ট ক্লাস বা প্রিমিয়ারেও স্পিনারদের প্রাধান্য বেশি থাকে। আমাদের দেশে কখনোই জেনুইন টার্নার কোনো স্পিনার ছিল না, প্রায় প্রত্যেকেই স্লো-রাইট বা লেফট আর্ম অর্থোডক্স বোলার। যেহেতু ইকোসিস্টেমেই বোলার তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই, আগামী ১৫-২০ বছরেও আমাদের ব্যাটিং ডোমিনেন্ট এবং ফিল্ডিং নির্ভর দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার দিকে মনোযোগী হওয়া তুলনামূলক নিরাপদ স্ট্র্যাটেজি।

  • অভিমত

বাংলাদেশের ওয়ানডে সাফল্য বা প্রোগ্রেসে ‘৮ বছর চক্র’ আছে একটা। ১৯৯৯-২০০৭, ২০০৭-২০১৫, ২০১৫-২০২৩; এই প্যাটার্ন অনুসারে ২০২৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভালো পারপফর্ম করার কথা, এবং তার আগে-পরের বছরগুলোতেও ধারাবাহিকতা থাকা উচিত। আকরাম খান বা বুলবুল তাদের সময়ে বাংলাদেশের জন্য অনেক বড়ো নাম ছিলেন, এখনকার তামিম- সাকিবদের মতো। কিন্তু তাদের ছেটে ফেলতে বোর্ড পিছপা হয়নি, নতুন ক্রিকেটারদের সুযোগ দিয়েছে। সাকিব-মুশফিক- তামিম- আশরাফুল- মাশরাফি প্রত্যেকে দলে ঢুকেছে ২০ এর আগে৷

কিন্তু বিগত ৮ বছরে ২০ এর নিচে ক্রিকেটারদের সুযোগ পাওয়ার দৃষ্টান্ত খুবই কম। এর একটা কারণ, আগেকার অনুর্ধ্ব২০ এরা অভিজ্ঞ হয়ে দলে স্থিতিশীলতা এনেছে, যে কারণে জায়গা ফাঁকা হয়নি। তামিমদের পরের ২টি ব্যাচ যে জাতীয় দলে নির্ভরতার প্রতীক হতে পারলো না, এর কারণ সেই জায়গাহীনতা। তারা ধরেই নিয়েছে ওপেনিংয়ে স্লট নেই, কিপিংয়ে স্লট নেই, মিডল অর্ডারে স্লট নেই, এবং ওপেনিংয়ে যে একটা স্লট আছে সেটার জন্য অনেকের প্রতিদ্বন্দ্বীতা। ফলে ওই ২ ব্যাচের অধিকাংংসহ খেলোয়াড়ের মধ্যে বড়ো ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নই তৈরি হয়নি।

কিন্তু

  • অভিমত ৩

বাংলাদেশের জার্সি গায়ে আজকের ম্যাচটাই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের শেষ ওয়ানডে হওয়া উচিত। তার ইনজুরি থেকে সেরে উঠতে অপারেশনের বিকল্প নেই, এবং মাঠে ফিরতে প্রায় ১০-১২ মাস সময় লাগবে। তার এখন যা বয়স, তাতে ১ বছর পরে এসে আর জায়গা পাওয়ার যৌক্তিকতা দেখি না। সে দলে এসেছিল অফস্পিনার হিসেবে, সেখান থেকে কাজ চালানোর মতো ব্যাটসম্যান, ধীরে ধীরে মূল ব্যাটসম্যানদের একজন হয়ে উঠা, অবশ্যই অনুপ্রেরণাদায়ী ঘটনা।

কিন্তু সময় অফুরন্ত নয়, জায়গা ছাড়তেই হয় সবাইকে। মাহমুদুল্লাহ এরও সন্ধ্যা চলে এসেছে, এবার দোকান বন্ধ করা উচিত। তুষার ইমরান, শাহরিয়ার নাফিসরা যেমন ঘরোয়াতে এখনো খেলে যাচ্ছে, সেও আরো ৪-৫ বছর চেষ্টা চালিয়ে যাক৷ আমাদের জন্য ক্রিকেট বিনোদন হলেও ক্রিকেটারদের জন্য চাকরি। যত বেশিদিন কর্মক্ষম থাকা সম্ভব, উপার্জন করুক। কিন্তু জাতীয় দলে সিমপ্যাথির ন্যুনতম জায়গা নেই, ফিটনেস আর পারফরম্যান্সের বাইরে সবকিছুই মূল্যহীন।

