বছরের সবচেয়ে এন্টারটেইনিং থ্রিল রাইড

বেবি ড্রাইভার শুধু আপনার দুই চোখকেই প্রশান্তি দিবে না, দুই কানকেও শান্তি দিবে।

বেবি ড্রাইভার কে ঠিক কোন ধারায় ফেলা যায়? এই প্রশ্ন করাটা সহজ, তবে উত্তর দেয়াটা অসাধারণভাবে কঠিন করে ফেলেছেন ব্রিটিশ পরিচালক এডগার রাইট। এডগার রাইট মূলত তার ‘থ্রি ফ্লেভোরস করনেট্টো ফিল্ম ট্রিলজি’র জন্য পরিচিত। মাঝে অ্যান্ট-ম্যান বানানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ক্রিয়েটিভ ডিফারেন্সের জন্য একেবারে শেষ মোমেন্টে সরে আসেন এবং দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা থেকে বেবি ড্রাইভার বানান।

তো যা বলছিলাম, বেবি ড্রাইভার কে কোন ধারায় ফেলা যায়? ক্রাইম থ্রিলার/ অ্যাকশন থ্রিলার/ হেইস্ট থ্রিলার – ডেফিনেটলি। সাথে কেউ যদি একটু জোর করে দাবী করে বসে তাতে খুব বেশি আপত্তি করা যাবে না। কারণ, এডগার রাইট নিজেই বেবি ড্রাইভারকে ‘কাইন্ড অব লাইক মিউজিক্যাল’ আখ্যা দিয়েছেন। বেবি ড্রাইভার সম্পর্কে কিছু মুভি ক্রিটিকের মন্তব্য দিয়ে দিচ্ছি।

‘এডগার রাইটের বেবি ড্রাইভার এই বছর এমনকি এই দশক কিংবা শতকের সবচেয়ে এন্টারটেইনিং থ্রিল রাইড।’

– রিচার্ড রোপার

‘রাইটের সর্বশেষ সিনেমা বেবিরাইটার এতটাই রেয়ার একটা সৃষ্টি যে সেটা আমারো লোম খাড়া করে দিয়েছে। প্রায়ই অভিযোগ করি যে হলিউডে এমন কাজ হয় না। এটা সত্যি এক সত্যিকারের মৌলিক সৃষ্টি।’

– লুক বাকমাস্টার

মুভির কাস্টিং চমৎকার। কেন্দ্রীয় চরিত্রে এন্সেল এলগোর্ট আছেন। তবে, সাপোর্টিং কাস্টে কেভিন স্পেসি, জন হ্যাম, জেমি ফক্স, লিলি জেমস, এইজা গঞ্জালেজ এবং জন ব্যার্ন্থাল। মজার ব্যাপার হচ্ছে সাপোর্টিং কাস্টদের অনেককেই টিভি সিরিজের কিছু ক্যারেক্টারে আগে থেকেই ভালো লাগে।

কেভিন স্পেসি (হাউজ অব কার্ডস)। কেভিন স্পেসি অনেক আগে থেকেই জনপ্রিয় তার কিছু মুভির জন্য। তবে ইদানিং হাউজ অব কার্ডস তাকে অনেক বড় একটা ফ্যানবেজ দিয়েছে।

জন ব্যার্ন্থাল (দ্য ওয়াকিং ডেড, ডেয়ারডেভিল, এছাড়াও সামনে পানিশার এবং ডিফেন্ডার্স আসছে)। দ্য ওয়াকিং ডেড দিয়েই অনেকের নজরে আসেন তিনি। তবে, হালের পানিশার চরিত্র তাকে অন্য এক মাত্রা দিয়েছে।

জন হ্যাম (ম্যাড মেন, ব্ল্যাক মিরর)। জন হ্যাম আর ম্যাড মেন যেনো একসূত্রে গাঁথা। তাছাড়া, ব্ল্যাক মিরর এর সম্ভবত সেরা এপিসোডের প্রাণ ও তিনি।

বেবি চরিত্রে এন্সেল ছিলো পারফেক্ট। ক্রাইম বস ‘ডক’ চরিত্রে কেভিন স্পেসির পারফরম্যান্স ছিলো অনেকটা ফ্রাঙ্ক আন্ডারউড এর কমেডিক ভার্শন। তবে, বেবি ছাড়াও মুভির লাইমলাইট নিজেদের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন ‘বাডি’ চরিত্রে অভিনয় করা জন হ্যাম এবং ‘ব্যাটস’ চরিত্রের জেমি ফক্স। নারী চরিত্রদের তেমন করার কিছু কিছু না। তবুও ‘ডারলিং’ এইজা গঞ্জালেজ এবং ‘ডেবরা’ লিলি জেমস স্ক্রিনে চোখ রাখতে বাধ্য করছিলেন ।

বেবি ড্রাইভারের অন্যতম একটা গুণ হচ্ছে এক সেকেন্ডের জন্য ও পরিচালক ভিউয়ার্সদের বোর ফীল করার সুযোগ দেননি। সাধারণত মুভিতে প্রবেশ করতে ৩-৪ মিনিট লেগে যায়। বেবি ড্রাইভারে চোখ আটকাতে ৯-১০ সেকেন্ড ই এনাফ (যদিও চাইলে একেবারে প্রথম সেকেন্ড থেকেই কাউন্ট করা যায়)।

মুভির পরিচালনা, অভিনয় এর চাইতেও এগিয়ে রাখবো মিউজিককে। মুভির প্রথম দৃশ্যই শুরু হয়েছে ‘বেলবটমস’ দিয়ে। এই গানটি এডগার রাইট অনেক আগে থেকেই তার মুভিতে কার চেজিং দৃশ্যে রাখতে চেয়েছিলেন। তার স্বপ্ন এই মুভিতে তো পূরণ করেছেনই, যারা মুভিটা দেখেছে তাদের মাথাতেও প্রথম ৫ মিনিট ঢুকিয়ে দিয়েছেন এই গানের এবং গানের সাথে মুভির দৃশ্যগুলার মাধ্যমে।

মুভিতে যেসব মিউজিক ব্যবহার করেছেন তাতে বলতেই হয় নির্মাতাদের মিউজিক সেন্স অসাধারণ। মুভির উইকি পেইজে মুভিতে ইউজড ৩০ টা ট্র্যাক এর নাম দেওয়া আছে। মুভি দেখার পরে এইগুলা মাথা থেকে যাবেই না !

এই বছরের অন্যতম সেরা মুভি হিসেবে ধরা হচ্ছে বেবি ড্রাইভারকে। রোটেন টম্যেটোস এও ৯৫% ফ্রেশ। ২৫৫ রিভিউর মাঝে ফ্রেশ ২৪১! রেটিংও ৮ এর উপরে (৮.২)।

হয়ত ১৫-২০ বছর পরে কাল্ট ক্ল্যাসিকে পরিণিত হতে পারে বেবি ড্রাইভার, আবার নাও হতে পারে। সেটা ভবিষ্যৎ এর উপরে ছেড়ে দেওয়াই ভালো। তবে, চারিদিক থেকে এত পজেটিভ ফিডব্যাক পেয়ে ইতিমধ্যে পরিচালক এর সিক্যুয়েল নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।