সাফল্য যাদের জন্য সোনার হরিণ

‘ফেইলিওর ইজ দ্য পিলার অব সাক্সেস’ – কথাটা আমরা বইপুস্তকে পড়েছি। বাস্তবেও অনেক উদাহরণ আছে। আবার এমন অনেকেই আছেন, যারা জীবনে একের পর এক ব্যর্থতাই দেখে গেছেন, সফল হয়েছেন খুব কম। যেমন এই বলিউড তারকারারা। সাফল্য তাদের জন্য রীতিমত সোনার হরিণ।

জায়েদ খান

‘ম্যায় হু না’ সিনেমায় শাহরুখ খানের সাথে অভিষেক। মনে করা হচ্ছিল সঞ্জয় খানের ‘সুপুত্র’ বাকি ক্যারিয়ারটা আরামসে কাটিয়ে দেবেন। হল উল্টোটা। ফাইট ক্লাব, ব্লু, যুবরাজ, ক্যাশ, স্পিড, দাস, মিশন ইস্তাম্বুলের মত বিগ বাজেটের সিনেমাগুলো বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়লো।  হারিয়ে গেলেন জায়েদ। যদিও এখন তিনি ‘হাসিল’ নামের একটি টেলিভিশন সিরিয়ালে সাফল্যের খোঁজ করছেন।

নিল নিতিন মুকেশ

২০০৭ সালে অভিষেকে সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল নিল নিতিন মুকেশের ‘জনি গাদ্দার’। গায়ক নিতিন মুকেশ এরপর লাফাঙ্গে পারিন্দে, সাত খুন মাফ, ডেভিড প্রেম রতন ধান পায়ো সিনেমায় ভাল কাজ করেন। যদিও, বক্স অফিসের সাফল্য আসেনি, প্রেম রতন ধান পায়োতে উৎরে গেছেন সালমান খানের বদৌলতে। প্লেয়ার্স, ইন্দু সরকার, ওয়াজির সিনেমাগুলোও ব্যর্থ হয়। যদিও, লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ববি দেওল

তার বাবা ধর্মেন্দ্র, বড় ভাই সানি দেওল, সৎ মা হেমা মালিনী। প্রথম সিনেমা ১৯৯৫ সালে ‍মুক্তি পাওয়া ‘বারসাত’, যার জন্য তিনি ফিল্মফেয়ারের বিবেচনায় সেরা নবাগত অভিনেতার পুরস্কার জিতে নেন। এরপর একে একে ‘সোলজার’, ‘গুপ্ত’ কিংবা ‘বাদল’-এর মত থ্রিলার সিনেমা করেন। তবুও, ববির কখনো বাবা-ভাইদের মত বলিউডের প্রথম শ্রেণিতে আসা হয়নি। বরং থ্যাংক ইউ, শাকা লাকা বুম বুম, প্লেয়ারস, ঝুম বারাবার ঝুম, কিংবা সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া পোস্টার বয় – কোনো কিছু থেকেই খুব ভাল কিছু পাননি ববি। যদিও, সম্প্রতি রেস সিরিজের সিনেমা দিয়ে আবারো সালমান খানের সাথে ভাগ্যের সন্ধানে নামবেন তিনি।

বিবেক ওবেরয়

বিবেক ওবেরয় হলেন বলিউডের আক্ষেপ। ২০০২ সালে কোম্পানি সিনেমার আন্ডারওয়ার্ল্ড চরিত্র বা সাথিয়ার রোমান্টিক আদিত্য – কি দারুণ ভাবেই না নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিলেন। এরপর যুবা, মাস্তি, ওমকারা, শুটআউট অ্যাট লোখান্ডওয়ালা, কুরবান, রক্ত চরিত্র সিনেমায় মুগ্ধ করেছিলেন। শোনা যায়, সালমান খানের সাবেক প্রেমিকা  ঐশ্বরিয়া রায়ের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে ভাইজানের রোষের মুখে পড়েছিলেন।  তবে, তিনি নিজেই কিউ হো গ্যায়া না, মিশন ইস্তাম্বুল, গ্রেট গ্র্যান্ড মাস্তি, জিলা গাজিয়াবাদ, কিসমত লাভ প্যায়াসা দিল্লী, ব্যাংক চোর সিনেমায় ফ্লপ হয়ে নিজের নাম ডুবিয়েছেন। যদিও চলতি বছরের ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েব সিরিজ ‘ইনসাইড এজ’-এ তিনি ছিলেন এক কথায় অবিশ্বাস্য।

ফারদিন খান

সঞ্জয় খান ও আকবর খান তার চাচা, বাবা খোদ ফিরোজ খান। অথচ, সেই ফারদিন খান আজ বাজে স্ক্রিপ্ট নির্বাচন আর ফিট থাকতে না পেরে বলিউড থেকে দূরে আছেন। জাঙ্গাল, ওম জ্যায় জাগদিশ, নো এন্ট্রি, হেয় বেবি, অল দ্য বেস্ট সিনেমায় নিজের যে ইতিবাচক ইমেজ তৈরি করেছিলেন সেটা লাভ কে লিয়ে কুছ ভি কারেগা, অ্যাসিড ফ্যাক্টরি, লাইফ পার্টনার, দুলহা মিল গ্যায়া, প্যায়ারে মোহানের মত সিনেমা করে বিসর্জন দিয়েছেন।

আফতাব শিভদাসানি

১৯৮৭ সালে মিস্টার ইন্ডিয়া সিনেমাতে অনিল কাপুর ও শ্রীদেবীর সাথে শিশু চরিত্র হিসেবে ছিলেন। ১৯৯৯ সালে উর্মিলা মাতন্ডকারের সাথে ‘মাস্ত’ সিনেমা করে। সেরা নবাগত হিসেবে পেয়ে যান জি সিনে পুরস্কার। ২০০০ সালে লিসা রে’র সাথে ‘কাসুর’ সিনেমার জন্য সেরা নেতিবাচক চরিত্রের পুরস্কারও পান। বাকিটা অন্ধকার, দুই একটা সিনেমা ব্যবসা করলেও তাতে আফতাবের অবদান ছিল সামান্য। বরং অ্যাসিড ফ্যাক্টরি, জানি দুশমন, লাভ কে লিয়ে কুছ ভি কারেগা ইত্যাদি সিনেমা তাকে তৃতীয় শ্রেণির নায়কে পরিণত করে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।