৩৩৫.২ ওভারে ৯০৩/৭ ও ব্র্যাডম্যানের অনুপস্থিতি

তখনও জো হার্ডস্ট্যাফ ১৬৯ রানে অপরাজিত। সঙ্গে হেডলি ভেরিটি আট রানে দারুণ সঙ্গ দিচ্ছিলেন হার্ডস্ট্যাফ জুনিয়র কে। খেলা চলছিল টেস্টের ৪র্থ দিনের। ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ৩৩৫.২ ওভারে ৯০৩/৭!

ডন ব্রাডম্যান তার ওভারের তৃতীয় বলটি করার জন্য দৌড় শুরু করবেন, ঠিক তখনই ড্রেসিংরুম হইতে ইংলিশ অধিনায়ক ওয়ালি হ্যামন্ডের বার্তা এল ইনিংস ডিক্লারেশনের। তৃতীয় বলটা আর করা হয়নি ব্রাডম্যানের

তখনও পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচের আইন চালু হয়নি। দুদল যতদিন পর্যন্ত খেলতে পারে খেলুক; এই ধারাতেই টেস্ট খেলা চলত তখন। কিন্তু ওইদিন চতুর্থ দিনের খেলা চললেও ইংলিশ অধিনায়ক ওয়ালি হ্যামন্ড চাইছিলেন না যে আর সময় নষ্ট করুক তারা।

এমনিতেই ৯০৩ রান করাতে ক্রিকেট মহলে চলছিল নানান কানাঘুষা। লেন হুটোন ওই ইনিংসে করেছিলেন ৩৬৪ রানের বিশ্ব রেকর্ড! হুটোনের ওই ইনিংসের মাঝে মিলি নামের এক মেয়ে ভক্ত এই ক্রিকেটারের প্রতি বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। ইংলিশ দৈনিক পত্রিকা ‘দ্যা আর্গুশ’ প্রকাশ করেছিল –

মিলি: আপনি কি বিবাহিত?

হুটোন: না।

মিলি: তবে কি এঙ্গেজড?

 

হুটোন: না, আসলে এগুলোর কোনোটার প্রতিই আমার আগ্রহ নাই। আমি একটা বাচ্চা মাত্র।

হঠাৎ মাঠের ভিতরে কেমন যেন একটি আনন্দের উচ্ছ্বাস দেখা গেল। হুটোন ডাকওয়ার্থের পিছু পিছু হাটতে শুরু করলেন এবং বললেন,

হুটোন: কি হয়েছে? কেউ আমার রেকর্ড অতিক্রম করেছে কি?

ডাকওয়ার্থ: নাহ! ওই যে ডন ব্র্যাডম্যান বল হাতে নিয়েছেন বল করার উদ্দেশ্যে!

ইংলিশদের থামাতে না পেরে অসহ্য হয়ে অধিনায়ক ব্র্যাডম্যান নিজেই বল হাতে নিয়েছিলেন। ফল পাননি, ২.২ ওভার বল করে ৬ রান দিয়ে উইকেটশূন্যই ছিলেন। তবে কাজের কাজ হয়েছিল তখন। ব্রাডম্যান বল হাতে নেবার ১০ মিনিটের মাথায় ইংলিশরা ৯০৩/৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করে।

ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৩৮ সালের ২৩ আগস্ট। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ড জয় পায় ইনিংস ও ৫৭৯ রানের বিশাল ব্যাবধানে! অস্ট্রেলিয়া করে ২০১ ও ১২৩ রান! জানিয়ে রাখা ভাল, অস্ট্রেলিয়ার দুই ইনিংসেই ডন ব্র্যাডম্যান সেদিন অনুপস্থিত ছিলেন অসুস্থতার কারণে।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।