সামান্য রানের পুঁজিতে অসামান্য লড়াই

একমাত্র টেস্ট খেলতে সেবার ইংল্যান্ডে এসে কি লজ্জাটাই না ইংলিশদের দিয়েছিলো অস্ট্রেলিয়া! ১৮৮২ সালে অস্ট্রেলিয়ার ইংল্যান্ড সফরের একমাত্র টেস্টে ৮৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ ইনিংসে ইংল্যান্ড অল আউট হয়েছিলো ৭৭ রানে! প্রথম ইনিংসে ডিকি বারলোর ৫/১৯! আর টেড পিট এর ৪/৩১ এর বিধ্বংসী স্পেলে অস্ট্রেলিয়া অল আউট মাত্র ৬৩ করেই।

জবাবে ব্যাট করতে নামা ইংলিশরা প্রথম ইনিংসে অল আউট ১০১ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ম্যাসির ৫৫ আর মারডকের ২৯ রানের পরও অজিদের ইনিংস থেমে যায় ১২২ এ। পিট এবার ৪০ রানে ৪ উইকেট পেলেন। ইংলিশদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ালো ৮৫। কিন্তু স্পফফোর্থের (৭/৪৪) দূর্দান্ত বোলিংয়ে ইংলিশরা স্কোরবোর্ডে তুলতে পারলো সাকুল্যে ৭৭ রান। আর অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটা জিতে যায় ৭ রানে!

২০০০ সালের ত্রিনিদাদ টেস্টে প্রায় অঘটন ঘটিয়েই ফেলেছিলো জিম্বাবুয়ে। হিথ স্ট্রিকের ৪ উইকেট আর মারফির ৩ উইকেটে ক্যারিবিয়ানরা প্রথম ইনিংসে করতে পারলো মাত্র ১৮৭! জবাবে প্রথম ইনিংসে এন্ডি ফ্লাওয়ারের ২৩০ বলে ১১৩ রানের দূর্দান্ত ইনিংসে ভর করে জিম্বাবুইয়ানদের সংগ্রহ ২৩৬। প্রথম ইনিংসে তখনকার মাইটি ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের বিপক্ষে ৪৯ রানের লিড নিলো নিজেদের ক্রিকেটের সোনালী সময় কাটানো জিম্বাবুয়ে।

দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবিয়ানরা আবারো নাজেহাল হিথ স্ট্রিকের সামনে। এবার উইন্ডিজের সংগ্রহ ১৪৭! হিথ স্ট্রিক ৫/২৭! ৯৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুইয়ানরা কার্টলি অ্যাম্ব্রোসকে কোনমতেই সামলাতে পারলো না। অল আউট হয়ে গেলো ৬৩ রানেই! নিশ্চিত হারা ম্যাচটা উইন্ডিজ জিতে গেলো ৩৫ রানে!

২০০৪ সালে মুম্বাই টেস্টে তরুণ অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান মাইকেল ক্লার্ক যেনো পুরোদস্তুর বোলার বনে গেলেন! প্রথম ইনিংসে বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে ভারত করতে পারলো মাত্র ১০৪ রান। রাহুল দ্রাবিড় একপ্রান্ত আগলে অপরাজিত থাকলেন ৩১ রানে। এর জবাবে প্রথম ইনিংসে অজিদের সংগ্রহ ২০৩। অবশ্য দ্বিতীয় ইনিংসে ভালোই এগোচ্ছিলো ভারত। ১৮২-৪ এমন সময় অজি ক্যাপ্টেন রিকি পন্টিং বোলিং এ আনলেন মাইকেল ক্লার্ককে।

১৮২/৪ থেকে ভারত স্কোরবোর্ডে যোগ করতে পারলো মাত্র ২৩ রান। সোজা কথায় ১৮২-৪ থেকে ২০৫ রানে অল আউট! মাইকেল ক্লার্ক ৯ রানে ৬ উইকেট! ১০৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা অজিদের একরকম নাচিয়ে ছেড়ে দিলো হরভজন সিং। ৫ উইকেট নেয়া হরভজন সিংয়ের বোলিং তোপে অজিরা অল আউট ৯৩ রানেই। ভারত ম্যাচটা জিতে যায় ১৬ রানে!

দ্য ওভাল টেস্ট, ১৮৯৬ সাল। হাফ ট্রাম্বলের ৬/৫৯ এ ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে করতে পারলো মাত্র ১৪৫ রান। জবাবে বিনা উইকেটে ৭৫ রান করা অস্ট্রেলিয়া ইংলিশ বোলার জ্যাক হার্নের বোলিং তোপে অস্ট্রেলিয়া অল আউট ১১৯ রানে! দ্বিতীয় ইনিংসে আবারো হাফ ট্রাম্বলেকে খেলতে গিয়ে বিপদে পড়লো ইংলিশরা। ট্রাম্বলের ৬/৩০ এর বিধ্বংসী বোলিংয়ে সফরকারী অস্ট্রেলিয়াকে টার্গেট দেয়া গেলো ১০৭।

জবাবে ববি পিলের ৬/২৩ আর জ্যাক হার্নের ৪/১৯ এ অস্ট্রেলিয়া অল আউট ৪৪ রানেই যার মধ্যে ৩৩ রান কিংবদন্তি ডব্লিউ জি গ্রেসের! ১১১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা অজিরা ম্যাচ হারলো ৬৭ রানে!

