বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের ১১ টি পর্যালোচনা

১.

আমার পর্যবেক্ষণানুসারে, ২০১৯ বিশ্বকাপে এটাই বাংলাদেশের সেরা ম্যাচ, দুই ওভার বাকি থাকতেই অল আউট হয়েছে, তবু প্রতিটি খেলোয়াড় জেতার চেষ্টা করেছে। একেই বলে পজিটিভ ইনটেন্ট। এই ম্যাচের মূল ফ্যাক্টর ছিল টস, কারণ দ্বিতীয় ইনিংসে বল ব্যাটে আসে ধীরে। এরকম পিচে ৩১৪ রান আসলে যে কোনো ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি পিচে ৩৬০ রানের সমান।

২৭০-৮০ এই পিচের জন্য আদর্শ চেজেবল টার্গেট। রোহিত শর্মার ক্যাচ মিসটাই পার্থক্য গড়ে দিল। বাংলাদেশের ব্যাটিং এখন যে কোনো বোলিং আক্রমণকেই চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। মিরপুরের উইকেটগুলো স্পোর্টিং বানালে বড়ো টুর্নামেন্টে এডভান্টেজ দিবে। এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের পরে আমাদের ব্যাটিংই সেরা এটা এখন ডেটা দিয়েও প্রমাণ করা যাবে।

২.

বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছে মুশফিক আর লিটনের আউট হওয়ার মধ্য দিয়েই। বল ব্যাটে আসছিল না, বুমরাহ-ভুবনেশ্বরের অনেকগুলো ওভার রয়ে গেছে, তাই চাহাল আর হার্দিক পান্ডিয়ার ২০ ওভারকেই টার্গেট করা হয়েছিল। কিন্তু স্লো পিচের সুবিধা নিয়ে পান্ডিয়া দুর্দান্ত মাথার ব্যবহার করেছে। রোহিত শর্মার চাইতে পান্ডিয়াকেই ম্যাচ সেরা বলবো। সৌম্য, লিটন, সাকিব- যে তিন জন বিপজ্জনক হতে পারতো প্রত্যেকেই তাঁর স্লোয়ারে বিভ্রান্ত হয়ে উইকেট দিয়েছে, যদিও সৌম্যের আউটটাকে পিচের চাইতে নিজের দোষ হিসেবেই দেখবো।

মুশফিক আর লিটন ঝুঁকি নিয়েছিল, এরকম ক্ষেত্রে ভাগ্যের সহায়তা লাগে, আজ পায়নি। তাদের ইনটেন্ট ঠিকই ছিল। তবে ২২ আর ২৪ করা মানে পিচের চরিত্র আপনি বুঝে গেছেন৷ সেই সময়ে স্লোয়ারে বিভ্রান্ত হওয়া ক্রাইমের পর্যায়ে পড়ে। বিশেষত ২ বল আগেই লিটন ছক্কা হাঁকিয়েছিল। গ্যালারির হাততালির লোভে ছক্কা মারলে আবারো ছক্কা ট্রাই করতে যাওয়াটা ইম্যাচিউরিটি। আশা করি, লিটন নিজের উইকেটের মূল্য বুঝবে।

৩.

বিশ্বকাপের বহু আগে থেকে বলে আসছি মিরাজ আর সাইফউদ্দিনকে একত্রে একাদশে রাখাটা দলের জন্য ক্ষতিকর, তাদের বাই রোটেশনে খেলানো উচিত। অষ্টম ম্যাচে এসে সেই নীতি বাস্তবায়িত হলো। সাইফুদ্দিনের ব্যাপারে আমার বক্তব্য প্রথম থেকেই স্পষ্ট: সে চতুর্থ বা পঞ্চম বোলার হিসেবে খেলবে এবং ৭-৮ এ ব্যাট করার উপযুক্ত হবে। এবার অনেকটা সেরকম প্লেয়িং রোল ছিল, তবু তাকে ২ নম্বর বোলার হিসেবে খেলানোর নিন্দা জানাই।

বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে বিগত ১০ বছরের মধ্যে প্রথম সত্যিকারের প্রতিরোধ দেখলাম বোধহয়। সাইফুদ্দিনের এমন ব্যাটিং সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশ্বকাপের পরে তার প্লেয়িং রোল বদলের ব্যাপারে টিম ম্যানেজমেন্ট আরো চিন্তাশীল হবে আশা করি। আমরা যদি দুইজন ফ্রন্টলাইন পেসার, একজন ফ্রন্টলাইন স্পিনার, আর অলরাউন্ডার সাকিবকে খেলাই, স্টক বোলার হিসেবে সাইফউদ্দিন তার প্লেয়িং রোলে মানিয়ে যাবে।

৪.

