সাকিবরা আপনারটা খায় না, পরেও না!

ক্রিকেটারদের সাফল্য সমর্থকদের গর্বিত করে। আবার তাদের বিপুল আর্থিক প্রাপ্তি এক দল সমর্থককে ‘ঈর্ষান্বিত’ করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু মানুষ প্রশ্ন করেন – ‘দেশের মানুষের কষ্টের টাকায় ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের পেছনে এত খরচ করে দেশ ও জাতির কী উপকার হয়?’

বাস্তবতা হল, এই প্রশ্নটাই ভুল। ক্রিকেটারদের বেতন-বোনাস দেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকায় হয় না। ক্রিকেটাররা সরকারী চাকুরী করেন না। তারা চাকরী করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। বিসিবি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তাদের নিজস্ব আয় আছে। ক্রিকেটার পারিশ্রমিক, বেতন, বোনাস আসে বিসিবির নিজস্ব আয় থেকে।

এবার প্রশ্ন হল বিসিবির আয়ের উৎস কী? বিসিবি নানারকম ঘরোয়া ক্রিকেটের স্পন্সর, বিপিএল, অন্যান্য ফ্র‍্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট, বিদেশি দলগুলোর সফর আর স্পন্সরদের থেকে আয় করে। এর বাদে টিকেট বিক্রি, বড় বড় টুর্নামেন্টের প্রাইজমানি তো আছেই।

বিসিবি যে আয় করে তার সামান্য একটা অংশ ব্যয় ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের পেছনে। আর সাকিব-তামিম-রিয়াদ কিংবা মুস্তাফিজ বিদেশি ফ্র‍্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলে যে আয় করেন তার বড় একটা অংশ ট্যাক্স দিতেই চলে যায়। এছাড়া ক্রিকেটারদের বিজ্ঞাপন থেকে পাওয়া আয়, নিজস্ব স্পন্সরদের থেকে পাওয়া আয়ের ওপরও ট্যাক্স আছে। প্রতিবছর আয়কর সপ্তাহ ফলো করলে দেখবেন, শীর্ষ করদাতাদের মধ্যে ক্রিকেটাররা আছেন।

ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স যত ভাল হবে, তাদের আয় যত বাড়বে। পরোক্ষ ভাবে তাতে দেশের উপকারই হবে। বোঝা যাচ্ছে, ক্রিকেটাররা সাধারণ মানুষেরটা খাওয়া কিংবা পড়া তো দূরের কথা, সরকারী আয়ে তাদের বড় একটা কন্ট্রিবিউশন থাকে।

এটুকু শুনে-বুঝে অনেকে ক্ষান্ত দিতে চান না। ফিরতি প্রশ্ন করেন, শুধু ক্রিকেটই কেন? দেশে কি আরো খেলা নেই? – এই প্রশ্নের ‍উত্তরটা একটু ভেঙে দেই।

ব্যাপারটা মোটেও এমন নয় যে সরকার ক্রিকেটের পেছনে টাকা ঢালে বলেই ক্রিকেটে উন্নতি হচ্ছে। আমাদের ১৯৯৭ এ আইসিসি ট্রফি খেলতে যাওয়ার বিমানের খরচ দেওয়ারও কেউ ছিল না। ক্রিকেটের স্পন্সরের জন্য তখন হাতে পায়ে ধরতে হত।

বিমান বাংলাদেশকে ম্যানেজ না করা গেলে আমাদের সেবার আইসিসি ট্রফিতে যাওয়াই হয় না। বিশ্বকাপ খেলা, পাকিস্তানকে হারানো, টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া তো বহুত দূর কি বাত!

টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া আর নিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার পরও ক্রিকেটে স্রেফ সাক্সেসের অভাব ছিল বলে স্পন্সর আসতো না। এখন তামিম-সাকিব-মাশরাফিরা অতিমানবীয় পারফর্ম্যান্স করেন বলে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো তীর্থের কাকের মত বসে থাকে। সাকিব-তামিমদের কেবল সাফল্য আছে বলেই বাংলালিংক-রবিরা তাদের হন্যে হয়ে খোঁজে।

এভ্রিথিং ডিপেন্ডস অন সাক্সেস। অন্যান্য খেলায় সাক্সেস আসলে স্পন্সরও আসবে। সাক্সেস আনার দায়িত্ব খেলোয়াড় আর বোর্ডের। ক্রিকেটেও তাই হয়েছে।

দেয়ার ইজ নো ফ্রি লাঞ্চ!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।