সাব্বিরের স্ট্যাম্পিং ও দ্বিতীয় দিনের পরিকল্পনা

ঢাকার সাথে চট্টগ্রামের উইকেটের চরিত্রগত কিছু পার্থক্য আছে। চট্টগ্রামের উইকেটে প্রথম দিনে স্পিনারদের জন্য টার্ন এসেছে সামান্য; বাউন্স ও পেস – দুটোই ছিল কম। যথারীতি স্লো উইকেট। মিরপুরের চেয়ে উইকেট তুলনামূলক সহজ। তবুও, শট খেলে রান বের করা এমন উইকেটে খুবই শক্ত।

তাই, দিন শেষে ছয় উইকেটে ২৫৩ রানের স্কোরটা সন্তোষজনক। কন্ডিশন আর অস্ট্রেলিয়ান বোলিং আক্রমণের চাপটা মাথায় রাখলে বলা যায়, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা মন্দ খেলেননি।

বাংলাদেশ নি:সন্দেহে প্রথমদিনে ভাল অবস্থানে থেকেই শেষ করেছে। তবে, অস্ট্রেলিয়ানদের চেয়ে তাদের স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রাখার সুযোগ নেই। অস্ট্রেলিয়ানদের ‘আউটপ্লে’ করার সুযোগ আছে আগামীকাল সকালে, দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে।

কাল সকালের সেশনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে বাংলাদেশ যদি, ৩৫০ অবধি যেতে পারে তাহলে অস্ট্রেলিয়া পাহাড়সমান চাপের মুখেই পড়বে। কারণ, এই উইকেটে ৩৫০ ইজ নট অ্যা ম্যাটার অব জোক।

উইকেটের ব্যাপারে আগাম অনুমান করা মুশকিল। আগামী দু’দিন কী অপেক্ষা করছে, সেটা আগে থেকে বলা মুশকিল। তবে, বাংলাদেশ যতদূর নিজেদের ইনিংসটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে ততিই মঙ্গল। অন্তত, লাঞ্চ পর্যন্ত গেলে সেটা দারুণ একটা ব্যাপার হবে।

দিনে বাংলাদেশের টার্নিং পয়েন্ট হল মুশফিকুর রহিম ও সাব্বির রহমান রুম্মানের জুটি। ১১৭ রানে পঞ্চম উইকেটের পতনের পর এই দু’জন এক সাথে ষষ্ঠ ‍উইকেট জুটিতে যোগ করে ১০৫ রান। তাতে, ২৫০ রানের উপরে গিয়ে চার উইকেট হাতে রেখে দিনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ।

সাব্বির পেয়ে যান ক্যারিয়ারের সেরা টেস্ট ইনিংসের দেখা। ৬৬ রান করে নাথান লিঁও’র বলে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন। তিনি দিনে অফ স্পিনার লিঁও’র পঞ্চম শিকার। যদিও, তার আউটটি যথেষ্ট জলঘোলা করলো শেষ বিকেলে। যদিও, উন্নতমানের টেলিভিশন রিপ্লে নিশ্চিত করলো আউটই ছিলেন সাব্বির। ক্লোজ, বাট ক্লিয়ার।

তবে, দিনের বাকিটা কোনো ঝামেলা ছাড়াই কাটিয়ে দিয়েছেন মুশফিক ‍ও নাসির। অধিনায়ক ৬২ রান আর নাসির ১৯ রান করে অপরাজিত আছেন। এর পর নামবেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩০০-৩৫০ অবধি যাওয়াটা তাই আকাশকুসুম কোনো ভাবনা নয়।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।