  • অভিমত ৪

কালের কণ্ঠে একটি সাহসী প্রতিবেদন পড়লাম ‘তামিম ইকবালকে কি বাদ দেয়ার সময় হয়েছে?’ সেখানে নাজমুল আবেদিন ফাহিম স্যার, প্রাক্তন ক্রিকেটার ফারুক আহমেদ আর সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রনির অভিমত গ্রহণ করা হয়েছে। বিস্ময়কর হলো, প্রত্যেকেই বলছেন তামিমকে বাদ দিলে জটিলতা তৈরি হবে, তার জায়গায় কে খেলবে সেটা নিয়ে ভাবনার অবকাশ রয়েছে, টানা ৩ বছর ভালো খেলার পর কয়েকটা সিরিজ খারাপ করলেই তাকে বাদ দেয়ার চিন্তা করা উচিত নয়। তারা বরং তামিমকে বিশ্রামে দেয়ার পক্ষে।

একজন ওপেনার ৪ টা বিশ্বকাপ খেলেছে, কোনোটাতেই বলার মতো পারফরম্যান্স নেই, তাকে কি ৫ম বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় রাখা হবে? আপনি যদি সেই ওপেনারের নাম না জানেন নির্দ্বিধায় বলবেন, তাকে বাদ দিয়ে নতুন কাউকে চেষ্টা করা হোক। গত এশিয়া কাপে তামিম প্রথম ম্যাচেই ইনজুরিতে পড়ে, তাকে ছাড়াও দল ফাইনালে খেলেছে, বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে লিটন-সৌম্যের ওপেনিং জুটি বেশ পজিটিভ লেগেছে। পাইপলাইনে সাইফ হাসান, নাইম শেখরা আছে। এই ৪ জনের মধ্য থেকে ১ জনও কি তামিমের রিপ্লেসমেন্ট হতে পারবে না। এশিয়া কাপের ওই ইনজুরি থেকে ফেরার পরে তামিমের স্মরণীয় পারফরম্যান্স বলতে নিউজিল্যান্ড ট্যুরে টেস্টে সেঞ্চুরি।

তার ফিটনেসের যে অবস্থা, যে কোনো প্রফেশনাল কোচই তাকে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি থেকে বাদ দিতে চাইবে। তামিম বাংলাদেশী ওপেনারদের জন্য একটি বেঞ্চমার্ক সেট করে দিয়েছে, এর উপরে উঠার সামর্থ্য তার নেই। লিটন, সাইফ, নাইম, সৌম্যদের পর্যাপ্ত সুযোগ দেয়া হোক, তারা বেঞ্চমার্কের উপরেই উঠবে। তামিম এখনো স্পিনে দুর্বল, সিঙ্গেলস নিতে পারে না, ক্যারিয়ারের শুরুতে দীর্ঘদিন ২-৩টার বেশি শট ছিলো না; সেই তুলনায় লিটনরা এগিয়ে আছে। আগামীদিনে এদের প্রতিই আস্থা রাখুন। তামিমকে দলে রাখা এখন ব্যাড ইনভেস্টমেন্ট এবং নতুন কোনো ওপেনারের ক্যারিয়ারকে পিছিয়ে দেয়া।

  • অভিমত ৫

সরকার বদল হলে বিটিভিতে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিনয়শিল্পীকে কালো তালিকাভুক্ত করা হতো। বিসিবিরও উচিত একটি কালো তালিকা তৈরি করা, যাদের আর কখনোই জাতীয় দলের জন্য বিবেচনা করা উচিত হবে না। সেই তালিকায় থাকবে নাসির হোসেন, ফরহাদ রেজা, শুভাগত হোম, জিয়াউর রহমান, শফিউল ইসলাম। এবং প্রতি বছর তালিকা হালনাগাদ করা হবে। সেই হালনাগাদে নতুন নাম হওয়া উচিত মোহাম্মদ মিঠুন, রুবেল হোসেন, এবং ইমরুল কায়েস। এনামুল বিজয়কে আরো ১ বছর দেখে তারপর তাকেও কালো তালিকায় ঢুকিয়ে দেয়া যেতে পারে।

  • অভিমত

শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু শেখার আছে। সিরিজ জিতে যাওয়ায় তারা একাদশে ৪ জন নতুন খেলোয়াড়কে সুযোগ দিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেও পূর্ণশক্তির দল নিয়ে খেলেছে। সিরিজের গুরুত্বানুযায়ী যদি নতুন খেলোয়াড়দের বাই রোটেশনে না খেলানো হয়, রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তিমত্তা বুঝবেন কীভাবে?

  • অভিমত

বাংলাদেশ হোয়াইটওয়াশ হলো কেন? সহজ উত্তর চরম বাজে ব্যাটিং করেছে।বাংলাদেশের বোলিংয়ের যা সামর্থ্য তাতে ৩০০ রান অহরহই হতে পারে, কিন্তু ব্যাটসম্যানদের সেই ঘাটতি পুষিয়ে দিতে হবে। একটা দলের সব ব্যাটসম্যান রান পায় না, যে কোনো সিরিজে ২-১ জন ব্যাটসম্যানই দায়িত্ব নেয়, অন্যরা তাকে সাহচর্য দেয়। কিন্তু মুশফিক বাদে দলের প্রত্যেক ব্যাটসম্যান অফফর্মে। বিশ্বকাপেরও আগে থেকে এটা চলে আসছে।