ইনিংসের শুরুতে সৌম্যের অতিরিক্ত নার্ভাসনেসে ভোগার কারণ পেলাম না। সে যদি প্রথম ওভার থেকে এটাকিং খেলতো তাতে হয়তোবা প্রথম ১০ ওভারে ১টা উইকেট পড়তো, তবু প্রথম পাওয়ারপ্লেতে ১৫টা রান বেশি আসতো। এসব সূক্ষ্ম ব্যাপারগুলোই স্থূল হয়ে উঠে।

আমি সৌম্যকে নিয়ে আশাবাদী ছিলাম অন্তত তিন টা ম্যাচে সে বিস্ফোরক ব্যস্টিং করবে, সে করতে পেরেছে ০.৫ বা হাফ টি ম্যাচে (দক্ষিণ আফ্রিকা)। আমি তাতে হতাশ নই, তবে তার পার্টনার তামিমের মতোই রানিং বিটুইন দ্য উইকেট আর সিঙ্গেলস বের করার ক্ষেত্রে বড়ো রকম সমস্যা আছে তার। এটা নিয়ে কাজ না করলে প্রথম ১০ ওভারের ব্যাটসম্যান তকমা নিয়ে থাকতে হবে। আজকের ম্যাচে তার আউটটাই সবচাইতে দৃষ্টিকটু লেগেছে।

৫.

আয়ারল্যান্ড ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে বিশ্বকাপের ৭ ম্যাচ- সর্বমোট ৯ ম্যাচে ৪ বার প্লেইড অন হলো তামিম ইকবাল। আর যদি ডাউন দ্য উইকেটে এসে বা পুল করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেয়ার আউট বিবেচনায় নিই, তাহলে ৮ ম্যাচে ৩ বার। তার মানে তামিমের আউটগুলো প্যাটার্নে পড়ে যাচ্ছে। এটা বিরক্তিকর। বাউন্ডারি লাইনে তামিম সারা ক্যারিয়ারে এত বেশি দর্শনীয় ক্যাচ ধরেছে যে আজকের ক্যাচ মিসটাকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখি।

কিন্তু, আমি বিরক্ত তার প্রেসার নিতে না পারার অক্ষমতা আর মডার্ন ওয়ানডে ক্রিকেটের উপযোগী ব্যাটিং করতে না পারার প্রতি। মানসিকভাবে এত দুর্বল ওপেনার দিয়ে কখনোই চেইজ করতে পারবেন না। আজ মাহমুদউল্লাহ খেলেনি তাতে কিছুই হয়নি, তামিমকেও যদি আগামী ২ বছরের মধ্যে ওয়ানডে থেকে রিপ্লেস করা হয় কিচ্ছুটি প্রভাব পড়বে না। আমরা ক্রিকেটারের নাম নিয়ে চিন্তা না করে বৈশিষ্ট্য নিয়ে ভাবি বরং।

৬.

রুবেল আজ প্রথম ৩ ওভার এলোমেলো থাকলেও পরের দিকে বেশ কিছু কোয়ালিটি ডেলিভারি দিয়েছে। টুর্নামেন্টের প্রথম থেকে খেলালে তার আরো বেশি কনফিডেন্স থাকতো। আমার অনুমান ছিল, মিরাজ হয়তোবা কেবলমাত্র দক্ষিণ আফ্রিকা নিউজিল্যান্ড ম্যাচে সুযোগ পাবে, বাকি ম্যাচগুলোতে ৪ পেসার খেলানো হবে। স্কোয়াডে পেসারের আধিক্য দেখে তা আরো প্রবল হয়েছিল।

কিন্তু, মিরাজকে সব ম্যাচে দেখে একটা কথাই বলবো, নির্বাচক আর টিম ম্যানেজমেন্ট চরম শিশুতোষ কাজ করেছে। যদি সব ম্যাচেই স্পিনার খেলানোর পরিকল্পনা থাকে, তবে ১৫ তম সদস্যটি রাহি না হয়ে নাইম হওয়া উচিত ছিল অবধারিতভাবে৷ কারণ, মিরাজ খারাপ করলেও কোনো ব্যাক আপ স্পিনার নেই। রুবেলকে প্রথম থেকে না খেলানোটা কোচের এক নম্বর ভুল ছিল।।

৭.

