সিনেমাগুলো মনে দাগ কাটবে

আমরা দক্ষিণ এশিয়া তথা বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষই বুঝি হলিউড মানেই হলো ট্রান্সফরমার, অ্যাভেঞ্জার, আয়রন ম্যান,ফাস্ট এন্ড ফিউরিয়াসের মত ধুমধাম অ্যকশন আর হ্যারি পর্টার, লর্ড অব দ্যা রিংস এর মত ফ্যান্টাসি মুভি। আরেকটু বেশি মুভি এডিক্টেট হলে মনে করি প্রেস্টিজ, শাটার আইল্যান্ড, ইন্সেপশন এর মত থ্রিলার মুভি হলিউড বানাতে পারে।

তাই বেশির ভাগ মানুষই এই টাইপ এর মুভিই দেখি আমরা হলিউডের। আমাদের বাংলাদেশের পরিচালক-অভিনেতাদের ও প্রায়ই বিভিন্ন অনুষ্টানে বলতে শুনি তারা ভারতের মুভিই ফলো করে, হলিউড মুভির কাহিনী, অ্যাক্টিং নাকি আমাদের বাস্তবতার সাথে যায়না।

কিন্তু হলিউড মানেই কেবল অ্যাকশন, ফ্যান্টাসি, থ্রিলা মুভি নয়, হলিউডের ব্যপ্তি অনেক বিশাল। উল্লেখিত জনরার মুভি গুলো রেটিং এ সবসময় পেছনে থাকে মানে দর্শকদের মনে তেমন দাগ কাটতে পারেনা কারণ এই ধরনের মুভি গুলো বিনোদন হিসাবে দেখা হয়।

ধরেন একটা একশন মুভি খুব মজা করে দেখলেন। দেখার পর ১-২ ঘন্টা পর বা ঘুম থেকে উঠে দেখবেন কোন ফিলংস নাই, থ্রিলার মুভি গুলা আবার ৩-৪ দিন মাথা হ্যাং করে রাখে।তারপর শেষ।

কিন্তু ড্রামা মানে ভালো গল্পের মুভি বছরের পর বছর মনে দাগ কেটে থাকে তাই ড্রামা জেনারের মুভি গুলো যে কোন রেটিং সাইটে দেখবেন সবার উপরে জায়গা করে নেয়।

হলিউড এই ধরনের মুভি তেও অনেক এগিয়ে। এমন অসাধারণ অনেক মুভি উপহার দিয়ে আসছে বছরের পর বছর যা সারা বিশ্বের মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে।

কিন্তু এই জনরারটা একটু রিস্কি। অনেকের কাছে অসাধারণ লাগলেও কিছু কিছু মুভি কারো কারো কাছে বোরিং লাগে যেমন গডফাদার, শিন্ডার লিস্ট, টুয়েলভ এংরি ম্যান। কারণ সবারই সেইম গল্প ভালো লাগবে এমন না।

তাই সেই রিস্কি মুভি বাদ দিয়ে আজ আপনাদের বেছে বেছে এমন কিছ ড্রামা মুভির নামের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবো যা আপনাদের সবারই ভালো লাগতে একদম বাধ্য এবং অনেক দিন মনে দাগ কেটে থাকবে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি

মুভিগুলো বাইরের দেশে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও ড্রামা মুভি সম্পর্কে ধারণা কম থাকার কারনে বাংলাদেশে আলোচনা হয়না তেমন বা আন্ডার রেটেড। অনেক তো অ্যাকশন, ফ্যান্টাসি, থ্রিলার দেখলেন একবার এই মুভি গুলো সময় বের করে দেখে ফেলুন।

