সেই তামিম, এই তামিম

সাত বছর আগে যখন তামিম লর্ডসে, ম্যানচেস্টারে জোড়া শতরান করেন, ওই বছরটা এখনো পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে তামিমের সেরা বছর। ৭ ম্যাচে ৮৩৭ রান করেছিলেন সেবছরে ৩টি সেঞ্চুরি ও ৬ ফিফটির মাধ্যমে। ৮০+ করে আউট হয়েছিলেন ৪ টি ইনিংসে!

টেস্টে ২০১০ এ তামিমের ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট কত ছিলো জানেন? ৮০.৩১! যেটা কিনা তামিমের ওডিআই ক্যারিয়ারের ব্যাটিং স্ট্রাইক রেটের চেয়েও বেশি। সেবছরে স্ট্রাইক রেটে তামিমের ধারেকাছে কেউ না থাকলেও তামিমের উপরে ৯০.৮০ স্ট্রাইক রেটে একমাত্র বিরেন্দ্র শেবাগ ছিলেন।

তামিমের বিধ্বংসী রুপ কে স্বাভাবিক করতে পত্র পত্রিকায় লেখালেখি কম হয়নি। টেস্ট ম্যাচেও তামিমের খেলার ধরন ছিল ওডিআই এর মত। এটা বলতে গিয়ে তৎকালীন কোচ জেমি সিডন্স বলেছিলেন, ‘তামিমকে তামিমের মত খেলতে দিন, ও কাউকে নিরাশ করবেনা।’

হ্যাঁ, তামিম তখনও নিরাশ করেনি কাউকে। এমনকি সবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়েছে যে আমরাও পারি। মাত্র ৭ ম্যাচে ১৩ ইনিংসে ৭৩৭ রান! আফসোস যে মাত্র ৭টি ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়েছিল বাংলাদেশের যেখানে ভারত/ইংল্যান্ড খেলেছিল ১৪ ম্যাচ!

তামিমের ব্যাটিং স্টাইল নিয়ে যতবার কথা হয়েছে ততবারই জেমি সিডন্স একই কথা বলেছে, ‘ওকে ওর মত খেলতে দিন।’

সেই তামিম আর এই তামিমের ভিতরে আজ অনেক তফাৎ। তখনকার তামিম আজ অনেক পরিপক্ক। তামিমের ডাউন দ্যা ট্রাক, কাভার ড্রাইভ, সলিড ডিফেন্স সবগুলোই মনোমুগ্ধকর। যেন চোখ ধাধানো। যতই দেখি ততই মুগ্ধ হই। প্রয়োজনের তাগিদে সে ডিফেন্স করছে, আবার লুজ বল পেলে ডাউন দ্যা ট্রাকে গিয়ে সীমানার উপরে বলকে আছড়ে ফেলছে। এটাই তামিম। টানা ৩ ছক্কা মেরে ২০০ করার মত বুকের পাটা একমাত্র তামিমেরই আছে।

কিছুদিন আগে সাবেক কোনো বিশ্বমানের ক্রিকেটার বলেছিলেন, ‘দিন যাচ্ছে আর তামিম ও বিরাট কোহলি আরো পরিপক্ক হয়ে উঠছে।’ কে যে এই কথাটা বলেছিল সেটা আজ মনে করতে পারছিনা। কথাটা খুবই গর্বের। তারা যখন তামিমকে এযুগের সেরা ব্যাটসম্যান কোহলি, রুট, উইলিয়ামসন, স্মিথ, ওয়ার্নারদের কাতারে নিয়ে যায় তখন সত্যিই বুকটা ভরে যায় গর্বে।

এটাই আমাদের তামিম ইকবাল। লড়ে যান আপনি। আমরা আপনার ব্যাট হইতে ১০০০০+ টেস্ট ও ওডিআই রান দেখতে চাই।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।