এক নেপালি রমণীর মুম্বাই জয়ের গল্প

নেপালের কাঠমান্ডুতে কৈরালা পরিবারকে সবাই এক কথায় চেনে!

না চেনার কোনো কারণ নেই, রাজনৈতিক ভাবে তাঁরা খুবই প্রভাবশালী। পরিবারের কৃষ্ণ প্রসাদ কৈরালা ছিলেন মহাত্মা গান্ধীর অনুসারী রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী। তার পাঁচ ছেলে ও চার মেয়ে। পঞ্চাশের দশকের শেষে কিংবা ষাটের দশকের শুরুতে প্রকাশের ছেলে বিশ্বেশ্বর প্রসাদ কৈরালা ছিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী।

এই বিশ্বেশ্বর হলেন তাঁর দাদা। তার দুই ভাই গিরিজা প্রসাদ কৈরালা ও মাত্রিকা প্রসাদ কৈরালাও পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর পদে বসেছিলেন। এমনকি তাঁর বাবা প্রকাশ কৈরালাও নেপালের সাবেক পরিবেশমন্ত্রী। ফলে, ১৯৭০ সালের ১৬ আগস্ট জন্ম নেওয়া মেয়েটিও যে এই পথেই আসবেন – সেটা ধরে নেওয়াই যায়।

কিন্তু, সব ভাবনাই কি আর সত্যি হয়। তিনি যে আরো বেশি, আরো বড় চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য জন্মেছিলেন। নিজেকে অন্যভাবে প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে পারি জমিয়েছিলেন ভারতের সিনেমা ভূবনের স্বপ্নরাজ্য মুম্বাইয়ে। স্বপ্ন দেখেছিলেন বলিউডের বড় তারকা হওয়ার।

সুভাষ ঘাইয়ের ‘সওদাগর’ চলচ্চিত্রটি দিয়ে ১৯৯১ সালে ভারতীয় ফিল্ড ইন্ড্রাস্টিতে আবির্ভাব ঘটে তার। নেপালের এই সুন্দরী ধীরে ধীরে হয়ে উঠলেন ভারতীয়দের স্বপ্নের রাজকন্যা। কারো চোখে আবার ডানাকাটা পরী। তিনি হলেন নব্বই দশকে বলিউডের শীর্ষস্থানীয় ও জনপ্রিয় নায়িকাদের একজন – মনিষা কৈরালা।

‘১৯৪২: এ লাভ স্টোরি’, ‘বোম্বে’, ‘একেলে হাম একেলে তুম’, ‘খামোশি’ কিংবা ‘দিল সে, তাকে সাফল্যের শীর্ষে তুলে দেয়। নব্বইয়ের দশকে একচেটিয়ে ব্যবসা করে গেছে মনিষার ছবিগুলো।

রাজনৈতিক পরিবারের আবহে থাকার কারণেই কী না বাস্তবজীবনেও মনিষা বেশ স্পষ্টবাদী। যদিও, ১৯৭০ সালে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রীকে জীবনের বড় একটা সময় লড়াই করতে হয়েছে নিজের শরীরের সাথে।

২০১৩ সালে মনীষা গর্ভাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। এর পরপরই তার সার্জারি হয়। তারপর তিনি নিউইয়র্ক যান কেমোথেরাপি নেয়ার জন্য। তবে, ক্যান্সারের সাথে দীর্ঘ লড়াই শেষ করে ফিরেছেন তিনি।

শরীরের মেদ কমানোর জন্য জিম শুরু করেছেন। অভিনয়ের প্রস্তাবও পাচ্ছেন বিস্তর। বোঝাই যাচ্ছে, দ্বিতীয় ইনিংসটাও স্মরণীয় করে রাখতে মরিয়া মনিষা।

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংসে মনোযোগী হয়েছেন। তার ‘ডিয়ার মায়া’ ব্যবসা সাফল্য সেভাবে না পেলেও প্রশংসিত হয়েছে। মনিষার ব্যতিক্রমী চরিত্র নজর কেড়েছে সমালোচকদের। প্রায় ৫০ ছুঁইছুই এই নায়িকাকে সঞ্জয় দত্তর বায়োপিকেও দেখা গেছে। সেখানে সঞ্জয় দত্তের মা, গুণী অভিনেত্রী নার্গিসের ভূমিকায় দেখা গেছে তাকে।

এই নেপালি আরো একবার নিজের মত করে বলিউড জয় করেছেন এই চরিত্রটি করে। এর মাঝে দক্ষিণী ছবিগুলোতেও কাজ করছেন। আশা করাই যায় যে, দু:সময়কে পেছনে ফেলে আগামীর সময়টাকে আরো বেশি রাঙিয়ে তুলবেন তিনি!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।