সুইসাইড || ছোটগল্প

দরজা জানালা বন্ধ করেনি। কাল বৈশাখী মেঘের গর্জন শোনা যাচ্ছিলো পূর্ব আসমানে। মেঘের আওয়াজ আর বজ্রপাতের শব্দে নোভার চোখে জল, ভয়ের জল। মেঘের শব্দে মেয়েটা অভিমানী হয়ে রুমের পশ্চিমাংশে বসে আছে। নোভার বিয়ে ঠিক হয়ছিলো। এক কাল বৈশাখী বৃষ্টির দিনে।

সব আয়োজন ভেস্তে যায়, বজ্রপাতে পর থেকেই নোভার বজ্রপাতে ভয়। শীতে জমে যাচ্ছিলো। নোভার বিয়ে হয়নি বজ্রপাতে বিয়ে ভেঙেছিল। এরপর নোভাকে দেখতে কেউই আসেনি, সবার মনে করে নোভা অলক্ষী। এ সমাজে নোভার মতো মেয়ের সংসার করার অধিকার নাই।

হিন্দুধর্মে সবচেয়ে বেশিবার শুনেছি সঠিক লগ্নে বিয়ে না হলে পরবর্তী সময়ে বিয়ে দেওয়ার কোনো নিয়ম নাই। নোভা কখনো চার দেওয়ালের বাইরে যায়নি। পাশের বাড়ির টগবগে যুবক কৃষও দেখেনি নোভার মুখ।

কৃষ মহল্লার মেয়েদের স্বপ্ন পুরুষ। প্রায় সব মেয়েই মনে মনে কৃষকে পেতে চায়। ছোট সংসারের স্বপ্ন ও বুনে।

নোভার মনে প্রেমের জোয়ার আসে। প্রকাশ করতে পারেনা। মিটমিটে তাঁকিয়ে থাকে বাঁটানো রাস্তার মাঝপথে ছেলেটার চোখের দিকে। এ ছেলেটা রোজ অফিসে যায়। প্রাইভেট কোম্পানি তে চাকুরী করে।

নোভা সানজীব কে ছুঁয়ে দেখেনি। সানজীবকে এতো ভাল লেগে যাবে, নোভা ভাবতে পারছে না। সানজীব রাজনৈতিকদল নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করে। বিয়ের চিন্তা মাথায় এখনো আসেনি। প্রেম তো ছোট বিষয়। চাইলেই করা যায়,মনের মতো মানুষ কি সবাই ভাগ্য করে পায়।

নোভার মায়ের সাথে, নোভার কল্পনাতে কথা হয়।

এ কল্পনা বেশিক্ষণ থাকেনা। নোভা বেশিক্ষণ নিজেকে ধরে রাখতে পারেনা। এভাবে বেঁচে থাকা যায়না।  ঘুমের ট্যাবলেট পুরোটা পাতার সব ট্যাবলেট খেয়ে, শেষবারের মতো ঘুমের দেশে চলে যায়, ঘুমটা কখনোই শেষ হওয়ার নই।

নোভা চলে গেলে, ফ্যামিলির বেশকজন কাঁদে খুবই অল্পাংশে। দিন যায়, মাস যায়,বছর যায় নোভাকে কেউই মনে রাখেনা। নোভা কারো মনে জায়গা নিতে পারেনি, মেয়ে হয়ে এ জীবনে এর চেয়ে বড় অভিশাপ আর কি হতে পারে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।