৯৯-এর কথা মনে পড়ে, নান্নু ভাই?

মিনহাজুল আবেদীন নান্নুকে বলা হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে অবহেলিত ক্রিকেটারদের একজন। তার সময়ের তো বটেই বাংলাদেশের ইতিহাসেই সবচেয়ে ক্লাসিক ব্যাটসম্যানদের একজন ছিলেন তিনি। অথচ, কখনোই টেস্ট খেলার সুযোগ হয়নি তার।

তাই একটা আক্ষেপ, একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে শেষ হয় তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে নর্দাম্পটনে সেই ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচটাই তাই নান্নু’র শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

অথচ সেই বিশ্বকাপের আগে ৩০ জনের প্রাথমিক তালিকাতেও ছিলেন না এই নান্নু। দল ঘোষণার আগে যে প্র্যাকটিস ম্যাচটি আয়োজন করা হয়, তাতে তিনি খেলেছিলেন ১৩০ রানের এক অনবদ্য ইনিংস। তারপরও কেন নেই নান্নু? – এই প্রশ্নে নীরব ছিল তৎকালীন নির্বাচকরা।

সরব ছিল কেবল দেশের মিডিয়া। তখন ফেসবুক ছিল না। গাদাখানেক টেলিভিশন চ্যানেল ছিল না। অনলাইন পোর্টালের নামও তখন দেশের মানুষ জানতো না। সেই অবস্থাতে এই নান্নুকে দলে ফেরাতে এক জোটে মাঠে নেমেছিলো দেশের সব মিডিয়া।

পথটা সহজ ছিল না। অনেক তুলকালামের পর সেদিনের নির্বাচকরা পিছু হটেছিলেন। দলে ফিরেছিলেন নান্নু। বাকিটা ইতিহাস। ইংল্যান্ডের সেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পারফরমার ছিলেন নান্নু। স্কটল্যান্ডকে এক হাতে হারিয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মত কোনো বাংলাদেশির হাতে উঠেছিল ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

বিশ্বকাপের বছরখানেকের মাথায় টেস্ট খেলে ফেলে বাংলাদেশ। সেবার আর লড়াইটা চালিয়ে যেতে পারেনি দেশের মিডিয়া। সেই চেপে রাখা ক্ষোভটাই এখন মুমিনুল হকের ওপর উগরে দিচ্ছেন।

২২ টেস্টের ক্যারিয়ারে ৪৬.৮৮ গড়ে তিনি চারটি সেঞ্চুরি ও ১১ টি হাফ সেঞ্চুরির সৌজন্যে যার ১৬৪৮ রান, তাকে শেষ তিন-চার টেস্টের হালকা অফফর্মের দোহাই দিয়ে বাদ দেওয়া যায়। এত স্বস্তা!

ভুল না করলে বলা যায়, এই নান্নুর পর মুমিনুলই টেকনিক্যালি বাংলাদেশের সবচেয়ে সলিড ব্যাটসম্যান। তাকে বাদ দিয়ে তো নিজের অবস্থানেই দাঁড় করালেন নান্নু। প্রধান নির্বাচক হয়ে এতটুকু গাটস আপনি দেখাতে পারতেন না?

মুমিনুলকে বাদ দেওয়া সেদিন নান্নুকে বাদ দেওয়ার চেয়েও ভয়ঙ্কর এক সিদ্ধান্ত ছিল। এই ভুলের দায় ইতিহাস ক্ষমা করবে না।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, লিটন দাস, শফিউল ইসলাম, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহেমদ, নাসির হোসেন।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।