সাকিব-তামিম আমাদেরই থাকবেন, তবে…

কোন এক পিএসএল এর সময়কার ঘটনা। দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ম্যাচসেরা তামিম ইকবাল। পুরস্কার বিতরণীতে মুখোমুখি রমিজ রাজা’র। শুরুতেই রমিজ বলতে গেলেন, ‘ইংরেজি চলবে নাকি…….’

রমিজ রাজা জানতেন যে তামিম খুব ভাল ইংরেজি জানেন। তবে কেন তিনি একথা বললেন? কারণ হচ্ছে, তিনি এটাও জানতেন তামিম উর্দু জানেন। যে কারণে তিনি বলতে চেয়েছিলেন, ‘ইংরেজি চলবে নাকি উর্দু?’

কিন্তু বিচক্ষণ তামিম সেদিন তাকে সেই ‘উর্দু’ বলার প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগও দেননি। আগেই বলে দিয়েছিলেন ইংরেজিতে বলবেন।

রমিজ চেয়েছিলেন সারা পৃথিবীর সামনে একজন বাংলাদেশিকে দিয়ে উর্দু বলাতে। একই চেষ্টা একবার ভারতের বিপক্ষে সিরিজে সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের সাথেও করা হয়েছিল। সাকিবও সেদিন সরাসরি ইংরেজিতে বলেছিলেন, তিনি হিন্দিতে করা প্রশ্নটা বুঝতেই পারেননি! অথচ এমন কিন্তু নয় যে সাকিব হিন্দি জানেন না।

আসল ব্যাপারটা এখানেই। আপনি ভিন্ন একটা ভাষা জানতেই পারেন। কিন্তু কোথায় সেটা ব্যাবহার করা যাবে, কোথায় করা যাবে না, এই বোধটুকুই আসল। যেটা গড়পরতা অনেক বাংলাদেশিদেরই নেই।

সেই সাকিব ও তামিম যে পশতুন ভাষা জানেন না, এটা বুঝতে বহুভাষাবিদ হতে হয় না। এটা ভেবে নেয়ারও কোন কারণ নেই, হঠাৎ করেই সাকিব-তামিম ইকবাল পাকিস্তানের প্রতি আলাদা মমতা অনুভব করা শুরু করেছেন।

আরো মজার ব্যাপার হচ্ছে, পাকিস্তানের পশতুন ভাষাভাষীদের একটা ছোট অংশ বেলুচিস্তানের অধিবাসী। যাদের অবস্থা অনেকখানি একসময়কার বাংলাদেশীদের মত। তারাও পাকিস্তান থেকে আলাদা হবার জন্য লড়ছে, লড়ছে স্বাধীনতার জন্য।

তাই বলে, এটা ভেবে নেয়ারও কোন কারণ নেই যে, বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার আন্দোলনকে সমর্থনের জন্য সাকিব-তামিম এই টুইট করেছেন। তারা এটা করেছেন, স্বাভাবিক সৌজন্য হিসেবে, ফ্রাঞ্চাইজির অনুরোধে সাড়া দিয়ে। নিজের দেশের মানুষের আবেগ মাথায় রেখে যেটা না করলেও পারতেন।

পাকিস্তানকে সাকিব-তামিম আর দশটা ক্রিকেট খেলুড়ে দেশ হিসেবেই দেখেন। বিশেষ কোন ভালবাসা বা ঘৃণা কিছুই লালন করেন না। আর সমস্যাটা এখানেই। তাদের এই ‘নিরপেক্ষ’ আচরণই পাকিস্তান প্রীতিকে জায়েজ করার উপলক্ষ্য এনে দেয় অনেকের জন্য।

সাকিব-তামিমের এমন টুইটে একজন সচেতন বাংলাদেশি ধাক্কা খাবেন, আহত হবেন, কষ্ট পাবেন, এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। একই সাথে এমন ভুলের জন্য সাকিব-তামিম দেশদ্রোহীও হয়ে যাবেন না। আমাদেরই থাকবেন।

আমি মনে রাখবো পাকিস্তানকে ‘পরাণ ভরে’ হারিয়ে সাকিবের তৃপ্তির কথা। পাকিস্তানের বিপক্ষে তামিমের টানা দুই ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি কিংবা ছক্কা মেরে ডাবল সেঞ্চুরির কথা। ওয়াহাব রিয়াজকে গলার রগ ফুলিয়ে, চোখ পাকিয়ে সাকিবের শাসানির কথা।

আর চিনে রাখবো সেই সব চালবাজদের, এধরনের কোন সুযোগ আসলেই যারা ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ তথা বাংলাদেশের জন্য আলাদা আবেগ বুকে লালন করা মানুষদের এক হাত দেখে নেন!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।