ওয়ান ফ্লিউ ওভার দ্য কাকু’স নেস্ট

আইএমডিবি: ৮.৭, রোটেন টমেটো: ৯৫ % ফ্রেশ

৫ টি বিভাগে অস্কার সহ মেজর প্রায় সব পুরস্কারই এই মুভির দখলে আছে। অনেকের কাছে সর্বকালের সেরা মুভি, ৪২ বছর আগের মুভি অথচ এখনো সবার হৃদয়ে অন্যরকম জায়গা নিয়ে আছে এই মুভি, সেই সময় সারা বিশ্বে বিশাল হই চই ফেলে দিয়েছিলো মুভি টি,মাত্র ৩ মিলিয়ন ডলার বাজেট থেকে আয় করে নেয় ১১০ মিলিয়ন।

জ্যাক নিকলসন কত বড় মাপের অভিনেতা, কতটা নিখুত হতে পারে কারো এক্টিং এই মুভি না দেখলে বুঝা যাবেনা। স্বাধীনতা এমন জিনিস যা বন্দি করে রাখা যায়না আর এই স্বাধীনতার ছোয়াই যে কোন পরিস্থিতি তে সবচেয়ে বেশি দরকার যে কারোর ই। মুভিতে স্বাধীনতার আনন্দ দেখে যখন আপনার চোখে মুখে সুখের অনুভুতি ফুটে উঠবে ঠিক তখন ই গলা টিপে ধরবে প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা। কতটা নিষ্ঠুর সমাজে আমরা বাশ করি তা নতুন করে উপলব্ধি করতে পারবেন।

বিগ ফিশ

আইএমডিবি: ৮

এইটা মুভি না অমৃত। বাস্তব আর কল্পনার রোলার কোস্টার দিয়ে যাবেন মুভি দেখার সময়। চাইলেই একটা বোরিং জীবন কতটা কালারফুল করে ফেলা যায় তা বুঝতে পারবেন এই মুভি দেখলে। মুভি দেখার পর অদ্ভুদ এক ভালো লাগা কাজ করবে।

রেইন ম্যান

আইএমডিবি ৮

ধরেন খুব ই ছোট একটা ঝামেলার কারনে বাবাকে ছেড়ে সন্তান আলাদা হয়ে গেলো রাগ করে। যোগাযোগ নেই কোন। হঠাত একদিন ফোন আসলো বাবা মারা গেসে আর সব সম্পত্তি দিয়ে গেসে তার বুদ্ধি প্রতিবন্ধি ভাই কে, তার যে ভাই আছে সেইটাও জানতোনা সে। এখন টাকার লোভে সে তার সেই ভাই কে মানসিক হাসপাতাল থেকে কিডনাপ করে ৭ দিন রাখে। ৭ দিন পর এসে সেই নির্দয় ভাই সেই সম্পত্তি আর চায়না শুধু সেই ভাই কে তার সাথে রাখতে চায়।পাথরে ফুল ফুটার মত কি এমন ঘটনা ঘটে গেলো এর মাঝে জানতে হলে দেখতে হবে এই মাস্টার পিস মুভি। টম ক্রুজ যে আসলেই একটা জাত অভিনেতা এই মুভি থেকেই বুঝা যায় আর ডাস্টিন হফম্যান এতই নিখুত অভিনয় করে সে যে বুদ্ধি প্রতিবন্ধি না তা বুঝতে আরেক টা মুভি দেখা লাগবে। ৪ টা অস্কার সহ আরো অসংখ্য পুরস্কার আছে এই মুভির পাশে। মাত্র ২৫ মিলিয়ন মুভির আয় ছিলো সেই সময় প্রায় ৪০০ মিলিয়ন।

দ্য গ্রিন মাইল

আইএমডিবি: ৮.৫

এই মুভি নিয়ে এক লাইন লিখার যোগ্যতা আমার নাই। ৩ ঘন্টার মুভি শুরু করার পর কখন শেষ হয়ে যাবে বলতে পারবেন না, এক মুহুর্ত চোখ ফিরাতে পারবেন না। শুধু স্টোরি অসাধারন তা না সিনেমাটোগ্রাফি, ব্যাককগ্রাউন্ড মিউজিক থেকে শুরু করে কতটা পারফেক্ট হতে পারে একটা মুভি তার উদাহরন এইটা।