মুস্তাফিজ ৫ উইকেট পেয়েছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচেও ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছিল। তবু মোস্তাফিজের প্রতি অভিযোগ রয়েছে আমার। গত ৪ বছরে তার যতটুকু গ্রোথ হওয়ার কথা ছিল সে একই জায়গায় পড়ে আছে। যে কারণে পারফরম্যান্সে কোনো নির্ভরযোগ্যতা নেই। বুমরাহ প্রতি ম্যাচে উইকেট পায় না, কিন্তু আমরা জানি সে ন্যুনতম একটা বেঞ্চমার্ক বজায় রাখবে প্রতি ম্যাচে, কোনো কোনোটায় প্রতিপক্ষকে ধ্বসিয়ে দিবে।

মুস্তাফিজের সম্ভাবনা ছিল সেরকম মানের বোলার হওয়ার, কিন্তু একাদশে জায়গা নিয়ে চ্যালেঞ্জ না থাকায় সে গুড থেকে বেটার বোলার হওয়ার কোনো চেষ্টাই করে না। বিশ্বকাপে সে ১৫টা উইকেট পেয়েছে, কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর আজকের ম্যাচ ছাড়া বাকি আটটা উইকেট খুব ম্যাচে ইমপ্যাক্ট রাখার মতো ছিল না।

৮.

ক্যাচ মিস, রান আউট মিস বা ১ ওভারে ২০-২৫ দেয়া প্রভৃতি খেলারই অংশ। কিন্তু আমাদের ফিল্ডিংয়ে এরকম ১-২ টা ঘটনা ঘটলে দলের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ নেগেটিভ হয়ে যায়, সেই ট্রমা থেকে আর বের হতে পারে না। এটা ক্রিকেটের স্পিরিটের সাথে যায় না৷

বাজে বোলিং-ফিল্ডিং করেও বহু দল ম্যাচ জিতে যায়, আমাদের প্লেয়ারদের ২-১টা ফিল্ডিং দেখলেই অনুমান করে নেয়া যায় আজ আমরা হারবো, নাকি জিতবো। খেলাটাকে যতক্ষণ খেলা মনে করতে না পারবো এই ব্লকনেস থেকে বের হতে পারবো না। প্রত্যেক ক্রিকেটারকে বছরে অন্তত ১ বার আর্মি ট্রেইনিং দেয়া উচিত, এটা মেন্টাল টাফনেস বাড়াতে হেল্পফুল হবে। আগেও লিখেছি কথাটা। ২০০৭ বিশ্বকাপের আগে বিসিবি থেকে ক্যাম্প করানো হয়েছিল।

৯.

আমরা বিপদে পড়লে শিখি, সময় থাকতে বুঝি না। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ায় লং টার্মের জন্য ভালো হয়েছে। বিসিবি এবার কিছুটা হলেও চিন্তা করবে। আবার নাও করতে পারে। তবে কোনো কারণে আমরা যদি পেছনের দরজা দিয়ে সেমিতে চলে যেতাম, এই অমার্জনীয় ভুল স্ট্র‍্যাটেজিগুলোই বৈধতা পেয়ে যেত। তার চাইতে বিসিবি যদি ৩% চিন্তাশীল হয় সেটা একটু হলেও পারফরম্যান্স বৃদ্ধি করবে।

১০.

আমার লেখা বহু ক্রীড়া সাংবাদিক পড়েন। তাদের প্রতি অনুরোধ, সম্ভব হলে মাশরাফিকে তারা যেন জিজ্ঞেস করেন, ঠিক কী কারণে বিশ্বকাপের ৭ ম্যাচের মধ্যে ৬টিতেই তিনি বোলিং কোটা পূরণ করেননি? ১-২ ম্যাচ কৌশলগত কারণে মিস হতেই পারে, তাই বলে ৬টা ম্যাচ! আপনি দলের ১-২ নম্বর বোলার, যদি মাত্র ২ জন বোলার বোলিং কোটা পূরণ করে সেটা হবেন আপনি। অস্ট্রেলিয়া কামিন্সের কোটা পূরণ করলো না, পাকিস্তান ওয়াহাব রিয়াজকে ৫-৬ ওভার করিয়ে বসিয়ে রাখলো, নিউজিল্যান্ডের ক্ষেত্রে হেনরির ওভারও অপূর্ণ থাকলো, এবং এটা পুরো টুর্নামেন্টেই।

