সালমান-ঐশ্বরিয়া: ভালবাসা নাকি হয়রানি?

‘হাম দিল দে চুকে সানাম’-এর অনন্য কেমিস্ট্রি থেকে বিচ্ছেদের আগুন – সম্পর্কে ভাঙন আসার এতগুলো বছর পরও সমান ভাবে আজো আলোচিত সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রায়ের প্রেমকাহিনী। এক সময় নিজেদের পাগলের মত ভালবেসেও এখন নিজেদের মধ্যে পারলে মুখ দেখাদেখিই বন্ধ তাদের।

আসলে ব্যাপারটা কি? চলুন একটু পুরনো জখম খাটিয়ে সত্যটা উন্মোচন করা যাক।

রূপকথার সূচনা

সম্পর্কের সূচনা হয় সঞ্জয় লিলা বানসালি’র ‘হাম দিল দে ‍চুকে সানাম’-এর সেটে। দু’জনের একসাথে পর্দায় উপস্থিতি রীতিমত ম্যাজিকের সৃষ্টি করে। এমনকি ক’দিন আগে রণবীর সিং ও দীপিকা পাড়ুকোনকে নিয়ে বানানো ‘গালিওন কে রাসিলা – রাম লীলা’ সিনেমার চিত্রনাট্য মূলত সালমান-ঐশ্বরিয়াকে ভেবেই লিখেছিরেন বানসালি।

সব রূপকথার মত ঠিকঠাক চলছিল। ‘হাম তুমহারে হ্যায় সানাম’ সিনেমায় সালমানের প্রেমিকার একটা ক্যামিও চরিত্রও করেন অ্যাশ। শুধু তাই নয়, খান পরিবারের খুব কাছাকাছি চলে আসেন অ্যাশ। সালমানের দুই বোন অর্পিতা ও আলভিরার সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে। অ্যাশের পরিবার যে এই সম্পর্কের বিরোধী ছিল, সেটাও ওই আমলে কারো অজানা ছিল না।

সালমানের উগ্র আচরণ

২০০১ সালের নভেম্বরে সালমান পৌঁছান ঐশ্বরিয়ারর অ্যাপার্টমেন্টে। বার বার দরজায় জোরে জোরে নিজেকে ভেতরে ঢুকতে দিতে বলেন। কেউ কেউ তো দাবি করেন সেদিন আত্মহত্যারও হুমকি দিয়েছিলেন সালমান। সেই নাটক চলে রাত তিনটা অবধি। শেষ অবধি অ্যাশের মন গলে, সালমানকে তিনি ভেতরে নিয়ে যান।

তখন সাল্লু ভাইয়ের হাত দিয়ে রক্ত ঝরছিল। কিছু সূত্র ভারতীয় গণমাধ্যমকে বলেছিল, ওই সময় বিয়েটা সেরে ফেলতে চেয়েছিলেন সালমান। কিন্তু, অ্যাশের বিয়ে নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো ছিল না।

সালমান পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, নিজের ভালবাসা তিনি ফেরত পাননি, তাই বাধ্য হয়ে উগ্র হয়েছিলেন! তিনি বলেন, ‘আপনি যদি ঝগড়াই না করেন, তাহলে বোঝা উচিৎ আপনার মধ্যে কোনো ভালবাসা নেই। আর আমি তো কোনো বাইরের লোকের সাথে ঝগড়া করিনি। যা করেছি ভালবাসার খাতিরেই করেছি।’

এই সম্পর্কে মোড় আসে, যখন সালমান যুক্তরাষ্ট্রে যান তার সাবেক প্রেমিকা শমি আলীকে সাহায্য করতে। সেটাও আবার অ্যাশকে না জানিয়ে। তখন থেকেই তাঁদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে।

কুৎসিত সমাপ্তি

ঐশ্বরিয়া পরবর্তীতে ২০০২ সালে জানান তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। এটাও জানান যে, এই সিদ্ধান্তটা হয়েছে সালমানের মতের বিরুদ্ধে। এমনকি এর জের ধরে সালমান ঐশ্বরিয়ার পেশাদার জীবনেও ক্যাওয়াজ সৃষ্টি করেন। গুজব রটে, শাহরুখ খানের ‘চালতে চালতে’ সিনেমার সেট থেকে তিনি টেনে হিঁচড়ে ঐশ্বরিয়া রায়কে বের করে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করেন। সেটা নিয়ে নাকি শাহরুখ খানেরও মুখোমুখি হতে হয় ভাইজানকে। যদিও বরাবরই সেটা অস্বীকার করেছেন সালমান। ঐশ্বরিয়ার হাত থেকে সেই সিনেমা চলে যায় রানী মুখার্জীর হাতে।

পরে ঐশ্বরিয়া বলেন, ‘সালমানের অধ্যায় জীবনের সবচেয়ে বাজে সময় ছিল।’ আর সেটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন বলে তিনি আনন্দিত।

ওই সময় ঐশ্বরিয়া বলেছিলেন, ‘ব্রেক আপের পরও সে আমাকে ফোন করতো, আজেবাজে কথা বলতো। আমার সহশিল্পীদের সাথে আমার সম্পর্ক আছে বলে সন্দেহ করতো। ওই সময় আমাদের শারীরিক সম্পর্কও হয়, ভাগ্য ভাল যে তার কোনো চিহ্ন আর নেই। কোনো কিছুই হয়নি এমনটা একটা ভাব নিয়ে আমি ওসবের পর কাজে চলে আসতাম।’

সম্পর্কটা যেমনই হোক, যতটাই তাদের মধ্যে ভালবাসা থাকুক না কেন শেষটা হয়েছে হয়রানির মধ্য দিয়েই। অ্যাশ পরবর্তীতে হলিউডে কাজ করেছেন, বিয়ে করেছেন খোদ বচ্চন পরিবারের ছেলে অভিষেক বচ্চনকে। মেয়ে আরাধ্যকে নিয়ে তাদের সুখের সংসার।

সালমান খানের জীবনও থেমে থাকেনি। এরপরও আমিশা প্যাটেল, দিয়া মীর্জা, কিংবা হালের ক্যাটরিনা কাইফ – অনেকের সাথেই সম্পর্কে জড়িয়েছেন ভাইজান। কিন্তু কোথাও থিতু হতে পারেননি। জীবনের ৫২ টি বসন্ত পেরিয়ে গেলেও তাই আজো তিনি বলিউডের ‘সবচেয়ে যোগ্য ব্যাচেলর’!

– ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।