সমস্যা সৌম্যর নাকি পরিকল্পনার?

তিনি ৪ ইনিংসে ৮, ১৫, ৩৩ ও ৯ রান করেছেন, সেটা সমস্যা না! সমস্যা হল এই ৬৫ রানের ৪২ এসেছে বাউন্ডারি থেকে। অথচ তিনি খেলেছেন মোট ১৫৮ বল! অর্থাৎ ৯ টি চার ও ১ ছয়ে ১০ বলে করেছেন ৪২, আর বাকি ১৪৮ বলে ২৩! আরেকটু বিশ্লেষণ করা যাক, মিরপুরে ১ম ইনিংসে ৮ বলে ৮, দুটিই চার কোন সিঙ্গেল নেই। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৩ বলে ১৫, ৩ টি চার, বাকি ৫০ বল থেকে এসেছে ৩ টি সিঙ্গেল।

চট্টগ্রামে ১ম ইনিংসে ৮১ বলে ৩৩, ২ চার, ১ ছয়, ২ ডাবল ও ১৫ সিঙ্গেল। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬ বলে ৯, আবারো দুটি চার ও একটি সিঙ্গেল। যার মানে দাড়ালো এই সিরিজে মোট ১১৭ টি বল ডট দিয়েছেন সৌম্য সরকার। এটি একটা বড় সমস্যা, যেটা টিম ম্যানেজমেন্টেরও চোখে পড়ার কথা।

এখন বলতে পারেন গত সিরিজেই তো টানা ৩ ফিফটি করলেন এই ব্যাটসম্যান, এক সিরিজ খারাপ করতেই তার সমালোচনা শুরু করলাম। জ্বি, ওই টানা তিন ফিফটির পরও তাকে আমি দলে রাখতাম না, কারণ কেউ যদি ওপেন করতে নামে এবং পরপর ৩ ইনিংসের ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রুপ দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাকে নিয়ে কাজ করতে হবে আমার। একইসঙ্গে তার উচিত বসে বসে ডেভিড ওয়ার্নারের ব্যাটিং টিভিতে দেখা, কারণ অন্যপ্রান্তে তামিমকে দেখেও যে শিখতে পারেনা, তার জন্য বড় উদাহরণ হতে পারে ডি ভিলিয়ার্স, ওয়ার্নারদের মতো বিস্ফোরক ব্যাটসম্যানদের টেস্ট ব্যাটিং।

গতকাল থেকে শুনে আসছিলাম বড় রান করতে হবে, অস্ট্রেলিয়াকে বড় টার্গেট দিলে ম্যাচ জিতবো আমরা। কিন্তু সেটা কি আকাশ থেকে! কোন পরিকল্পনা ছাড়াই হবে বড় রান? ১ম ইনিংসেই আপনার ৪ জন বাহাতি ব্যাটসম্যান ডানহাতি লায়নের বলে এলবিডব্লিউ হল, তো ২য় ইনিংসে আপনার পরিকল্পনা কি?

উত্তর হল: কোনো পরিকল্পনা নেই! কারণ পরিকল্পনা যদি থাকতোই আবারো সৌম্য ওপেনিংয়ে নামতো না, দুই উইকেট পড়ার পর হঠাৎ করে নাসিরকে দেখতাম না, মমিনুলকে আটে ব্যাট করতে হতো না। বরং অনায়াসেই তামিম-ইমরুল ওপেনিংয়ের পর সাব্বিরকে নামানো যেত কারণ সে ওপরে ব্যাটিংয়ে অভ্যস্ত।

পরের অর্ডারগুলোও ঠিক থাকতো তাহলে। আর প্রতি ম্যাচে একাদশ পরিবর্তনের মতো ব্যাটিং অর্ডারেও পরইবর্তন খুব ভালো নয়। আবার এ দলের কে কখন ব্যাটিংয়ে নামবে সেটা যেমন অনিশ্চিত, তেমনি কে কোন পজিশনে ফিল্ডিং করবে এটাও অনিশ্চিত। আর এতো অনিশ্চিয়তার মধ্যে থাকা ভালো কথা নয় মোটেও।

– ফেসবুক থেকে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।