আপনিই বলুন সেই দলের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী। উইকেট না-ই পেতে পারেন, বহু গ্রেট বোলারই ৮-১০ ম্যাচ উইকেট পায়নি। কিন্তু আপনি বোলিং কোটা কেন পূরণ করলেন না? সৌম্যের মতো ওপেনিং ব্যাটসম্যান ৪ উইকেট পেল, আপনি কোটাই পূরণ করেন না; বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন লজ্জাজনক ক্যাপ্টেন্সি আমি দেখিনি।

২০১৩ পর্যন্ত আপনি ছিলেন বাংলাদেশে আমার সবচাইতে পছন্দের ক্রিকেটারের তালিকায় ২ নম্বরে, কিন্তু ২০১৫ থেকে মিডিয়াবাজিতে যেভাবে ঢুকে পড়লেন তাতে আপনার প্রতি পছন্দ কিছু কমেনি, কিন্তু বিশ্বকাপে যা করলেন, আগামী ৪০ বছরেও ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে তা ভোলা সম্ভব নয়।আশরাফুলের ফিক্সিংয়ে যতটা ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম, আপনার এরকম আনস্পোর্টিং এবং সেলফিশ এটিচুডে ক্ষুব্ধতার পরিমাণ তার চাইতে মাত্র ৭% কম।

পুরো বিশ্বকাপেই যে বাংলাদেশ ১০ জন নিয়ে খেললো, এই দায় কীভাবে অস্বীকার করবেন! বাংলাদেশে যে ২ জন ক্রিকেটারকে ( আশরাফুল, মাশরাফি) সবচাইতে পছন্দ করতাম, তারাই বিব্রত করলো সবচাইতে বেশি। এটা ক্রিকেট পর্যবেক্ষক হিসেবে চরম বেদনার। স্যরি মাশরাফি।

১১.

সাকিব এবার বিশ্বকাপে যা খেললো তা বিশ্বকাপ ইতিহাসই কখনো দেখেনি। তবু ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট না হতে পারাটা ক্রিকেটের জন্য বেদনাদায়ক। এমন অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের পরও বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ এলোমেলো দক্ষিণ আফ্রিকা, এলোমেলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর দুর্বল আফগানিস্তানকে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকায় ষষ্ঠ বা সপ্তম হয়ে আসর শেষ করেছে।

যেহেতু পারফরম্যান্স সত্ত্বেও দলীয় অবস্থান তলানীতে, আইসিসি চাইলেও হয়তোবা তাকে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট দিতে পারবে না, টানা দ্বিতীয়বার মিচেল স্টার্ক বা প্রথমবারের মতো বেন স্টোকস এটি নিয়ে নেবে দলীয় পারফরম্যান্সের কারণে। এমন বিকল বোলিং ইউনিট আর অদক্ষ কোচের অধীনে সেমিতে যাওয়ার চিন্তাটা কেবল অসম্ভব নয়, অপরাধ হতো। তবু নিজের জীবনের শ্রেষ্ঠতম পারফরম্যান্সটা সে যেখানে এবং যেভাবে দেখালো, তাতে অন্যতম ওয়ানডে গ্রেটেস্ট হিসেবে তাকে এখন ক্রিকেট বোদ্ধাদের সবাই মেনে নিবে এটা নির্দ্বিধায় বলতে পারি।

যাদের আমরা গ্রেটেস্ট অলরাউন্ডার হিসেবে মান্য করি এরা হয় ব্যাটসম্যান, সাথে বোলার, অথবা বোলার সাথে ব্যাটসম্যান ছিলেন। ক্যালিস, সোবার্স, বোথাম, কপিল, ইমরান, কেয়ার্নস, জয়াসুরিয়া প্রত্যেকের জন্য কথাটা সমান প্রযোজ্য৷ কিন্তু দলের প্রাইম ব্যাটসম্যান এবং প্রাইম বোলার এমন ক্রিকেটার ইতিহাসেই কেউ ছিল না। এবারের বিশ্বকাপ সেই ফ্যাক্টটাই সুপ্রতিষ্ঠিত করলো। ক্রিকেট পর্যবেক্ষক হিসেবে এটা অন্যতম আনন্দের ঘটনা। পরের ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে তাঁর স্বপ্নযাত্রার সফল পরিসমাপ্তি ঘটুক।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।