নকল স্মার্টফোন যেভাবে সনাক্ত করবেন

বিশ্বখ্যাত স্মার্টফোনগুলো এমন ভাবে ‘কপি’ করে হুবহু একই রকম দেখতে নিম্নমানের গ্যাজেট বাজারে ছেড়ে দেওয়া হয় যে আসল-নকলের তফাৎ করা মুশকিল। তবুও, নকলবাজরা ছোটখাটো ভুল করে ফেলেন। আর সেই ভুলগুলো থেকেই চাইলে আপনি নকল গ্যাজেট সনাক্ত করতে পারেন।

প্যাকেজিং

নকল স্মার্টফোন নির্মাতারা অনেক সময়ই প্যাকেজিংয়ের বিষয়টা আমলেই নেয় না। তবে, আইফোন কিংবা স্যামসংয়ের সত্যিকারের নির্মাতাদের প্যাকেজিং হয় একেবারেই নিখুঁত।

কেনার আগে প্যাকেজিংটা ভাল করে দেখবেন।। প্রিন্ট কোয়ালিটি, যে প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো তার কোয়ালিটি পরখ করুন। সত্যিকারের ম্যানুফ্যাকচারাররা কখনোই পরিবহনের সময় প্যাকেজিংয়ের কোনো ক্ষতি হতে দেয় না। প্যাকেটের প্রতিটা কোণ দেখুন। বাঁকানো মনে হলে বা কোনো সন্দেহ হলে কেনা থেকে বিরত থাকুন।

ইউজার ম্যানুয়াল

ইউজার ম্যানুয়াল হল যেকোনো স্মার্টফোনের পাসওয়ার্ট। ইউজার ম্যানুয়ালে পণ্যটি  যে দেশে বিক্রি হচ্ছে সেখানকার ভাষায় পণ্যটির ব্যাপারে সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সেখানে লেখা থাকে। যদি, ভিন্ন কোনো ভাষায় লেখা থাকে, তাহলে বুঝবেন সেটা আসল নয়।

কাঁচামাল

স্মার্টফোনের কাঁচামাল, মানে কি দিয়ে বানানো হয়েছে সেটা পরখ করুন। প্লাস্টিক, রাবার না অ্যালুমিনিয়াম, তার কোয়ালিটি কেমন যাচাই করে নিন। প্লাস্টিক নিয়ে নির্মিত হল বহির্ভাগটা মসৃন কি না দেখুন, এসব গ্যাজেট সাধারণত নিখুঁত হয়। নকল গ্যাজেটের ক্ষেত্রে সস্তা প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়, ফলে বহির্ভাগটা সমতল থাকে না, উঁচু-নিচু হয়ে যায়।

লোগোর ফন্ট

যে প্রতিষ্ঠানের স্মার্টফোন (যেমন, অ্যাপেল বা স্যামসং) তাদের লোগোটা ভাল ভাবে দেখে নিন। লোগোর ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানগুলো খুবই সচেতন। লোগোর ফন্ট, তার মসৃনতা দেখুন। একটু এদিক-সেদিক মনে হলেই বুঝবেন গোলমাল আছে।

চার্জার

চার্জারটি আপনার দেশের সাথে মানিয়ে নিতে পারবে কি না লক্ষ্য করুন। যেমন ইউরোপের সকেটের জন্য চার্জারগুলোতে বিশেষ একটা ‘ব্লক’ থাকে। যদি, আপনাকে কোনো অ্যাডাপটার বা আলাদা চার্জার কিনতে বলা হয় তাহলে সেটাই আপনার জন্য নকল স্মার্টফোন চেনার সংকেত।

ব্র্যান্ডের চার্জারগুলো কখনোই রঙিণ হয় না। আর ব্র্যান্ডগুলো নিজেরাই আপনার ফোনের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। মেটাল কিংবা প্লাস্টিক – সব দিক থেকেই তাদের নির্মান হয় নিখুঁত।

ডাটা কেবল

কেনার আগে কেবল ওয়ারের কোয়ালিটি দেখে নেবেন। নকল স্মার্ট ফোনে অনেক সময় প্লাগগুলো তুলনামূলক লম্বা হয়। ব্র্যান্ডের ডাটা কেবল গুলো সহজেই ফোনের সাথে কানেক্ট হয়। নকল ফোনে সেটায় একটু জোরে চাপ দিতে হয়। শুধু তাই নয়, কেবলের ওপরে খোদাই করা নানা রকম প্রতীকগুলোর দিকে চোখ রাখুন।

– গিগগ্যাগ.কম অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।