স্লেজিং করলে আমি ব্যাটিংয়ে আরো মজা পাই: সাব্বির

নাথান লিঁও’র পঞ্চম শিকার হওয়ার আগে করেছেন ৬৬ রান। এটা বাংলাদেশের ইনিংসের তো বটেই, সাব্বির রহমান রুম্মানের টেস্ট ক্যারিয়ারেরই সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। চট্টগ্রাম টেস্টের দিনের খেলা শেষে হাজির হলেন তিনি।

আউটের প্রসঙ্গ

আসলে ব্যালান্স করতে পারিনি আমি। আমি নট আউট থাকলে দল ভালো অবস্থানে থাকত। তার পরও আমরা ভালো অবস্থানে আছি। দিনশেষে ভালো খেলেছি, এটিই অর্জন আমাদের।

দলীয় অবস্থান

উইকেট এত সহজ নয়। আমরা শেষ পর্যন্ত খেলেছি। ৬ উইকেট পড়েছে, মুশফিক ভাই আছে, নাসির আছে। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। দিনটা ভালো গেছে। দ্বিতীয় দিনে ভাল খেলার চেষ্টা করব।

কত রান যথেষ্ট এই উইকেটে

এই উইকেটে কত রান, এটা আমি বলতে পারব না। যতক্ষণ খেলা যায়, যতক্ষণ ১০ উইকেট না পড়ে, যতদূর নিতে পারি দলকে।

ইনিংসের মাইন্ডসেট

উইকেট আমি অতটা অ্যাডজাস্ট করতে পারিনি। নিজের মত খেলেছি। মুশফিক ভাই ছিল অন্য প্রান্তে। আমার কাজ ছিল তা সাপোর্ট করা। নিজেও বলতে পারব না উইকেটে দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিনে কী করতে পারে। আমদের ভালো ক্রিকেট খেলাই গুরুত্বপূর্ণ।

কেমন ছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং

সব মিলিয়ে ভালো খেলেছি আমরা। ২৫৩ করেছি। উইকেট একটু বেশি পড়ে গেছে। জানি না কত রান নিরাপদ। আমরা প্রথম দিনে ভালো খেলেছি, এটিই খুশির ব্যাপার।

মুশফিকের সাথে জুটি

মুশফিক ভাই ৫০টির বেশি টেস্ট খেলেছে। আমি ৮টি। আমার সঙ্গে যদি মুশফিক ভাইয়ের মত একজন থাকে, আমার কাজ তাকে সাপোর্ট করা। যেটি করার দরকার ছিল, সেটিই করেছি। মাইন্ডসেট খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি মানসিকতা ঠিক করে গেছি , সেভাবে খেলে সফল হয়েছি। আরও রান করতে পারতাম। তবে দলকে কিছু দিতে পেরেছি, এতেই খুশি।

দলে নিজের ভূমিকা

আমি অনুশীলন করি অনেক। ম্যাচ তো খুবই কম খেলেছি। অভিজ্ঞতা বেশি নেই। এসব উইকেটে নিজের মত খেলে যাওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। রান করা গুরুত্বপূর্ণ। টিকে থাকতে চাইলে আমি হয়ত আউট হয়ে যেতে পারি। চাই যে যতক্ষণ থাকব, রান যেন বাড়িয়ে যেতে পারি। দলে এটিই আমার ভূমিকা।

চার নম্বরে ব্যাটিং

শততম টেস্টে আমি চার নম্বরে খেলেছিলাম। দুটি চল্লিস করেছিলাম। চার নম্বরে খেলে আমি শূন্য করি বা একশ করি,সেটা ব্যাপার না। মানসিক ভাবে কিভাবে নিজেকে সেট করতে পারি, সেটাই গুরুত্বপূর্ন। একটা শুন্য করেছি বলে সাতে নেমেছি, এমন নয়। দলের কম্বিনেশনের জন্য সাতে খেলছি।

বাকি পাঁচ ব্যাটসম্যান

আমাদের ১১ জনই রান করতে পারে। সবাই চেষ্টা করে রান করতে। কেউ আউট হয়ে গেলে মানে এই না যে বাকিরা পারে না। কারও দিন ভালো যায়, কারও খারাপ যায়। সাকিব ভাই, মুশফিক ভাই,তামিম ভাইদের সময় ভালো যাচ্ছে বলেরান করতে পারছে। আমরা তরুণদের সময় খারাপ যাচ্ছে। ব কিছু না কিছু সমস্যা হচ্ছে। সেটি কাটিয়ে উঠতে পারলে সিনিয়রদের রেস্ট দিতে পারব আমরা।

অস্ট্রেলিয়ানদের স্লেজিং

খেলার মাঠে কারও সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হয় না। ওরা স্লেজিং করে, আমিও করি। আমি ওদের সঙ্গে কথা বলি ফ্রি হওয়ার জন্যই। তেমন কিছু না। স্লেজিং করলে আমি ব্যাটিংয়ে আরো মজা পাই। উপভোগ করি স্লেজিং করলে। স্লেজিং ফিরিয়েও দেই। এটা আমি অনেক উপভোগ করি।

উইকেট

প্রথম থেকেই বুঝিনি উইকেট কেমন। আউট হওয়ার পরও বুঝিনি। সব মিলিয়ে সামনের দিনগুলিতে বোঝা যাবে উইকেট কেমন আচরণ করবে। প্রথম দিনেই কিছু বোঝা যায় না।

নাথান লিঁও’র পাঁচ উইকেট

লিঁও গ্রেট বোলার। পাঁচ উইকেট পেয়েছে, ওকে আমার তরফ থেকে শুভেচ্ছা। বিরাট কোহলির মত ব্যাটসম্যান আমি হতে পারি। চেষ্টা করলে সবই সম্ভব। তবে কোহলি কোহলিই, আমিই আমিই। একাই। তো কোহলির সঙ্গে তুলনার বড় নয়। আমি আমার খেলা যদি খেলতে পারি বা দলে অবদান রাখতে পারি তাহলে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।