হাসিতে তাঁর জাদু আছে

গানের জগতের সম্রাজ্ঞী নামে খ্যাত লতা মুঙ্গেশকরের কণ্ঠে গাওয়া ‘জিয়া জালে’তে তাঁর গ্ল্যামারাস উপস্থিতি কিংবা ‘তেরে লিয়ে’ গানে নন গ্ল্যামারাস উপস্থিতি,সব রুপেই তিনি দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন, ‘ক্যায়া কেহনা’র প্রিয়াতে যেমন অভিনয়ে দর্শক মন জয় করেছেন, তেমনি ন্যায়না হয়ে ‘কাল হো না হো’তেও। একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, সৌন্দর্যে্য অনন্য এই নায়িকার গালে টোল পড়া হাসি ভারতীয় উপমহাদেশে বেশ বিখ্যাত। তিনি বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা প্রীতি জিনতা।

বাবা ছিলেন আর্মি অফিসার, একটি দূর্ঘটনার বাবার মৃত্যু ও মা শয্যাশায়ী হলে জীবনের মোড় ঘুরে যায়। বান্ধবীর জন্মদিনে তাঁর টোল পড়া হাসিতে মুগ্ধ হয়ে তাকে মডেলিং করার অফার করেছিলেন এক বিজ্ঞাপন নির্মাতা। সেই থেকে শুরু মিডিয়া জগতে তাঁর প্রথম পথ চলা। বিজ্ঞাপনের জনপ্রিয়তার পর নাম লেখালেন সিনেমায়। প্রথম চুক্তিবদ্ধ সিনেমা ‘ক্যায়া কেহনা’, তবে ১৯৯৮ সালে প্রথম মুক্তি পায় বিখ্যাত নির্মাতা মনি রত্নমের ‘দিল সে’, এই ছবিতে পার্শ্ব চরিত্র হলেও নজর কেড়েছিলেন। একই বছর মুক্তি পাওয়া সুপারহিট ছবি আব্বাস- মাস্তানের ‘সোলজার’। ববি দেওলের জন্য আশীর্বাদ স্বরুপ হলেও প্রীতি জিনতা ছিলেন এই ছবির অন্যতম আকর্ষণীয় দিক।

এরই মাঝে অভিনয় করলেন দুটি দক্ষিনী সিনেমায়, পাশাপাশি মুক্তি পায় সংঘর্ষ ও দিল্লাগি সিনেমা। প্রথম চুক্তিবদ্ধ সিনেমা ‘ক্যায়া কেহনা’ মুক্তি পায় ২০০০ সালে, এই ছবিতে তাঁর চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় যেমন প্রশংসিত হয়েছিল, তেমনি ছবিটিও হয়েছিল বাণিজ্যিক সফল। একে একে মুক্তি পাওয়া হার দিল জো প্যায়ার করেগা, মিশন কাশ্মীর, চোরি চোরি চুপকে চুপকে, ইয়ে রিশতা হ্যায় পেয়ার কা’র পর বলিউডের প্রথা ভাঙার সিনেমা ‘দিল চ্যাহতা হ্যায়’তেও ছিলেন প্রধান নায়িকা। বাণিজ্যিক সফল সিনেমা ‘দিল হ্যায় তুমহারা’য় ছিল তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি, ক্যারিয়ারের বৃহস্পতি তখন তুঙ্গে।

নিজেকে সফল ভাবে প্রতিষ্টিত করার সুবর্ণ সময় এসেছিল ২০০৩ সালে, ‘কোয়ি মিল গ্যায়া’ ও ‘কাল হো না হো’র মত সাড়া জাগানোর সিনেমার নায়িকা ছিলেন তিনি, বছরের সেরা অভিনেত্রী হিসেবে পেয়েছিলেন ফিল্মফেয়ার। পরবর্তী বছরে যশ চোপড়ার ‘বীর- জারা’তে অভিনয় করে নিজেকে এগিয়ে নিয়েছিলেন আরো এক ধাপ। আধুনিক নায়িকা হিসেবে পরিচিত হলেও এই ছবিতে এসেছেন সম্পূর্ণ ভিন্নরুপে। এছাড়া ক্যারিয়ারে রয়েছে দ্য হিরো, আরমান, লক্ষ্য, সালাম নমস্তে, কাভি আলবিদা না ক্যাহনা, ঝুম বারাবার ঝুমের মত আলোচিত বা সফল সিনেমা। ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘দ্য লাস্ট লিয়র’ ছবিতেও অভিনয় করেছেন।

যখন সময় এলো নিজেকে নিজের ছাড়িয়ে যাবার, ঠিক তখনই তিনি ম্লান হয়ে গেলেন। জানেমান, হার পাল, হিরোজ সহ একাধিক ছবি নাম লিখালো ফ্লপের খাতায়, সিনেমা জগতগত থেকে অনিয়মিত হয়ে পড়লেন।ব্যস্ত হয়ে গেলেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) মাঠে। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের কর্নধার তিনি। বেশ কয়েক বছর বিরতি দিয়ে ইশক ইন প্যারিস ও হ্যাপি এন্ডিং ছবি করেছেন। তবে কোনোটাই তাঁকে আলোচনায় আনেনি। মুক্তির অপেক্ষায় আছে ‘ভাইয়াজি সুপারহিট’। বলিউডে আবার সফল প্রত্যাবর্তন ঘটছে পুরনো নায়িকাদের, আশা করি তিনিও এই ধারায় এসে সফল হবেন।

চলচ্চিত্র জীবনের বাইরে তিনি নিজেকে জড়িয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে। তবে ব্যক্তিজীবনে নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বিয়ে করেছেন জেনে গুডেনাফকে। রুপালি পর্দার জীবনটা আপাতত খুব রঙিণ না হলেও সময়টা খারাপ যাচ্ছেনা প্রীতির।  এরই মধ্যে কাটিয়ে ফেলেছেন জীবনের ৪৩ টি বসন্ত। অনাগত বসন্তগুলো আরো রঙিণ হোক, তাঁর হাসিটা আরো আকর্ষণীয় হোক – সেই প্রত্যাশা রইলো।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।