সব ভুলে কার্টুন দেখার সেই সময়

ছোটবেলায় টিভি চ্যানেল বলতে ছিলো কেবল বিটিভি। বিশেষ করে আমরা যারা নব্বই দশকে বড় হয়েছি। তাদের বিনোদন জগতের অনেক বড় অংশ জুড়ে ছিলো এই চ্যানেলটি।

আজও অসংখ্য চ্যানেল বা বিভিন্ন দেশের মুভি ও টিভি সিরিজ এবং ডকুমেন্টারি ইত্যাদি দেখার পরও যখন বিটিভির কার্টুন অথবা অ্যানিমেশন গুলোর কথা মনে পরে, তখন অন্যরকম একটি অনুভূতি কাজ করে। নস্টালজিক হয়ে যেতে হয়।

আমার মনে হয় নব্বই দশক অথবা এর কাছাকাছি সময়ে (আগে বা পরে) যাদের জন্ম হয়েছে, তাদের শৈশব অথবা কৈশোর কেটেছে এই সকল কার্টুন গুলো দেখে। এর মধ্যে টম অ্যান্ড জেরি কিংবা মিনা কার্টুনের কথা না বললেই নয়।

এর বাদেও যা কিছু ছিল –

গডজিলা

‘গডজিলা’ সম্ভবত দুপুরের দিকে প্রচারিত হতো আর বিভিন্ন ভয়াবহ এবং ভয়ংকর প্রানীদের হাত থেকে গডজিলা মানব সম্প্রদায় কে বাঁচাতো সব সময়।

দ্য জাঙ্গাল বুক

শুত্রবার সকালে বাংলায় ডাবিং করে প্রচারিত হতো এটি। এর আরেকটি নাম আছে, ‘মোগলি’। শুরুর বাংলা থিম গানটি অনেক খুজেছি। তবে পাই নি। গানের কথা গুলো ছিলো এই রকম, ‘জঙ্গলে ভোর হলো, আজ নতুন প্রভাত এলো। খুশিতে ভরে গেলো সারাক্ষণ!’ তবে ইউটিউব এ হিন্দিটা আছে, বাংলাটা নেই।

ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট

পাঁচজনের আংটি এক সাথে করলে, ‘ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট’-এর আগমণ হতো। আর বিভিন্ন প্রতিকূলতায় ‘ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট’’ সবাইকে সাহায্য করতো।

জুমানজি

লুডু টাইপের একটি গেম খেলার মাধ্যমে, একেকদিন একেকটা জায়গায় চলে যেতো পিটার ও জুডি এবং তারা বিভিন্ন রকম সমস্যার সম্মুখীন হতো। তাদেরকে বিপদ থেকে রক্ষা করতো তখন এলেন রবার্ট নামের একজন দাড়িওয়ালা মানুষ।

উডি উডপেকার

টম এন্ড জেরি ছাড়াও সে সকল কার্টুন দেখে অনেক হেসেছি তার মধ্যে এটা অন্যতম। তার সেই ঐতিহাসিক হাসিটি শুনতে চাইলে ইউটিউবে সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন।

পাপাই দ্য সেইলর ম্যান

এই কার্টুনটি প্রথম দেখেছিলাম একুশে টিভিতে। তখন এই চ্যানেলটি বিটিভির মতো ডিস ছাড়া ফ্রিতে অর্থাৎ বিনামূল্য এ দেখা যেতো। আর, ‘স্পিনাচ’ জিনিসটা যে কি, সেটা সেই সময় বুঝতাম না। পরে জানলাম যে, এটা পালং শাক ছাড়া অন্য আর কিছু না।

বাগস বানি

এই কার্টুনটিও অনেক পছন্দের ছিলো। তার মুখে সব সময়ে একটা গাজর থাকতো। আর মজার মজার সব কান্ড করতো। আপনারা দেখতে চাইলে দেখতে পারেন কার্টুন সিরিজটি। ইউটিউবে গিয়ে এই নামে সার্চ দিলে, প্রায় সব পর্ব পেয়ে যাবেন এটার।

ক্যাসপার

এই কার্টুনটি মনে হয় একুশে টিভিতে দেখতাম। সন্ধ্যার সময়। ক্যাসপার একটা বাচ্চা ভুত। সে অন্য সব ভুতদের মতো মানুষকে ভয় দেখাতে পছন্দ করে না। বরং সে মানুষদের বন্ধু হতে চায়।

জনি কোয়েস্ট

এটা বিটিভিতে শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটায় দেখানো হতো আর এ্যাডভেঞ্চার টাইপের কার্টুন ছিলো এটি। টানটান উত্তেজনা অনুভব করার মতো কার্টুন ছিলো এটা।

ঘোস্টবাস্টার

মূলত ভুত ধরা নিয়ে নির্মিত এই সিরিজ কার্টুনটি। এটাও শুক্রবার সকালে বিটিভিতে প্রচারিত হতো এবং এখানে এদের বিশেষ অস্ত্র দ্বারা তারা ভুতকে বন্দী বা জব্দ করে রাখতে পারতো।

বার্নি অ্যান্ড ফ্রেন্ডস

এই সিরিজটা বিটিভিতে দেখাতো। এখানে ছিল ডায়নোসন। এটা ছিলো শিক্ষামূলক একটি অনুষ্ঠান। পারস্পারিক বন্ধুত্ব আর পরিবারের সবাইকে ভালোবাসা নিয়ে কাহিনী।

ব্যাক টু দ্য ফিউচার

টাইম মেশিনের কাহিনী নিয়ে। উড়ন্ত টাইম মেশিন সংযুক্ত গাড়ি নিয়ে অভিযান। মনে আসতে এখনো শরীরের লোম খাড়া হয়ে যায়।

সামুরাই এক্স

জাপানি অ্যানিম সিরিজ। বিটিভিতে সম্ভবত রাত দশটার ইংরেজি সংবাদের পরে সামুরাই টিভি সিরিজ হতো। অথবা প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেলেও হতো। এর শুরুর গানটা অনেক জটিল ছিলো আর সামুরাইয়ের তলোয়াড়ের কারসাজি আর কুংফু ভালো লাগতো।

বায়োনিক সিক্স

অ্যাকশনে ভরপুর। ছয়জন হিরো আছে এতে আর তাদের ছয়রকমের শক্তি। তারা একসাথে নানা রকমের বিপদ থেকে বারবার পৃথিবীকে রক্ষা করতো এবং নানা ধরনের শত্রুকে শেষ করতো।

ব্যানানাস ইন পাজামাস

দুই ভাই বি ওয়ান বি টু। এই কার্টুনটি প্রতি রোববার বিকেলে বিটিভিতে প্রচারিত হতো। এখানে বি-১ এবং বি-২ মিলে নানা রকম মজার সব কাজকর্ম করতো। তারা যখন দুইজন মিলে একসাথে কোন ডিসিশন এ আসতো তখন – ‘ঢু-উ-উ’ করে একটা শব্দ হতো সম্ভবত। সম্ভবত ওই শব্দটার জন্যই দেখতে বসতাম।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।