শুধু বোলিং নয়, সমস্যা ব্যাটিং-মানসিকতায়ও

আধুনিক ক্রিকেট পুরোটাই ব্যাটসম্যানদের রাজত্ব। ক্রিকেটে ম্যাচে পিচ অনেক বড় একটি ফ্যাক্ট হিসেবে কাজ করে। আর ব্যাটসম্যানদের কথা চিন্তা করে পিচগুলোও করা হয় ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি। ফলে হরহামেশাই দলগুলো ৩০০-এর ওপর রান করে আসছে।

আধুনিক ক্রিকেটের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরাও করেছে উন্নতি। কিন্তু অন্যান্য দল গুলোর মত নিয়মিত ৩০০’র বেশি রানের মাইলফলকটা ঠিক ছুয়ে ওঠা হচ্ছেনা। হরহামেশাই ম্যাচ শেষে আমরা শুনতে পাই এই পিচে আরো ২০-৪০ রান বেশি করার দরকার ছিল। এই ২০-৪০ রানই ম্যাচের ভাগ্যটা পাল্টে দেয় পুরোপুরি।

সমস্যাটা ঠিক কোথায় হচ্ছে তাহলে? অন্যান্য দলগুলোর থেকে আমাদের ব্যাটসম্যানদের ট্যালেন্ট কোনো অংশে কম তো নয় অবশ্যই। প্রতিভার দিক দিয়ে সমস্যাটা না হলেও সমস্যাটা হয়ে গেছে আমাদের শুরু থেকে রান রেটটা হেলদি রেখে ব্যাট করে আসাতে।

পার্শবর্তী দেশ ভারত বলুন বা আজকের ম্যাচের দক্ষিণ আফ্রিকা, আধুনিক ক্রিকেটের পরাশক্তি গুলো ম্যাচের শুরু থেকেই রানরেটের দিকে সতর্ক থেকে ব্যাট করছে। আজকের ম্যাচেটাকে যদি আমরা আদর্শ হিসেবে দেখি তাহলেই অনেকটা স্পষ্ট হবে ব্যাপারটা। দক্ষিণ আফ্রিকা শুরু থেকেই রান রেট রেখেছিল ৬ এর আশেপাশে বা একটু বেশি। ভারত, অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ড সবাই এখন শুরু থেকেই একটা হেলদি রানরেট মেনটেইন করে।

ঠিক এখানেই আমরা অনেকটা পিছিয়ে আছি। আধুনিক ক্রিকেটের ৬ রানরেট মেনটেইন করার যুগে আমরা এখনো সেই পুরোনো চিন্তাধারার ৪.৫ বা ৫ রানরেট মেনটেইন করে রান করি। ৪০ ওভারে আমাদের রান হয়তো ২০০ হয় সেভাবে কিন্তু শেষ দশ ওভারে হিট করতে যেয়ে মাঝেমাঝেই কলাপ্স দেখা যায় দলে।

আর সব সময়ই শেষ দশ ওভারে স্লগ করে ১০০ রান তোলা কোনো দলের পক্ষেই সম্ভব না। কিন্তু এখানে যদি আমরা প্রথম থেকেই ৬ এর মত রানরেট নিয়ে খেলতে থাকি তাহলেই শেষ দশ ওভারে অপ্রয়োজনীয় হিট না করেও তিনশোর্ধ্ব স্কোর দাঁড় করানো সম্ভব।

ওভার প্রতি ছয়ের ওপর রান রেটে ইনিংস কন্টিনিউ করা একেবারেই অসম্ভব নয় আমাদের জন্য। তবে সমস্যা হলো সিঙ্গেল নিয়ে উদাসীনতা। আজকের ম্যাচে হাশিম আমলা আর ডি কক ঠিক এখানেই ম্যাচটা আমাদের থেকে নিয়ে গেছে। বলে বলে রান নিয়ে সচল রেখেছে স্কোর। ভালো বলে সিঙ্গেল নিয়েছে আবার খারাপ বলে পিটিয়েছে।

ওয়ানডেতে তামিমের সর্বোচ্চ স্কোর ১৫৪ রান করার ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ঠিক শুরু থেকেই একটা হেলদি রানরেট মেনটেইন করেছিল বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচে ৩১৮ রান চেজ করে জেতার ম্যাচেও সেই শুরু থেকে হেলদি রানরেট মেনটেইন এর ব্যাপারটা খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন শুরু থেকে ভালো রানরেটের গুরুত্ব।

ঠিক এখানটাতেই বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে আছে বলেই হয়তো আমাদের দল এখনো ৩০০ বা তার বেশি রান করাটা অভ্যাসে পরিণত করতে পারেনি। আর ফলাফল হিসেবে দিন শেষে সেই ২০-৩০-৪০ রানের আক্ষেপ এবং পরাজয়।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।