হলিউডের সিনেমায় ‘বাংলাদেশ’

হলিউডের সিনেমায় হঠাৎ করে ‘বাংলাদেশ’ নামটা শুনলে অন্য রকম লাগে। যদিও, বাংলাদেশের নাম অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যাপারে আসে না। বেশিরভাগ সময়েই নেতিবাচক প্রসঙ্গে আসে বাংলাদেশ।

ফ্রেন্ডস উইদ বেনিফিট

১ ঘন্টা ১৮ মিনিট ২১ সেকেন্ডে। টিম্বারলেক এর বস ওকে, লাঞ্চ টাইমে কাজ করতে দেখে ওয়ার্ক এথিকস নিয়ে একটু খোঁচা মারে, ‘এই জন্যই আমেরিকা এখনও এক নম্বরে, তবে জার্মানি, জাপান, বেলজিয়াম, চায়না’র পরে। থ্যাঙ্ক গড যে, অন্তত বাংলাদেশ আমাদের পিছনে’!’

ক্রসিং ওভার

এই সিনেমায় বাংলাদেশ একটা বড় অংশ নিয়ে আছে। বাংলাদেশের অবস্থান গল্পের ১০ ভাগের ১ ভাগ (কমপক্ষে)। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বৈধ-অবৈধ উপায়ে আমেরিকাতে এসে বৈধ নাগরিকত্ব পাওয়ার সংগ্রাম হলো ক্রসিং ওভার। এই সিনেমায় আছে বর্ডার, আছে ইমিগ্রেশন এবং দূর্নীতি, আছে অ্যাসাইলাম আর গ্রিন কার্ড, আছে কাউন্টার টেররিজম ও কালচারাল ক্ল্যাশ। উল্লেখযোগ্য পয়েন্ট – মুভিতে একটা বাংলাদেশি পরিবারের কথা আছে। বাবা-মা, বড় মেয়ে (তাসলিমা জাহাঙ্গীর, ১৫) বাংলাদেশ থেকে এসেছে। আমেরিকায় এরপর আরও দুই ছেলে-মেয়ে হয়েছে তাদের, তারা আমেরিকান নাগরিক, বাকিরা এখনও নাগরিকত্ব পায়নি।

দ্যা রিবাউন্ড

১ ঘন্টা ২৮ মিনিট ০১ সেকেন্ডে। ছেলেটার নাম জাস্টিন বার্থা (ন্যাশনাল ট্রেজার এর নিকোলাস কেজ এর সহকর্মী) বলেন, ‘একটা বাচ্চা দত্তক নিয়েছে বাংলাদেশ থেকে।’ ব্যাস, মুভিতে এইটুকু আছে।

ওল্ড স্কুল

সিনেমাটা এখনো দেখি নি। তবে ইন্টারনেট এ সার্চ দিয়ে পেলাম, বেনি বলে একটা চরিত্র আছে। আর তার একটা সংলাপে বাংলাদেশ আছে – ‘Six weeks ago Abdul here had a one way ticket to an arranged marriage with a broad he never met in Bangladesh. Now he’s crushing a** every Thursday night at our mixers.’

হাও আই মেট ইওর মাদার

সিনেমা নয়, এটা মূলত আমেরিকান একটা সিরিজ। এখানে ‘রঞ্জিত’ বলে একটা চরিত্র আছে। সে বাংলাদেশি, নিউ ইয়র্কের রাস্তায় ট্যাক্সি চালায়। চরিত্রটি করেছেন মার্শাল মানেশ, তিনি ইরানি বংশদ্ভুত আমেরিকান।

জুল্যান্ডার

এখানে বলা হয়, ‘শিশু শ্রম না থাকলে, বাংলাদেশের শিশুরা না খেয়ে মারা যাবে।’ যদ

মিউনিখ

১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের নাম আছে স্টিফেন স্পিলবার্গের এই সিনেমায়। সিনেমার এক জায়গাতে বলা হয়, ‘Here Is Enough Food To Feed Bangladesh’.

বাটার ফ্লাই ইফেক্ট

এই মুভিতে এমন একটা ডায়লগ আছে, যেখানে বলা হয়েছিলো, ‘Forget it. what’s the point of Psych now? Tomorrow I could wake up as some dirt farmer in Bangladesh?

এলসহোয়ার

এখানে এক নিখোঁজ হওয়া মেয়ে, বিভিন্ন ছেলেদের সাথে ইন্টারনেটে চ্যাটিং করতো। সেখানে বিশ্বের অনেক দেশের ছেলেদের সাথে বাংলাদেশের ছেলেরাও ছিল। বলা হয়, বাংলাদেশের ছেলেদের কাজ ইন্টারনেটে বসে শুধু ভণ্ডামী করা।

আই নাও প্রোনাউন্স ইউ চাক অ্যান্ড ল্যারি

এই সিনেমায় একটা সংলাপ আছে, ‘You’re looking for my kids, but they’re not there… Cause they’re in some factory in Bangladesh.’ শিশু শ্রমের উদাহরণ হিসেবে আবারো আসলো বাংলাদেশ।

এর বাদে, দিস মিনস ওয়ার, আই জোম্বি, দ্য লাস্ট শিপ, ক্যাসেল, ব্ল্যাকলিস্ট, পারসন অব ইন্টারেস্ট, এ ব্রিলিয়ান্ট ইয়ং মাইন্ড, প্রিজন ব্রেক, অ্যান্টি ম্যাটার, শার্লক (এলিমিন্টারি) ইত্যাদি সিনেমা ও টেলিভিশন সিরিজেও বাংলাদেশের উল্লেখ পাওয়া যায়।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।