সাধারণ গল্পের অসাধারণ নির্মান

ঢাকা অ্যাটাক প্রবল গর্জনের সাথে এখনো অ্যাটাক চালিয়ে যাচ্ছে সিনেমা হলগুলোয়। মুভি দেখেছিলাম আরো এক সপ্তাহ আগেই। একটু দেরীতে হলেও লিখতে বসলাম। আসলে, এমন সিনেমা নিয়ে না লিখে থাকা যায় না।

গল্প

মুভির গল্প বেশ কমন। ঢাকা শহরে কিছু খুন এবং এরপরে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিটা খুন আর বোম্ব ব্লাস্টের সময় একটা করে চিহ্ন রেখে যায় খুনি। পুলিশের বোম্ব স্কোয়াড আর স্পেশাল ফোর্স সোয়াট-কে নিয়ে একটা টিম গঠন করে এই খুন এবং বোমা হামলার ঘটনা্র পিছনের মানুষকে খুজে বের করার নির্দেশ দেয়া হয়। খুনিকে ধরতে শুরু হয় দারুন উপভোগ্য চোর-পুলিশ খেলা। শেষ পর্যন্ত খুনিকে পুলিশ ধরতে পারে কিনা জানতে হলে দেখতে হবে মুভি।

মোটামুটি বেশ কমন গল্প, প্রায় একইরকম গল্পে বহু মুভি হয়ে গেছে আগেই। তাহলে ঢাকা অ্যাটাকে নতুন কি আছে? নতুনত্ব এর প্রেজেন্টেশনে। ‘হ্যান্ডস আপ! আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না’ বলে সবসময় বাংলা মুভির শেষে এন্ট্রি মারা পুলিশ এইবার নায়কের ভুমিকায়। কিভাবে তারা কাজ করে, কিভাবে বিভিন্ন অত্যধুনিক ডিভাইসের সহায়তা নেয়, কিভাবে একটা কেস সলভ করে, কিভাবে শত্রুর মোকাবেলা করে- এগুলা খুব সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে এই মুভিতে, যেগুলা আমাদের অনেকেরই অজানা ছিল। আবার ভেবে বসবেন না এসব দেখাতে গিয়ে মুভিটা ডকুমেন্টারি টাইপের বোরিং বানিয়ে ফেলেছে, বরং একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চরম থ্রিল যেমন মেইন্টেইন করা হয়েছিল, তেমন ছিল অনেক মাসালা এলিমেন্টও, যেগুলো সাধারন দর্শক খুব পছন্দ করে, হাততালি ও শিশ বাজায়। ওভারওল বলতে হয় মুভিটা সাধারন গল্পের দারুন বুদ্ধিমত্তার সাথে চমৎকার প্রেজেন্টেশন।

অভিনয়

অভিনয়ের কথা বলতে গেলে সবার আগে বলতে হয় শতাব্দী ওয়াদুদের কথা। স্পেশাল টিম লিডিং পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় একদম পারফেক্ট অভিনয় ছিল তার। এরপর আসে সুমনের কথা। একটু রোবটিক এক্সপ্রেশনের সুমন সোয়াট লিডারের ভুমিকায় মানিয়ে গেছেন চমৎকার। বিশেষ করে সন্তানসম্ভবা অসুস্থ স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে দেশের জন্য শত্রুর বিপক্ষে তার দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই যে কোন দর্শকের গায়ের লোম খাড়া করে দিতে বাধ্য।

এর বাইরে শুভ ঠিকঠাক ছিলেন সবসময়ের মতই। নট পারফেক্ট বাট নট ব্যাড। আসলে মেইন হিরো হলেও পার্টনার সুমন আর ভিলেনের ছায়ায় একটু ঢাকা পড়ে গেছেন তিনি আমার মতে।

মাহী ছিলেন চরম বিরক্তিকর। তার অতিরিক্ত ন্যাকামো পুরো মুভির বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছিল। ইমোশাল দৃশ্যে তার ন্যাকা কান্না দেখে দর্শক উলটা হোহো করে হাসতেছিল।

শেষে বলতে হয় ভিলেনের কথা। উফফফফ! বাংলা মুভির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর ভিলেনের লিস্টে যোগ হল আরেকটা নাম। এই মুভির পুরো প্রচারনায় কোথাও ভিলেনের নাম/ছবি প্রকাশ করা হয়নি, কারনও ছিল, সেটা মুভি দেখলেই বুঝে যাবেন। সংগত কারনেই আমিও তার নাম বলছি না যাতে যারা এখনো মুভি দেখেনি তাদের মজা নষ্ট না হয়। বিলিভ মি, জাস্ট তব্দা খেয়ে যাবেন তার ভয়ংকর রুডনেসে ভরা অভিনয় দেখে। তার নীল চোখগুলা যেন জ্বলছিল আগুনে!

গান

গানগুলা সুন্দর ছিল। যদিও অরিজিৎ সিংয়ের গান নিয়ে বেশি আশা ছিল তবে গানটা তেমন আহামরি কিছু ছিল না অরিজিৎ স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী। বরং এরচেয়ে অদিতের ‘পথ যে ডাকে’ গানটা অনেক ইমোশনাল ছিল।

আর মুভিতে একটা আইটেম গান ছিল। একসময় বাংলাদেশ কাপানো কাওয়ালী গান ‘টিকাটুলির মোড়ে’ এই মুভিতে নতুন করে রিমেক করা হয়েছে আইটেম সং হিসেবে। বাংলা মুভিতে আইটেম সং-গুলো জোর করে ঢুকানো হয় কোন কারণ ছাড়া, যেগুলো বেশিরভাগই দেখার যোগ্য না। কিন্তু এই মুভিতে আইটেম সং একদম জায়গামত ইউজ করা হয়েছে খুবই শ্লীলভাবে। দর্শক প্রচুর মজা পেয়েছে এই গানে, আমি সনি হলে দেখেছিলাম, অনেক পোলাপাইন সিট ছেড়ে নাচানাচি করেছে এই গানের সাথে।

শেষে বলতে চাই এইরকম মুভি যত বেশি করে হবে আমাদের দেশের মুভির ইন্ড্রাস্টি ততই স্বাবলম্বী হবে, পাশের দেশের একটা ইন্ড্রাস্ট্রির মুভি ভাড়া করে এনে সিনেমা হল চালাতে হবে না। আমি চাই সবাই হলে গিয়ে মুভিটা দেখুন এবং এই মুভির সাথে সম্পৃক্ত সবাইকে আরো ভাল ভাল কাজ করার উৎসাহ দি্ন। কারণ, এরকম মুভি আমরা আরো বেশী বেশি দেখতে চাই এবং হলে গিয়েই দেখতে চাই।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।