১৯৫৭ থেকে ২০১৭: আকাশ পথের সদা হাস্যোজ্জ্বল মুখ

বোস্টন থেকে ওয়াশিংটন। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ২১৬০ নম্বর ফ্লাইটটা মাত্রই রানওয়ে ছুঁলো। ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট বেটেল ন্যাশ যাত্রীদের গুছিয়ে এগিয়ে দিচ্ছেন। সবাই এসে ন্যাশকে এগিয়ে ধরছেন, কেউ বিনয়ের সাথে ধন্যবাদ বলছেন, কেউ সেলফি নিচ্ছেন। সব কিছুর মূলে আছেন এই ন্যাশ।

থাকবেন নাই বা কেন! বেটেল ন্যাশ আক্ষরিক অর্থেই এক তারকা। ছয় যুগ হল তিনি ঠিক একই ভাবে যে আকাশপথ পাড়ি দিচ্ছেন। আজো ঠিক প্রথমদিনটির মত অতিথিদের হাসি দিয়ে বরণ করে নেওয়ার ভঙ্গীটা যে একটু মলিন হয়নি।

আগের মত কাজের প্রতি পেশাদারিত্ব না পাল্টালেও এই সময়ে পাল্টেছে ন্যাশের জীবন। সাধারণ একজন অ্যাটেনডেন্ট থেকে তিনি হয়ে উঠেছেন সেলিব্রিটি।

কেন্ড্রা টেইলর নামের এক যাত্রী তো ন্যাশকে দেখে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। অভিভূত চোখ নিয়ে বলে উঠলেন, ‘ওহ মাই গড! গত সপ্তাহেই না ওকে টিভিতে দেখলাম। আজ ও আমার সামনে!’

ন্যাশ হলেন অ্যামেরিকান এয়ারলাইন্সে সবচেয়ে লম্বা সময় ধরে কাজ করা ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট। তিনি কাজে যোগ দেন সেই ১৯৫৭ সালে। হ্যা এটাই সেই সময়ের কথা যখন মাত্র ১২ ডলারে বিমানের টিকেট পাওয়া যেত, বিমানের  সময়সূচি ব্ল্যাকবোর্ডে চক দিয়ে লেখা থাকতো।

আমেরিকায় সাধারণত পাইলটদের ৬৫ বছর বয়সে গিয়ে বাধ্যতামূলক অবসরে যেতে হয়। কিন্তু, বানিজ্যিক ফ্লাইটের অ্যাটেনডেন্টের ক্ষেত্রে এমন কোনো বাধাধরা নিয়ম নেই। পৃথিবীর ইতিহাসে তারপরও ন্যাশের মত বয়স্ক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট আছেন কি না সন্দেহ!

ন্যাশের এই বয়সেও এই কাজটা করে যাওয়ার পেছনে নিশ্চয়ই প্যাশন আর কঠোর পেশাদারিত্ব-ইচ্ছাশক্তি আছে। তবে, নি:সন্দেহে কাজটা করা সহজ নয়। আর তার বয়সটা মাথায় রেখে বলা যায় নিয়মিত অতিমানবীয় এক কাজ করে যাচ্ছেন ন্যাশ।

তার নিজের মুখেই চলুন তার দৈনিক সূচিটা জেনে নেই, ‘আমার দিন শুরু হয় রাত দুইটা বেজে ১০ মিনিটে। আমার দু’টো অ্যালার্ম ঘড়ি আছে। ওরা বেজে উঠলে আমি আর শুয়ে থাকি না।’

ভার্জিনিয়ার থাকেন ন্যাশ। সকালে উঠেই তিনি একমাত্র ছেলের জন্য খাবার তৈরি করেন। তার সন্তান শারীরিক ভাবে অক্ষম। নিজের অধিকাংশ কাজই সে একা করতে পারে না।

তরুণী ন্যাশ

আর কতদিন এভাবে কাজ করবেন? ন্যাশের জবাব, ‘অন্তত ৯০ বছর অবধি কাজটা করে যেতে চাই। তখন অবসরে যাওয়ার কথা ভাববো। এর বেশি কিছু ভাবতে চাই না।’

ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় দিন কোনটি। একবার আমেরিকার রাজনীতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কেনেডিদের সাথে বিমানে চড়ার সৌভাগ্য হয়েছিল ন্যাশের। তিনি বলেন, ‘আমার ফ্লাইটে সেদিন জ্যাকি কেনেডি ছিল। আরো ছিল ববি কেনেডি, এথেল কেনেডি ও টেড কেনেডি।’ তাদের লবস্টার আর মাংসের রেসিপি খাওয়ানোর স্মৃতি আজো মনে আছে ন্যাশের।

চলতি বছরের শেষ দিন ন্যাশের ৮২ তম জন্মদিন। জীবন থেকে চলে গেল আরেকটি বছর। সেসব অবশ্য তার ভাবনাতেই নেই। বয়সটা যে স্রেফ একটা সংখ্যা, সেটা অনেক আগেই প্রমাণ করা হয়ে গেছে তাঁর!

– ডেইলি মেইল ও চায়না গ্লোবাল টিভি নেটওয়ার্ক অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।