হিউজি, মিরপুর টেস্ট দেখছেন কী?

সেই ইনিংসটা যদি ওভাবে শেষ না হতো? বেয়ারা বলটা যদি ওভাবে না লাফাতো? হয়তো সেদিন দারুণ একটা ইনিংস খেলা হতো। হয়তো ওই ইনিংসটা সামনের পথটাকে সহজ করে দিতো। কে জানে, আবার হয়তো ফিরতেন! ভারতের বিপক্ষে ওই সিরিজটাতে ফিরতে পারতেন না বোধহয়। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরটাতে হয়তো যেতেন। দলে ফেরার খবরটাও টুইটারে জানিয়ে দিতেন হয়তো।

বেশ কয়েকদিন পর দলে ফেরা, একটু নার্ভাস তো থাকাই স্বাভাবিক। না, নার্ভাসনেসটা বোধহয় সেদিনও কাজ করতো না। দলের বেশিরভাগ ব্যাটসম্যানের মতো হয়তো ওই ২০-২৫ করেই আউট হতেন, তবে নার্ভাস হতেন না। নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির এক রান আগে, ৯৯ রানে দাঁড়িয়ে যিনি পল হ্যারিসকে মিড উইকেটের উপর দিয়ে উড়িয়ে মারতে পারেন, তার সাথে ‘নার্ভাসনেস’ শব্দটা যায় না। দ্বিতীয় টেস্টটায় হয়তো একটা ভালো ইনিংস খেলতেন। স্মিথের সাথে জুটি গড়ে একটা ফিফটি হয়তো।

অ্যাশেজটা কি খেলতেন? হয়তো। প্রথম দুইটা ম্যাচে হয়তো রান পেতেন না। আরও একবার কি বাদ পড়া? হয়তো। দমে যেতেন না অবশ্যই, সেটা যে ধাঁতে নেই। জাতীয় দলে ফেরার জন্য তিনি সব করতে পারেন, ‘সব’। এটা নিজে তো বলেছেনই, বলেছেন তার সতীর্থরাও। তাই আবারও ফিরতেন, ঘরোয়াতে রানের বন্যা বইয়ে। সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই বিপক্ষে, হোম সিরিজে। তিন টেস্টে হয়তো দলের সেরা ব্যাটসম্যানই হয়ে যেতেন। শর্ট বলে দুর্বলতাটা ততদিনে অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটো টেস্টেও হয়তো ব্যাট কথা বলতো।

শ্রীলংকায় একটা সেঞ্চুরি ছিল, ২০১১ সালে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জোড়া সেঞ্চুরি বাদে টেস্টে তার সেঞ্চুরি আর ওই একটাই। পাঁচ বছর পর আবারও লংকায় গিয়ে আরেকটা সেঞ্চুরি হয়তো পেতেন না, পেতেন হোয়াইটওয়াশের কষ্ট। ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ হারটাও হয়তো নাড়িয়ে দিতো প্রচন্ডভাবে। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন টেস্ট সিরিজে হয়তো দুটো ভালো ইনিংস খেলে ফেলতেন। একটা হয়তো তিন অংকে যেতো, আরেকটা হয়তো ৭০-এর ঘরে। চার ইনিংসে ৫৫ গড় খারাপ না তো! ভারত সফরে জায়গাটা হয়েই যেতো। চার টেস্ট সিরিজে দলের বেশিরভাগ ব্যাটসম্যানের মতোই বিপাকে পড়তেন। এরমধ্যেই হয়তো মোহালির ওই ৬৯ রানের ইনিংসের মতো একটা ইনিংস খেলে ফেলতেন।

এরপর? বাংলাদেশ সফরে আসতেন কি? আসতেন হয়তো। একদিন হয়তো প্রেস কনফারেন্সে পাঠানো হতো তাকে। সামনে দেখে খানিকটা রোমাঞ্চিত হতাম। মাইকেল ক্লার্ক যাকে নিয়ে বলেন, ‘সে একদিন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১০০ টেস্ট খেলবে’, তাকে দেখে রোমাঞ্চিত হতে হয়। প্রশ্ন করতাম কি? করতাম হয়তো একটা। ড্রেসিংরুমের ‘পিচ্চি’ থেকে বর্তমান দলের অন্যতম সিনিয়র সদস্য হওয়া বা ক্যারিয়ারের রোলারকোস্টার রাইড – আট বছরের ক্যারিয়ারটা সম্পর্কে তার নিজের মূল্যায়নটা হয়তো জানতে চাইতাম।

প্রশ্নটা করা যেতো- সেই ইনিংসটা যদি ওভাবে শেষ না হতো, বেয়ারা বলটা যদি ওভাবে না লাফাতো। মাঝেমাঝে মাঠে ওই এগারোজন ভিনদেশীর মাঝে তাকে খুঁজি, ছোটখাটো গড়নের ওই ক্রিকেটারকে। দেখতে পাই না। প্রেসবক্স থেকে অনেকখানি আকাশ দেখা যায়। সেই আকাশের দিকে তাকাই। জানি, নিঃসীম ওই আকাশের কোন এক জায়গা থেকে ফিল হিউজও তাকিয়ে আছেন। মিরপুরের দিকে, তার সতীর্থদের দিকে।

– ফেসবুক থেকে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।