সেই বিদ্যা, এই বিদ্যা

বিদ্যা বালান কে প্রথম দেখি ‘পরিনীতা’ সিনেমায়। ললিতা চরিত্রে প্রথম ছবিতেই তাকে ভালো লেগেছিল। এরপর একে একে করলেন লাগো রাহো মুন্নাভাই, ভুল ভুলাইয়া, সালাম ই ইশক, গুরু, একলব্য, হেয় বেবি, হাল্লাবোল, কিসমত কানেকশন। তবে ভক্ত হয়ে যাই, বাংলা ছবি ‘ভালো থেকো’ দেখে।

এটাই তাঁর প্রথম ছবি, কিন্তু দেখা হয়েছে অনেক পরে। কিছুদিন পরেই, আর বালকির ‘পা’। ছবিটা অমিতাভ বচ্চনের জন্য বিশেষ মাত্রা এনেছিল, পাশাপাশি বিদ্যার ও। সিঙ্গেল মাদারের চরিত্রে নিজেকে দুর্দান্ত মানিয়ে নিয়েছিলেন। এই ছবি দিয়েই প্রথমবার সেরা অভিনেত্রীর ফিল্মফেয়ার পান, পরবর্তীতে যা সমালোচকসহ পরপর চারবার এই পুরস্কার অর্জন করেন।

‘ইশকিয়া’র পর ২০১১ সালটা ছিল তাঁর জন্য বিশেষ বছর, শুরুতেই ‘নো ওয়ান কিলড জেসিকা’র মত আলোচিত ছবি, আর শেষে ‘দ্য ডার্টি পিকচার’। সিল্ক স্মিতা হয়ে প্রথমবারের মত ভিন্নভাবে পর্দায় এলেন। ছবি আলোচনা – সমালোচনা যাই হউক, নিজের প্রতিভায় অর্জন করে নেন জাতীয় পুরস্কার।

বিদ্যার ক্যারিয়ারের বৃহস্পতি তুঙ্গে, ঠিক তখনই মুক্তি পায় ‘কাহানি’। আমার দেখা বিদ্যার সেরা অভিনয়, স্বল্প বাজেটের ছবি গিয়ে পৌঁছল ১০০ কোটির ঘরে। ভেবেই নিয়েছিলাম, এই ছবির জন্য আবার জাতীয় পুরস্কার পাবেন, পেলেন না। তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে ঘরে তুলেন সেই বছরের ফিল্মফেয়ার।

সেই বছর বিয়ে করেন প্রযোজক সিদ্ধার্থ রায় কাপুরকে। ভেবেছিলাম, বিদ্যার জয়জয়কার আরো বেশ কয়েকবছর দেখব, কিন্তু বিধিবাম। আলোচিত ‘ঘনচক্কর’ই পেলো ফ্লপের তকমা, ববি জাসুস, শাদী কি সাইড ইফেক্টস – এই দু’টোও সুপার ফ্লপ। বিদ্যা গেলেন ছিটকে, মুক্তির আগেই গান হিট হওয়া ‘হামারি আধুরি কাহানি’ দিয়েও আশা জাগিয়েছিল, কিন্তু ফলাফল হতাশাজনক।

গত বছর মুক্তি পেয়েছিল ‘তিন’, ব্যবসা না করলেও মোটামুটি প্রশংসা পেয়েছিল, তবে এই ছবিতে বিদ্যাকে সেইভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আশার সঞ্চার হয়েছিল ‘কাহানি ২’ ছবিটি, কিন্তু এই ছবিটিও ব্যর্থ। বাণিজ্যিক সাফল্য বা সমালোচকপ্রিয়তা কোনোটাই আসছে না।

এই বছর আসলো সৃজিত বাবুর বাংলা ছবি ‘রাজকাহিনী’র হিন্দি রিমেক বেগমজান। কিছু আশা জাগালেও, সন্তোষজনক নয়। তাছাড়া ছবিটিও আহামরি ভালো হয়নি। তবে সব মিলিয়ে সাফল্য এসেছে বছরের শেষে। বড় কোনো সাফল্য তো পাননি, দর্শক থেকে সমালোচক সবাই প্রশংসা করেছে, বিদ্যার অভিনয়ও দারুণ প্রশংসিত।

ছবির নাম ‘তুমহারি সুলু’, টি সিরিজের ব্যানারে নির্মিত ছবিটি ইতোমধ্যেই হিটের তকমা পেয়েছে। এই বছর বেশ কয়েকটা ছবির বাণিজ্যিক ব্যর্থতায় হতাশ হয়েছিলাম, খুব করে চাচ্ছিলাম এই ছবি হিট হোক, ব্যক্তিগতভাবে ভীষণ খুশি। বিদ্যার এই সফল প্রত্যাবর্তনের রেশ যেন আরো কিছু বছর থাকে, সেটাই প্রত্যাশা করি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।