এতো দীর্ঘ সময় ধরে অফফর্মে থাকলে সমাধান একটাই- ব্যাটিং লাইন আপ বদলে ফেলা। সাকিব-লিটন না থাকায় এখন সিদ্ধান্ত নেয়াটা সহজ হয়ে গেছে। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও নতুন মুখ প্রয়োজন। বিষয়টা দাঁড়াচ্ছে, বিশ্বকাপের দল থেকে মাত্র ৫ জন (সাকিব, মুশফিক, লিটন, মুস্তাফিজ, সৌম্য) রেখে সবাইকেই বিভিন্ন মেয়াদে বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন এক দল সাজানো।

শ্রীলঙ্কা দলটার দিকে তাকান, গত ৪ বছরে তারা প্রচণ্ড স্ট্রাগল করেছে, তাদের এখনকার দলের বেশিরভাগ প্লেয়ারই কোয়ালিটি সম্পন্ন। অচিরেই আমাদের টপকে তারা ৬ বা ৭ চলে যাবে; আমরা অষ্টম স্থান নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর আফগানিস্তানের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবো। ওয়ানডে যেহেতু কম আছে, এখনই সুযোগ নতুনভাবে দল সাজানোর।

  • অভিমত

এই সিরিজের একমাত্র প্রাপ্তি তাইজুলের বোলিং; সাকিব ফিরলেই হয়তোবা সে বাদ পড়ে যাবে। কিন্তু মিরাজের তুলনায় সে ১০০ গুণ কোয়ালিটি সম্পন্ন বোলার। টেইলএন্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবেও সে ১৫-২০ টা রান করে দিতে পারবে। তার উইকেট টেকিং এবিলিটিও মিরাজের তুলনায় বেশি।

মিরাজ যেহেতু জেনুইন ব্যাটসম্যান হিসেবে সুযোগ পাচ্ছে না, দলকে তার দেয়ার কিছু নেই আর। রফিক, রাজ্জাক, সাকিব- যদি একসাথে খেলতে পারে, সাকিব-তাইজুলও অবলীলায় চলতে পারে। মিরাজের বৈচিত্রহীন শিশুতোষ অফব্রেক দিয়ে একটা জেনুইন বোলারের জায়গা নষ্ট করাটা অপরাধের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।

  • অভিমত ৯

সৌম্যের ২ সেঞ্চুরি, ১০ ফিফটির প্রতিটিই দেখেছি, তবু এবারের ৬৯ রানের ইনিংসটাকে আলাদা রাখবো। এটা ব্যাটসম্যান হিসেবে তার ম্যাচিউরিটি বোঝাচ্ছে। তবে কোনো ম্যাচেই আমি তাকে ৪ ওভারের বেশি বোলিংয়ে দেখতে চাই না। বর্তমান সময়ের বাকি দলগুলোর ওপেনারদের দিকে তাকান, কেউ বোলিং করে না।

সৌম্য যদি নিয়মিত ৭-৮ ওভার বোলিং করে, তাকে বোলিংয়েও প্রচুর সময় দিতে হবে, এতে ওপেনার হিসেবে তার যা ভূমিকা সেখান থেকে সর্বোচ্চটা নাও পাওয়া যেতে পারে। বিস্ফোরক সৌম্যকে অনেক বেশি প্রয়োজন, অলরাউন্ডার সৌম্য সে পথে হুমকি।

  • অভিমত ১০

বিসিবি একাদশ এবং অনুর্ধ্ব ১৯ ভালো খেলছে। ‘এ’ দলের নাঈম, আফিফ রান পেয়েছে। এই ৩ দল থেকে অন্তত ৮-৯ জন নতুন ক্রিকেটারকে পরের সিরিজেই সুযোগ দেয়া হোক। আমাদের হারানোর কিছু নেই। লিটন-সৌম্যের একজন, আর সাকিব-মুশফিকের উভয়ে বা একজন পারফর্ম করলেই অনভিজ্ঞতা আড়াল করা সম্ভব হবে। সেইব৮-৯ ক্রিকেটারের তালিকায় থাকবে আফিফ, সাইফ, নাঈম শেখ, ইয়াসির, আকবর আলি, মৃত্যুঞ্জয়, ইয়াসিন আরাফাত, ইবাদত। নতুন ব্রান্ডের বাংলাদেশ অনিবার্য।

  • অভিমত ১১

বিশ্বকাপের ব্যর্থতাকে রাজনৈতিক কারণেই বিসিবি সভাপতি অস্বীকার করেছেন। শ্রীলঙ্কার ব্যর্থতাকে তিনি কীভাবে ব্যাখ্যা করেন, দেখবার অপেক্ষায় রয়েছি। সাকিবের অনুপস্থিতিই যদি ঢাল হয়, সেক্ষেত্রে দল পাঠানোর দরকার কী, এবং বাকি ১৪ জনের দলে ভূমিকা কী৷ সেই প্রশ্নটি তাকে করতে পারলে ভালো লাগতো।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।