নিজেকে হিমু ভাবতেন হুমায়ূন? লজিক কী বলে?

লজিক কী বলে?

শিক্ষক হিসেবে ড. হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন একজন লজিক্যাল লোক। ক্লাসে পড়ানোর আলাপে তার মুদ্রাদোষ ছিল, লজিক কী বলে? প্রায় প্রতিটা আলাপে তিনি এই প্রশ্নটা ব্যবহার করতেন। যে কোন প্রশ্নের উত্তর লজিকের সহায়তার খুঁইজা নেয়া ছিল তার প্র‍্যাকটিস।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এইরকম এক কেমিস্ট্রির ক্লাসে আইনস্টাইন ও রবীন্দ্রনাথ নিয়া আলাপ উঠলো। আইনস্টাইন আগে নোবেল পাইছেন নাকি রবীন্দ্রনাথ, একজন স্টুডেন্টের এমন একটা প্রশ্ন নিয়া আলোচনা চলতে থাকে।

তখন হাতে হাতে গুগল ছিল না। রবীন্দ্রনাথের নোবেল ১৯১৩ সালে, এই তথ্য সকলেই জানেন। কেমিস্ট্রির ছাত্ররা আরও জানেন যে, থিওরি অব রিলেটিভিটি ১৯০৫ সালে পাবলিশড হইছে। কিন্তু, আইনস্টাইন কত সালে নোবেল পাইলেন এইটা আর ক্লাসে কেউ মনে করতে পারতেছেন না।

হুমায়ূন প্রশ্ন রাখলেন, লজিক কী বলে?

যেহেতু থিওরি অব রিলেটিভিটি (যদিও থিওরি অব রিলেটিভিটি’র জন্য আইন্সটাইন নোবেল পান নাই। পেয়েছিলেন ফটো-ইলেক্ট্রিক তত্ত্বের জন্য।)  রবীন্দ্রনাথের নোবেল পাওয়ার অনেক আগেই পাবলিশ হইছে, ফলে আইনস্টাইন রবীন্দ্রনাথের আগেই নোবেল প্রাইজ অর্জন করছেন বইলা দাবী করলেন হুমায়ূন।

কিন্তু এই লজিক মানতে রাজি ছিলেন না সেই ক্লাসের এক ছাত্র, জহির হাসান, যিনি নব্বই দশকের একজন কবি। তিনি দাবী করলেন, আইনস্টাইনের নোবেল রবীন্দ্রনাথের অনেক পরে। যদিও এই তথ্যের পক্ষে তিনি তেমন কোন রেফারেন্স হাজির করতে পারেন নাই।

শিল্পীর তুলিতে আঁকা হুমায়ুন আহমেদ

তো, জহির ভাইয়ের অযৌক্তিক দাবীর বিপক্ষে প্রচন্ড রিএক্ট করেন এই কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক। ব্যক্তিগতভাবে, লজিকের বিপক্ষে কোনকিছুই মানতে পারতেন না তিনি। রাগী স্বভাবের কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বিখ্যাত ছিলেন।

এই লজিক মানতে না পারা হুমায়ূন আহমেদ সৃস্টি করেন বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় অযৌক্তিক চরিত্র হিমু। ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি খুঁইজা বাইর করলেন পৃথিবীর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ক্যান্সার ট্রিটমেন্টের হাসপাতাল, যেইখানে বিফলতার হার মাত্র এক পার্সেন্ট। রেয়ার। লজিক্যাল হুমায়ূন পত্রিকায় লেইখা দিলেন, তিনি নিশ্চয়ই ওই এক পার্সেন্টের মধ্যে পরবেন না।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, হুমায়ুন আহমেদ আর নিরানব্বইজনের মতো ছিলেন না। পৃথিবীতে হুমায়ূনরা এক পার্সেন্টই জন্মায়। ফলে, সার্জারি সফল হওয়ার পরও ওই হাসপাতালেই ২০১২ সালের ১৯ জুলাই তিনি অত্যন্ত অযৌক্তিকভাবেই মারা যান।

কবি জহির হাসান পরবর্তিতে আবিষ্কার করেন যে, তার তথ্যই ঠিক। আইনস্টাইন ১৯২১ সালে নোবেন পান, রবীন্দ্রনাথেরও অনেক পরে।

হুমায়ূন মারা যাওয়ার আগে কি তথ্যটা জানার চেস্টা করছিলেন? মনে হয় করেন নাই। লজিকে তার অগাধ আস্থা ছিল।

অথচ তারপরও আমরা দেখি, মৃত্যুর অল্পকিছুদিন আগে নুহাশপল্লীতে গিয়া গাছ জড়ায়া ধইরা বইসা আছেন হুমায়ুন আহমেদ। কেননা, হিমু বিশ্বাস করে, গাছ মানুষের শরীর থেকে সকল রোগ নিজ অঙ্গে ধারন করার মধ্যে দিয়া রোগমুক্তি ঘটায়।

হুমায়ূন কি নিজেকে অযৌক্তিকভাবেই হিমু মনে করতেন? লজিক কী বলে?

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।