দ্য উলফ ওয়াল স্ট্রিট

আইএমডিবি: ৮.২

দ্য রেভেন্যান্ট মুভিতে অস্কার পেলেও অনেকের ই মতে দি কাপরিও এই মুভিতে যেই এক্টিং আর ডেডিকেশন দিসে পাশাপাশি এত হাইরেটেড মুভিতে অভিনয় করার সুবাদে এই মুভির জন্যই আসলে অস্কার ডিজার্ভ করতো। শুধু মাত্র যারা মুভিটা দেখসে তারাই বলতে পারবে লিও কি অভিনয় করছে আর এইটা কোন লেভেলের মুভি। তবে অস্কার ছাড়া সব মেজর পুরস্কার ই এই মুভির ঝুলিতে আছে।

ধরেন হঠাত আপনি প্রচন্ড ভাগ্য আর ট্যালেন্টেড থাকার সুবাদে প্রচুর অর্থ সম্পদের মালিক হয়ে গেলেন ব্যবসা করে। এখন আপনি এত টাকা করবেন কি? টাকা যে একটা মানুষ কে কিভাবে পশু বানায় দেয় আর সেই পশুর পরিনতি কি হতে পারে একদম বাস্তব ঘটনার উপর তৈরি করা এই মুভি।

দ্য ডেড পোয়েট সোসাইটি

আইএমডিবি: ৮

আমাদের সবারই মন আছে। আর এই মনের কিছু চাওয়া পাওয়া আছে।তো মন যেইটা চায় সেই পথে হাটা উচিত নাকি জীবনের কঠিন বাস্তবতায় নিজের মনের সব ইচ্ছা আকাংখা গুলো খুন করা উচিত?খুন টা কি নিজের হাতেই করবো নাকি প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার কাছেই দায়িত্ব টা দিয়ে দিবো খুন করার তার প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে দেখে ফেলুন মুভি টি। বাস্তব জীবনে না পারলেও মুভি টা দেখে নিজের মন কে সাময়িক মুক্তির আনন্দ দেওয়ার জন্য হলেও মাস্ট ওয়াচ মুভি এইটা

লাইফ ইজ বিউটিফুল

নন-ইংলিশ কোন মুভি যেটা সারা বিশ্বে সবচেয়ে ব্যবসা সফল এবং সবচেয়ে বেশিবার দেখা হয়েছে। কয়েকটা অস্কার সহ অনেক পুরস্কার আছে। এই মুভি দেখার পর জীবন সম্পর্কে আপনার ধারণাই পালটে যাবে। সুখ আসলে নিজের কাছে। ইচ্ছা করলেই সম্ভব শত কষ্টের মাঝেও নিজের জীবন কে সবার সামনে সুখী হিসাবে উপস্থাপন করা এমন কি এই সুখ পাওয়ার জন্য নিজের জীবন হাসি মুখে বিলিয়েও দেওয়া যায় এই মুভি আপনাকে এই মনোভাব শিখাবে।

আসলে উপরের মুভি গুলোর ব্যপ্তি এতই বিশাল যে প্রত্যেক টা মুভিই এক এক জনের হৃদয় কে এক এক ভাবে নাড়া দিবে তাই বিস্তারিত লিখলাম না। কিন্তু মুভি গুলো না দেখলে বিশাল বড় মিস করবেন এতটুক নিশ্চয়তা দিতে পারি।

আমাকে সেরা দশ করতে বললে আমি ‘পারসুট অব হ্যাপিনেস’, ‘ফরেস্ট গাম্প’ ও ‘দ্য শশাঙ্ক রেডেম্পশন’কেও এই তালিকায় জায়গা দেবো। এই সিনেমাগুলো নিয়ে তো আগেও বিস্তর আলোচনা হয়েছে। আমি তাই নতুন করে কিছু লিখলাম না।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।