১৮৮৭ সাল। সিডনি টেস্ট। চার্লি টার্নারের ৬/১৫ আর জেজে ফেরিসের ৪/২৭ এ ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে উড়ে গেলো ৪৪ রানে! অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে অল আউট ১১৯ রান করেই। এরপর সম্ভবত টেস্ট ইতিহাসে সবথেকে ধীর গতির ইনিংস খেলে সফরকারী ইংলিশরা। ১৩৬.২ ওভারে ইংলিশদের সংগ্রহ ১৮৪! জিততে হলে অস্ট্রেলিয়ার লাগবে ১১১ রান। জবাবে বিলি বার্নসের ৬/৪৭ এ অজিরা ম্যাচটা হেরে যায় ১৩ রানে!

আবারো সিডনি।তবে সালটা ১৯৯৪ আর এবারে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ সদ্যই নির্বাসন থেকে ফেরা দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৯৯৪ সালে সিডনিতে সাউথ আফ্রিকা জেতার জন্য অস্ট্রেলিয়াকে টার্গেট দিলো ১১৭। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি এই যে, আফ্রিকানরা ম্যাচটা জিতে যায় ৫ রানে!

১৯৯৭ সাল। ব্রিজিটাউনে টসে জিতে ফিল্ডিং নিলো ভারত। ভেঙ্কটেশ প্রসাদ ৮২ রানে ৫ উইকেট নিলেও শিবনারায়ন চন্দরপলের ১৩৭ রানে ভর করে উইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৯৮। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২৫৩/৩ থেকে ৩১৯ রানেই অল আউট হয়ে যায় ভারত। দ্বিতীয় ইনিংসে উইন্ডিজ করতে পারলো সাকুল্যে ১৪০ রান। ইন্ডিয়ার সামনে লক্ষ্য ছিলো ১২০ রানের। অ্যাবে কুরুভিল্লার দূর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচটা হেরে যায় ভারত!

আবার ১৯৯৭ সাল। ঐতিহ্যবাহী দ্য ওভাল গ্রাউন্ডে প্রথম ইনিংসে গ্লেন ম্যাকগ্রার (৭/৭৬) বোলিং তোপে ইংল্যান্ড অল আউট হয় ১৮০ রানে। অজিদের প্রথম ইনিংসও সুবিধার হয় নি। ফিল টাফনেল(৭/৬৬) উপযুক্ত জবাব দেন ম্যাকগ্রার বোলিং তোপের। অজিরা অল আউট ২২০ রানে।

দ্বিতীয় ইনিংসে মাইকেল ক্যাসপ্রোউইকস(৭/৩৬) এর দূর্দান্ত বোলিং এ ইংলিশরা গুটিয়ে যায় মাত্র ১৬৩ করে। অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১২৪। টাফনেলের ৪/২৭ এবং এন্ড্রু ক্যাডিকের ৫/৪২ এ ইংলিশরা অজিদের থামিয়ে দিলো ১০৪ রানে। ফলাফল? ইংলিশরা জয়ী ২০ রানে!

১৯০২ সালে ম্যানচেস্টারে ভিক্টর ট্রাম্পারের ১০৪ এ ভর করে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে করে ২৯৯। ইংল্যান্ডের পক্ষে বিল লকউডের বোলিং ফিগার ছিলো ৬/৪৮! জবাবে স্ট্যানলি জ্যাকসনের ১২৮ রানের ইনিংসের পরেও ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬২। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেই বিপদে পড়ে যায় সফরকারী অজিরা।

আবারো সেই লকউডের বিধ্বংসী বোলিং আর অজিরা প্যাকেট মাত্র ৮৬ রানে! ইংল্যান্ডের সামনে  লক্ষ্য দাঁড়ায় ১২৪। ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে ১০০ রান করে ফেলে ৫ উইকেটে। তখনই দৃশ্যপটে আসেন হাফ ট্রাম্বল এবং জ্যাক সন্ডার্স। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে ৫ উইকেটে ১০০ রান করা ইংল্যান্ড অল আউট হয়ে যায় ১২১ রানে!আর অস্ট্রেলিয়া জিতে যায় ৩ রানে!

১০

আবারো অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড ম্যাচ। ১৮৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়া ১২৪ রানের টার্গেট দেয় ইংল্যান্ড কে। কিন্তু চার্লি টার্নার এবং জেজে ফেরিসের ধ্বংসাত্মক বোলিংয়ে ইংল্যান্ড ম্যাচটা হেরে যায় ৯ রানে! অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ জিতে যায় দু’দিনেই।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।