সাইফ ‘দ্য আদার’ খান

সাল ২০০১। সময়টা মোটেই ভালো যাচ্ছে না তাঁর। সমসাময়িকরা বেশ জনপ্রিয় হয়ে গেছেন, এমনকি জুনিয়র রাও এগিয়ে যাচ্ছে। ছবি করছেন ঠিকই, কিন্তু সেভাবে জ্বলে উঠছেন না। নিজের মেধারও সমুজ্জ্বল প্রমান দিতে পারছেন না।

সেই সময় ফারহান আখতার বুঝলেন তাঁর মেধার ধার, নিজের পরিচালিত প্রথম ছবিতেই নির্বাচন করলেন তাকে, চরিত্রটা হয়তো প্রধান নয়, তবে সহ অভিনেতা হয়েই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখলেন। নতুন করে আলোচিত হতে থাকেন, ক্যারিয়ারে মাইলফলক হয়ে রইলো ছবিটি। ছবির নাম ‘দিল চ্যাহতা হ্যায়’, আর এই ছবিতেই ‘রোহিত’ হয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হয়ে চমক লাগিয়ে দেন নবাব সাইফ আলী খান।

বাবা ক্রিকেটার, ভারতের সাবেক অধিনায়ক মনসুর আলী খান, মা বলিউড ও বাংলা ছবির কিংবদন্তি অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। এতকিছুর পর বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার যশ চোপড়ার ‘পরম্পরা’ দিয়ে যার চলচ্চিত্রে অভিষেক, তার আবার চিন্তা কিসে!

কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি সাইফের, ছবিটি নাম লিখিয়েছিল ফ্লপের খাতায়, এরপর আশিক আওয়ারা, পেঁহচান, কাঁচে দাগে, হামেশাসহ প্রায় ছবিই ফ্লপ। ইয়ে দিল্লেগী, ম্যায় খিলাড়ি তু আনাড়ি, হাম সাথ সাথ হ্যায় ছবিগুলো বাণিজ্যিক ভাবে সফল হলেও সহ অভিনেতা হওয়ায় জ্বলে উঠতে পারেননি। দর্শকপ্রিয় ছবি ‘র‍্যাহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ তেও স্বল্প উপস্থিতি তাঁর।

দিল চ্যাহতা হ্যায়’র পর ‘কাল হো না হো’। এই ছবিতেও তিনি প্রধান নন, তবে তাঁর অনবদ্য অভিনয়ে পুরো ছবিটিকে জমিয়ে রাখলেন, এই ছবিটির রেশ না কাটতেই এলো ‘হাম তুম’। এইবার তিনি প্রধান চরিত্র,দর্শক থেকে সমালোচক সবার মন ভরালেন। তখন থেকেই তিনি হয়ে উঠলেন ‘দ্য আদার খান অব বলিউড’!

শরৎ বাবুর ‘পরিনীতা’য় শেখর চরিত্র করার পর ‘সালাম নমস্তে’র মত সফল ছবি। সাইফ আলী খান তখন উজ্জ্বল তারকা, এমন সময় ‘ওমকারা’য় সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেন, খল হয়েও তিনি হয়ে উঠলেন আকর্ষনীয়।

এরপর আবার কিছুটা ভাটা। একলব্য, তাশানের মত সুপারফ্লপের পর ‘রেস’ এর মত সুপারহিট ছবি দিয়ে ভাগ্য একেবারেই সুপ্রসন্ন, এর ঠিক পরের বছর উপহার দিলেন আরেক হিট ছবি ‘লাভ আজকাল’। এরপর কিছুটা বিরতি দিয়ে উপহার দিলেন। ‘রেস ২’ ও ‘ককটেল’ এর মত বাণিজ্যিক সফল ছবি, অবশ্য সেই বছরেই নিজের প্রযোজিত ‘এজেন্ট বিনোদ’ পেল সুপারফ্লপের স্বাদ।

মাঝে ‘অরক্ষন’ ছবিটিও আলোচিত হয়েছিল। এরপর ফ্যান্টম, গো গোয়া গন, বুলেট রাজা, হামশাকালস, হ্যাপি এন্ডিং সহ আরো বেশ কয়েকটি ছবি করলেন, কিন্তু বাণিজ্যিক সফলতা পায়নি। মুক্তির অপেক্ষায় আছে শেফ, বাজারের মত ছবি, আশা করি আবার তিনি জ্বলে উঠবেন। একক নায়ক হিসেবে হয়তো ওনার জনপ্রিয়তা কম, তবে তিনি একজন স্বার্থক অভিনেতা।

বর্ণিল ক্যারিয়ারে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, পদ্মশ্রী, পাঁচবার ফিল্মফেয়ারসহ আরো বহু পুরস্কার। ব্যক্তিজীবনে ক্যারিয়ারের প্রথম দিকেই বিয়ে করেন অভিনেত্রী অমৃতা সিং কে। প্রায় এক যুগের ও বেশি সংসার করার পর দু’জনে বিচ্ছেদ নেন। এরপর বিয়ে করেন জনপ্রিয় নায়িকা কারিনা কাপুরকে। তিন সন্তানের জনক এই অভিনেতার পারিবারিক ও চলচ্চিত্র – দুটো জীবনই বর্ণীল হওয়ার প্রত্যাশা করি।

১৯৭০ সালের ১৬ আগস্ট জন্মেছিলেন। ক্যারিয়ারের প্রথম ধাপটা অনেক উত্থানপতনে কেটেছে। সম্প্রতি দ্বিতীয়বারের মত পুত্র সন্তানের বাবা হয়েছেন। কিন্তু, ক্যারিয়ারে আবারো ছন্দপতন। আবারো টানা ফ্লপ। সাইফের ক্যারিয়ারের শেষই দেখে ফেলেছিলেন অনেকে।

এই সময়ে মুক্তি পায় ওয়েব সিরিজ ‘স্যাকরেড গেমস’। সাইফের ক্যারিয়ার পেয়ে গেল আরেকটি লাইফলাইন। আবার না হয় শুরু হোক বদলে যাবার মিশন!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।